You are here: Home / পেট / বাজেরিগারের আদর্শ খাবার

বাজেরিগারের আদর্শ খাবার

বাজেরিগারের খাদ্য তালিকায় সেইসব খাবার থাকা উচিত যা সে প্রকৃতিতে খেয়ে থাকে। আপনি এর যত কাছাকাছি যেতে পারেন ততই মঙ্গল। আমি আমার লিখায় বাজেরিগারের জন্য আদর্শ খাদ্য কি কি হতে পারে সে বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

বাজেরিগারের আদর্শ খাবার

শষ্যদানা
বাজেরিগারের খাদ্যের মূল উপাদান হল শষ্যবীজ। নানা ধরনের শষ্যবীজ খেতে দেয়া যায়। শষ্যদানার মিশ্রনে প্রধানত যা যা থাকা দরকার সেগুলো হলঃ ক্যানারি সিড, মিলেট স্প্রে, চিনা, কাউন ও পোলাও চালের ধান ইত্যাদি। শীতের সময় কিছু তৈলবীজ যোগ করা যাতে পারে যেমন সূর্যমুখীর বীজ, তিশি, গুজিতিল ইত্যাদি।

অঙ্কুরিত বীজ
শুকনা বীজের চেয়ে অঙ্কুরিত বীজের খাদ্য উপাদান অনেক বেশি থাকে। আপনি ঘরে বসেই পাখির জন্য অঙ্কুরিত বীজ উতপাদন করতে পারেন।

সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল
অনেকেই অনুধাবন করেন না যে বাজেরিগারের জন্য সবুজ শাকসবজি ও ফলমূলের প্রয়োজনীয়তা কতখানি। বাজেরিগার শুধুমাত্র শুকনা শষ্যদানার উপর বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু এতে করে তাদের আয়ু কমে যায়। শুধুমাত্র শষ্যদানা খাওয়ালে তারা পুষ্টিহীনতা এবং তার সাথে সম্পর্কিত নানান সমস্যায় ভূগতে পারে। যে কারনে তাদেরকে সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ানো একান্ত জরুরী। আপনি বিভিন্ন ধরনের ঘাস, শাকসবজি ও ফলমূল তাদের খাওয়াতে পারেন, যেমন চিনা-কাউনের ঘাস, কলমী শাক, লেটুস পাতা, সজনে পাতা, পালং শাক, ধনিয়া পাতা, গাজর, ব্রকলি, আপেল, কমলা, স্ট্রবেরী, মিষ্টি আলু, কচি ভুট্টা ইতাদি। মনে রাখবেন, পালং শাকে আছে অক্সালিক এসিড যা শরীরের ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তাই এটা খুব অল্প পরিমানে দেয়া যেতে পারে।

ডিম মিশ্রিত খাবার (এগফুড)
বাজেরিগারের শরীরের জন্য প্রোটিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিয়মিত ভাবে সপ্তাহে ২ দিন ডিম মিশ্রিত খাবার খেতে দিন। ডিম সিদ্ধ করে তার সাথে আপনি বিভিন্ন রকমের শাকসবজি মিশিয়ে নিতে পারেন। তাহলে আপনার পাখিদের জন্য তৈরী হয়ে যাবে একটি আদর্শ খাবার।
অন্যান্য-

এ্যাপল সিডার ভিনেগারঃ এটি অনেক কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক এ্যান্টিবায়োটিক ও রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারক। প্রতিমাসে টানা ৩-৪ দিন এর মিশ্রনের পানি খাওয়ানো উচিত।

ক্যাটলফিস বোনঃ এটা ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস। পাখির খাঁচায় সারা বছর এটা থাকা উচিত। মিনারেল ব্লকঃ ক্যাটলফিস বোনের পাশাপাশি মিনারেল ব্লক রাখতে পারেন। এতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি আরো দরকারী খনিজ উপাদান রয়েছে।

ভিটামিন সাপ্লিমেন্টঃ এগুলো সাধারনত পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার পাখিদের সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার প্রদান করেন তাহলে কোনরূপ ভিটামিনের প্রয়োজন হবে না। আর যদি একান্তই প্রয়োজন অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। দোকানিদের কথায় কোন ভিটামিন খাওয়াবেন না।

যেসব খাবার কখনোই খাওয়াবেন না:
এ্যাভোকাডো, ফলের বীজ, কাঁচা বিন, মাশরুম, টমাটো গাছের পাতা, চকলেট, রেউচিনি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, পিঁয়াজ, লবনাক্ত খাবার, চিনি, কফি, সোডা, এ্যাল্কোহল বা যে কোন ধরনের পানীয়।

 

 

By Melopsittacus Deepu

Leave a Reply

Scroll To Top