You are here: Home / পার্থিব / করোনারি হৃদরোগ এবং এর ঘরোয়া প্রতিকার

করোনারি হৃদরোগ এবং এর ঘরোয়া প্রতিকার

হৃদরোগ কথাটা শুনলেই আমাদের মনে পড়ে হার্ট এ্যাটাক করার কথা, যাদের হৃদরোগ রয়েছে তারাতো রীতিমতো স্প্রে পকেটে নিয়ে চলাফেরা করেন এই বুঝি হার্ট এ্যাটাক হবে। ডাক্তারের ভাষায় যাকে বলে coronary heart(artery) diseaseবা Ischemic Heart Disease(IHD) বা cardivascular diseases । সহজ ভাষায় যদি বলি এটা হল এমন একটি অবস্থা যখন হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন ক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটে।

  • রক্তে কোলেস্টেরল এর পরিমান বেড়ে গেলে তা ধমনীর গায়ে জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলের রাস্তা চিকন বা বন্ধ করে ফেলে।
  • যেটা হৃদপিণ্ডের পেশীতন্ত্রে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যেটা হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্যে খুবই গুরুত্তপূর্ণ।
  • এক সময় হৃদপিণ্ডের একটা অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, এতে করে ওই অংশের টিস্যুগুলোও মারা যায়।
  • coronary heart(artery) diseaseএর কারনে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে প্রচুর লোক মারা যায়।

heart_coronary_artery

 

কি কি কারনে হৃদরোগ হয়ঃ

  • প্রধান এবং অন্যতম কারন হল ধূমপান, ডায়াবেটিস এবং মেলিটাস ও কোলেস্টেরল এর মাত্রা
  • উচ্চমাত্রায় দুশ্চিন্তা
  • জেনেটিক এবং বংশগত কারনেও এই রোগ হয়
  • পুরুষদের এই রোগের প্রবণতা সবচেয়ে বেশী

যে সব কারনে আপনারো হার্ট এ্যাটাকের ঝূকি থাকতে পারেঃ

  • উচ্চমাত্রায় রক্তচাপ
  • ডায়াবেটিস
  • ধূমপান
  • অতিমাত্রায় তৈলাক্ত খাবার
  • স্থূলতা
  • উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল

লক্ষন ও উপসর্গঃ

  • তীব্র বুকে ব্যথা হয়
  • বেশীরভাগ রোগীদের কণ্ঠনালীর প্রদাহ হয়
  • কণ্ঠনালীর প্রদাহের উপসর্গ হল বুকের মাঝখানে ব্যাথা বা কখনো কখনো বাম হাতের শিরায় ব্যাথা বা চোয়ালে কিংবা পিঠে ব্যাথা
  • কাশি
  • ক্লান্তি, দুর্বলতা ও নির্জীবতা
  • মনোযোগ ও সচেতনতা কমে যাওয়া
  • পস্রাব কমে যাওয়া
  • রাতে বেশী পস্রাব হওয়া
  • শরীর ফুলে যাওয়া
  • শোয়া অবস্থায় শ্বাস-প্রশ্বাসে বেশী কষ্ট হওয়া

করনারি হৃদরোগ

ঘরোয়া প্রতিকারঃ রসুনঃ  রসুন আপনার হৃৎপিণ্ডে করোনারি হৃদরোগের প্রবনতা কমাবে, এছাড়াও যে কোন হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। আপনি প্রতিদিন খাবারের সাথে কিছুটা রসুন মিশিয়ে নিন, এটাকে অভ্যাসে পরিনত করুন মনে করুণ আপনি একটা সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন। এটি আপনার ধমনীকে পরিষ্কার করবে, ধমনীতে ব্লক হওয়া ও বুকের ব্যাথা থেকে রক্ষা করবে।

রসুন

জাম্বুরাঃ জাম্বুরা কার্ডিওভাস্কুলার হৃদরোগ জনিত প্রবণতা থেকে রক্ষা করবে। এছাড়াও যে কোন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে।

কমলালেবু

মুরগিঃ মুরগির মাংসে ভিটামিন বি-৬ আছে যা আপনার হৃদপিণ্ড কে ভালো রাখবে। প্রতিদিন ৩ আঊন্স মুরগির মাংস  খেলে আপনার ভিটামিন বি-৬ এর চাহিদা পূরণ হবে। মেরিনেট করা মুরগি

সামন মাছঃ যদি আপনি খুব বেশি হৃদরোগ এর ঝুঁকিতে থাকেন তাহলে খাবারে সামন মাছ ই আপনার সঠিক পছন্দ হওয়া উচিত। এতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যেটা  ট্রাইগ্লিসারাইড এর পরিমান কমাতে সাহায্য করে এতে আপনার ধমনিতে ব্লক হওয়ার ঝুঁকি কমে।

গ্রিল

পটাশিয়ামঃ পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং আপনার হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহন করলে করোনারি হৃদরোগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে আলু, সয়াবিন, স্ট্রবেরি, কমলা, বাদাম, এপ্রিকট ও পেস্তা বাদাম অন্যতম।

পটাসিয়ামযুক্ত খাবার

শরীরচর্চাঃ শরীরচর্চার মধ্যে পড়ে এমন কোন কাজ করেন সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ মিনিট শরীরচর্চা করার অভ্যাস করুন। এটা হতে পারে সাইক্লিং, সাতার কাটা, দ্রুত গতিতে হাটা, যোগ ব্যায়াম ইত্যাদি।

যোগ ব্যায়াম

বর্জনীয় বিষয়ঃ

  • ধূমপান এবং  চর্বি জাতীয় খাবার।
  • কলেস্টরলের মাত্রা বেশি এমন খাবার।

বিঃ দ্রঃ ঘরোয়া প্রতিকার আর চিকিৎসা এক জিনিস নয়। যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।   হার্ট এ্যাটাক সম্পর্কে আরো বেশি জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কটি দেখুন। হার্ট এ্যাটাক সম্পর্কিত গুরত্ত্বপুর্ন কিছু তথ্য 

Leave a Reply

Scroll To Top