You are here: Home / পেট / বাজরিগার ব্রিডিং ফ্যাক্টর: পর্ব ১

বাজরিগার ব্রিডিং ফ্যাক্টর: পর্ব ১

বাজরিগার ব্রিডিং

আপনার বাজরিগার ব্রীড করছে না ??

আসুন চেক করে নেই নিচের ফ্যাক্টর গুলোঃ

১/ বয়সঃ বাজরিগারের বয়স ৮মাস+  হওয়ার আগে তাকে ব্রিড করাবেন না।আমার বাজরিগার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে আমি দেখছি , বাইরে থেকে কেনা ৪-৫ মাসের বাচ্চাকে ৮ মাসের আগে ব্রিড করালে ডিম ভেঙ্গে/খেয়ে ফেলে। কিন্তু আমার ঘরের বাজিগারের বাচ্চা ৭ মাসে ব্রিড করেও ৫ টা ডিম থেকে ৫ টা বাচ্চাই সফল ভাবে বড় করেছে। আমি মনে করি এটা আমার বাসার পরিবেশের সাথে তাদের জন্ম থেকে পরিচয়ের কারণে সম্ভবপর হয়েছে।

২/ ব্রিডিং মুডঃ ব্রিডিং মুডে থাকলে ফিমেলের নাক খয়েরি ও মেলদের নাক নীল বর্ণ ধারণ করে। অনেক সময় বয়স হওয়ার আগেই (৪ মাসে)  ফিমেলের নাক খয়েরি হয়ে যায়। তাকে তখন ব্রিড করানো যাবে না। করলে এগ-বাইন্ডিং হবে। তবে আমার মতে, ব্রিডিং মুডের ধারণা সব সময়ে কার্যকর না ও হতে পারে। আমার একটা ফিমেল ছিল যাকে আমি “বাঘিনী” বলতাম। তাকে কখনই আমি ব্রিডিং মুডে দেখিনাই। কিন্তু সে কখনোই ৬-৭টার নিচে বাচ্চা দিতো না।

৩/ সুস্থতাঃ

A.  চঞ্চল হবে , ঝিম ধরে বসে থাকবে না। ডাকাডাকি করবে , উড়াউড়ি করবে। মাথা ঝাকিয়ে সঙ্গীকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করবে।

B. পায়খানা সবুজ রঙের হবে না। সিড এর রঙের বা হাল্কা বাদামি রঙের হবে ।

C. পায়ুপথে পায়খানা লেগে থাকবে না।

D. চোখ , ঠোঁট পরিষ্কার হবে। ময়লা লেগে থাকবে না।

E.  হাঁপাবে না ,হা করে নিঃশ্বাস নেবে না , লেজ ওঠানামা করবে না।(কিন্তু ফিমেলের পেটে ডিম থাকলে হাঁপায় ও নিঃশ্বাস নেয়ার সময় লেজ উঠানামা করে)

F.  পায়ে ৪ টা করে আঙ্গুল , প্রত্যেক আঙ্গুলে নখ থাকবে ।

G.  পালক সুবিন্যস্ত থাকবে। মাথায় বা অন্য কোথাও পালক ছেঁড়া থাকবে না।

H.  শরীরে কোথাও জখম বা কাটা ছেঁড়া থাকবে না।

I. লেজের পালক যথেষ্ট লম্বা থাকবে ।

J. খাবার , খেলনা , সবুজ শাক সবজির প্রতি আকৃষ্ট হলে পাখির সুস্থতা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

8/ পেয়ারঃ বাজরিগার ব্রিড করার আগে পেয়ার করে বা জোড়া মিলে। পেয়ার নিলে তারা একে অন্যকে খাইয়ে দেয় , মাথা চুলকিয়ে দেয় , পাশাপাশি থাকে।

৫/ নতুন পরিবেশের সাথে খাপ-খাওয়ানোঃ আজকে এক জোড়া বাজি কিনে কালকেই তাদের কাছ থেকে ব্রিডিং আশা করা ঠিক না। বাজরিগার নতুন পরিবেশে গিয়ে সেই পরিবেশ চিনতে থাকে এবং সেই পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হতে সময় নেয়। ডিম পারার আগে ফিমেল গুলো খাচা ও হাড়ির আশেপাশে ঘুরে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝে নেয়।

৬/ নিরিবিলি পরিবেশঃ বাজরিগার ব্রিডিং এর পরিবেশ নিরিবিলি ও কোলাহল মুক্ত হলে ভাল হয়।বাসায় মানুষের চলাচলের রাস্তায় (করিডোরে) বাজরিগারের খাঁচা না রাখাই ভালো। সাধারনত রাস্তার পাশে যদি বাজরিগারের খাঁচা রাখার জায়গা হয় তবে ব্রিডিং এ কিছু অসুবিধা হয় । কারণ রাতে যানবাহন চলার শব্দে তারা হঠাৎ ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে ।

৭/ রেডিয়েশন মুক্ত পরিবেশঃ মোবাইল টাওয়ার বা অন্যান্য স্থাপনা যেগুলো থেকে রেডিয়েশন ছড়ায় সেগুলোর কাছাকাছি যেকোনো পাখির ব্রিডিং এর জায়গা না রাখাই ভালো । উচ্চ ফ্রিকয়েন্সির রেডিয়েশন পাখির (বিশেষত ছোট পাখির) ব্রিডিং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকারক ।

৮/ অন্যান্য বাজরিগারের উপস্থিতিঃ বাজরিগার একা থাকতে পছন্দ করে না। আশেপাশে যদি ২-৩ পেয়ার বাজরিগার থাকে তাহলে তারা ব্রিডিং এ বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
By Enigmatic Pendulum                                                                                                                                                                                                                                                চলবে ………

 

Leave a Reply

Scroll To Top