You are here: Home / পেট / পাখির এগ বাইন্ডিং

পাখির এগ বাইন্ডিং

পাখির এগ বাইন্ডিং

হাড়িতে ডিম দেখলেই যে কোন পাখি প্রেমিকের মনটা নেচে উঠে । কিন্তু এই কাঙ্খিত ডিমটা দিতে গিয়ে পাখি যে কত ভয়াবহ বেদনাদায়ক সমস্যায় পড়তে পারে যার তা আমরা জানি না। যার জন্য অর্থাৎ এগ বাইন্ডিং এর জন্যে বেচারী নিরীহ পাখিটা নিজে দায়ী না । এর জন্য দায়ী আমরা যারা পাখি পালী তারা। যারা পাখির শরীরের কথা ভাবি না শুধু ডিম আর ডিম চাই। বিশ্রাম দেই না মাসের পর মাস শুধু ব্রিডিং করাই। আমাদের দোষে একটা নিরীহ পাখি কষ্ট পাবে, এটাতো ঠিক না । তাহলে জানতে হবে কেন এই আজব রোগটা হয়, কী তার প্রতিকার ।
পাখি কিভাবে ডিম পাড়েঃ  
তার আগে জানি একটা স্বাভাবিক ডিম কিভাবে আমরা পাই । মেয়ে পাখি প্রাপ্তবয়স্ক হলে ডিমের থলিতে কুসুম তৈরী হয় । পাখিটা যদি শারীরিকভাবে সুগঠিত হয় তবে ডিমের থলি থেকে কুসুম জরায়ুতে আসার পর ২১ঘন্টায় একে একে সাদা অংশ, আবরন ও খোসা তৈরী হবে । এরপর জরায়ুর পেশী ডিমের উপর দিকে চাপ দিবে , জরায়ুর দেয়ালে পিচ্ছিল পদার্থ বের হবে এবং ২টা পিউবিক বোন্ ও ভেন্ট রিলাক্স হবে । এই পুরা প্রক্রিয়ায় প্রচুর ক্যালসিয়াম দরকার, বিশেষ করে খোসা তৈরী ও পেশী সংকোচনের জন্য । আর অনেকগুলা ডিম পারতে হলে ভাবেন একবার । এত ক্যালসিয়াম বেচারা জন্মকয়েদী পাখি পাবে কই?

এগ বাইন্ডিং কি ? 
বিভিন্ন সময় পাখির পেটের ভেতরে ডিম আঁটকে যায়, তখন পাখি আর ডিম পাড়তে পারে না। এ অবস্থাকে এগ বাইন্ডিং বলে।
কেন হয়?
এগ বাইন্ডিং অনেক কারণে হতে পারে,
(১) কম বয়সে পাখিকে ব্রিড করালে অর্থাৎ পাখির বয়স কম হলে ২টা পিউবিক বোন্ একসাথে চাপা থাকে, যার মধ্যে দিয়ে ডিম আসতে পারে না ।
(২) ডিমের আকৃতি বড় হলে।
(৩) পাখির শরীরে ক্যালসিয়াম এর অভাব থাকলে, পেশী ডিমের উপর যথেষ্ট চাপ দিতে পারে না।
(৪) খোসা পাতলা হলে বা চামডিম হলে ডিমের উপর পেশীর চাপ পড়ে না ।
(৫) ডিম পাড়ার সময় পাখিকে বিরক্ত করলে ডিম পাড়া সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভেন্টের পিচ্ছিল অংশ শুকিয়ে যায় । ফলে ডিম আটকে যায় ।
(৬) পাখির শরীরে পুষ্টির অভাব থাকলে,পাখি দূর্বল হলে ।
(৭) পাখির খাঁচা ছোট হলে এক্সারসাইজ কম হয়, পাখির শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে, পাখি দূর্বল হয় ।

পাখির এগ বাইন্ডিং

এগ বাইন্ডিং এর লক্ষণঃ
অনেক সময় পাখির পেট ফুলে থাকলে অনেকে ধারণা করেন যে পাখির এগ বাইন্ডিং হয়েছে। এরকম ধারণা করা ১০০% ভুল। এগ বাইন্ডিং হতে পারে তখন, যখন আপনি পাখির কাছ থেকে ডিম পাড়বে এটা আশা করবেন, অথবা ব্রিডিং এ দিবেন অথবা ব্রিড করার আশা আছে।
(১) যখন এগ বাইন্ডিং হবে তখন পাখি খাঁচার এক কোনে এসে বসে থাকবে।
(২) কিছু খায় না নড়া চড়া করে না।
(৩) হাঁড়িতে যদি আগের ডিম পাড়া থাকে সেগুলোতেও তা দিবে না।
তাই পেট ফুলে থাকলেই যে তার এগ বাইন্ডিং হয়েছে এই রকম কোন ধারণা করা যাবে না , কারণ তার পেট এ টিউমারও হতে পারে।

পাখির এগ বাইন্ডিং
এগ বাইন্ডিং হলে করণীয়?

অনেকেই এগ বাইন্ডিং এর অনেক সমাধান দিয়ে থাকেন কিন্তু প্রকৃত কথা হচ্ছে এগ বাইন্ডিং এর তেমন কোন সমাধান নেই। একবার যদি হয় তবে পাখির বাঁচার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে এগ বাইন্ডিং হওয়া ফিমেলের জীবন বাঁচানো যায় না। কিন্তু তারপরও চেষ্টা করে দেখতে পারেন কডলিভার তেল দিয়ে। কডলিভার তেলের একটা ক্যাপস্যুল টিপে তেল গুলা

বের করে ফিমেল টার মুখের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে। ৬০ ওয়াটের একটা বাল্ব জ্বালিয়ে দিবেন কেজের পাশে। এরপর হয়তো পাখি ডিম পাড়তে পারে। হালকা গরম পানিতে অনেক সময় পাখির ভেন্ট কিছুক্ষন ডুবিয়ে রাখলেও অনেক সময় ঠিক হয়ে যায়। ভেন্ট এর ভিতর অলিভ অয়েল সিরিঞ্জ দিয়ে পুশ করতে পারেন কিন্তু এই কাজটা খুব সাবধানে করতে হবে।
প্রতিকার:
(১) কুসুমগরম পানিতে ভেন্ট টা ২-৩ মিনিট ডুবান
(২) অলিভ অয়েল দিয়ে ভেন্ট ও তলপেট হাল্কাভাবে ম্যাসেজ করেন।
(৩) ভেন্ট এ ৩-৪ফোটা লুব্রিকেন্ট অয়েল দিয়ে দেন।
(৪) ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন এ ডি ই৩ সলিউশন খাওয়ান ।
(৫) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন ।
এগ বাইন্ডিং প্রতিরোধে করণীয়ঃ
প্রতিরোধ করা প্রতিকারের চেয়ে উত্তম। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে একবার এগ বাইন্ডিং হলে সেটা থেকে পুনঃসুস্থ হওয়া প্রায় অসম্ভব। সেইজন্য এটা যাতে না হয় সেই ব্যাবস্থা নিতে হবে,
(১) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোন ফিমেলের বয়স কমপক্ষে ১০ মাস হলে তারপর ব্রিডিংয়ে দিতে হবে। এর আগে ব্রিডিং এ দিলেই সমস্যা হবে। আর ১২ মাস এ ব্রিডিং দিলে আরো ভালো।
(২) বড় খাঁচা দিতে হবে,শারীরিক পূর্ণাঙ্গতার আগে বাসা দেয়া যাবে না।
(৩) সুষম খাবার দিতে হবে, ডিম দেয়ার সময় ক্যালসিয়াম দিতে হবে। ক্যালসিয়াম কাজে লাগানোর জন্য ভিটামিন এ, ডি, ই৩ দিতে হবে
(৪) পাখির যেন কোন প্রকার ক্যালসিয়াম এর অভাব না হয় সে খেয়াল রাখতে হবে। ক্যাটল ফিশ বোন (সাগরের ফেনা), মিনারেল ব্লক, লিকুয়িড ক্যালসিয়াম এদের যে কোন একটা দিতে হবে।
(৫) ১০ মাসের পর ব্রিড করালে যে সব পাখির এগ বাইন্ডিং হয় বুঝতে হবে সে সব পাখির ক্যালসিয়াম এর অভাব আছে ।
(৬) পাখিদের সপ্তাহে ২ দিন মাল্টিভিটামিন দিতে হবে।
এগ বাইন্ডিং অনেক বড় একটা সমস্যা। পাখির অন্য সব সমস্যার সমাধান থাকলেও এই সমস্যার কোন সমাধান নেই। তাই এই সমস্যা যেন না হয় সেই খেয়াল রাখতে হবে।

 

ছবি ও তথ্যঃ সংগৃহীত

Leave a Reply

Scroll To Top