You are here: Home / ফিচার / অপার সম্ভাবনাময় শিল্প অর্কিড

অপার সম্ভাবনাময় শিল্প অর্কিড

অর্কিড

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে অর্কিড । কারণ বাংলাদেশের আবহাওয়া অর্কিড চাষের খুবই অনুকূল । অর্কিড সৌখিন ফুল হিসেবে বিবেচিত আর এর বাজার মূল্যও অত্যাধিক। বর্তমান বিশ্বেও অর্কিড ফুলের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। আমাদের দেশেও এর চাহিদা কম নেই। এর প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করে পূরণ করা হয়। এটি বেশ লাভজনক শিল্প আর তাই বানিজ্যিক ভাবে চাষ করে এর থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বাহারি অর্কিড

 

 

 

 

অর্কিড ফুল মূলত অসম্ভব সুন্দর বর্ণের জন্য বিখ্যাত । বর্তমানে অর্কিড দিয়ে উন্নতমানের রং এবং ঔষধ তৈরির জন্য ব্যাপক গবেষণা চালানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত মুল্যবান। এর ফলে ভবিষ্যতে অর্কিডের চাহিদা যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। অর্কিড বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে বাংলাদশের আবহাওয়া অর্কিড চাষের জন্য খুবই উপযোগি বিশেষ করে সিলেট, চিটাগাং এবং শেরপুরের গজনী, এসব এলাকায় বানিজ্যক ভাবে অর্কিড চাষ করা সম্ভব ।

নান্দনিক অর্কিড

 

বাংলাদেশ অর্কিড সোসাইটি দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলাদেশে অর্কিডের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য কাজ করছে । আজকাল অনেক সৌখিন ফুল প্রেমীরা বারান্দায়, ছাদে কিংবা বাগানে শোভাবর্ধনের জন্য অর্কিড চাষ করছেন। এটা আমাদের দেশে অর্কিডের সম্ভাবনাকে আরো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যেগ পারে এই শিল্পটিকে রপ্তানির অন্যতম প্রধান খাত করতে।

দারুণ সুন্দর অর্কিড

 

 

এই পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০০ প্রজাতির অর্কিড ফুল আছে। কোন অর্কিডের দাম কতটা বেশি হবে তা তার দুস্প্রাপ্যতার উপরে নির্ভর করে। এর দামের পরিধি ৫০-২০০০ টাকা পর্যন্ত, তা বলে এটি কিন্তু  সর্বচ্চ দামের অর্কিড নয়। এমনকি ৫০০০০ টাকা মুল্যমানেরও অর্কিডও আছে আমাদের দেশে।

জমিতে অন্যান্য ফুল বা ফসলের পরিবর্তে যদি অর্কিড চাষ করা হয় নিঃসধেহে এর লাভ সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যাবে। একবার অর্কিড গাছ লাগানো হলে ২-১৫ বছর পর্যন্ত জিবিত থাকতে পারে। অর্কিড গাছ লম্বায় ৩ ফুট থেকে ৭/৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। একই জমিতে অনেক দিন অর্কিড ফুলের চাষ করা যায়।

দুর্লভ অর্কিড

প্রখর তাপে অর্কিড ভালো হয়না। ছায়াযুক্ত কিছুটা স্যাতস্যতে জমি অর্কিড চাষের জন্য উপযোগি। শীতের সময় অর্কিড ভালো হয়না। বানিজ্যিক ভিত্তিতে অর্কিড চাষ করতে হলে, নেট দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ৪০ থেকে ৬০ ভাগ সূর্যালোকের ব্যাবস্থা তাতে থাকে। এতে অর্কিডের উৎপাদন আশানুরুপ হবে।

হাসিনা দউলা এক বিশিষ্ট ভদ্র মহিলা বাংলাদেশে অর্কিড চাষের পথিকৃৎ । তিনি সম্পূর্ণ শখের বশে ১৯৯৬ সালে সবামির সাথে মালইয়শিয়া বেরাতে গিয়ে সেখানে পুস্পা মেলা থেকে সুতকেস ভরে নিয়ে আসেন অর্কিডের চারা। আর সেখান থেকেই বাংলাদেশে অর্কিডের যাত্রা শুরু। সাভার কুটুরিয়াতে প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলেন অর্কিডের বাগান। তার এ বাগানে ৪ লাখের বেশি অর্কিডের চারা আর ২০ হাজার প্রাজাতির অন্যান্য ফুল রয়েছে। অর্কিডের চাষ করলে হেকটর প্রতি প্রায় ৮ হাজার ফুল, ২য় বছরে ১৫ হাজার, ৩য় বছরে ২৫ হাজার ফুল উৎপাদন হয়।

Leave a Reply

Scroll To Top