You are here: Home / পেট / পাখির মল্টিং বা পালক ঝরে যাওয়া

পাখির মল্টিং বা পালক ঝরে যাওয়া

পাখির মল্টিং

পাখির পালক ঝরে যাওয়াকে মল্টিং বলে। পাখির দুই ধরণের মল্টিং হয়

(১) সাধারণ বা স্বাভাবিক মল্টিং

এবং

(২) ফ্রেঞ্চ মল্টিং

সাধারণ মল্টিং  

পাখির মল্টিং হওয়া একটা সাধারণ ঘটনা, সব পাখিরই মল্টিং হয়। বেশির ভাগ পাখিরই বছরে একবারই মল্টিং হয়ে থাকে। কিন্তু বড় প্যারট পাখির বছরে ২ বার মল্টিং হয়ে থাকে। মল্টিং বছরের যে কোন সময়ই হতে পারে, কিন্তু গরমকালে পাখির মল্টিং বেশি হয়ে থাকে। মল্টিং হওয়া পাখির বয়স দিনের দৈর্য্য , হরমোন লেভেল ব্রিডিং কার্যক্রম এগুলোর উপর নির্ভর করে। সাধারণত মল্টিং এর সময় পাখির সামনের বড় পাখা ( wing feathers ) প্রথমেই বদলে যায়। তারপর ঝরে লেজ (Tail) এর পাখা। পাখার বেড়ে উঠতে বেশ সময় নেয়। আর পাখির শরীরের পশম (Powder down feathers) সারা বছরই পরিবর্তন হতে থাকে।
মল্টিং এর সময় আপনার করণীয়ঃ মল্টিং এর সময় পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এই সময় পাখিকে একটু অসুস্থ দুর্বল দেখায়, আর পাখির ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই এ সময় পাখিকে সরাসরি বাতাস লাগা থেকে বিরত রাখা উচিত। মল্টিং এর সময় পাখির শরীরের পশম পুনরায় গজানোর জন্য প্রোটিন ও এমাইনো এসিডের দরকার হয়। তাই এই সময় পাখিকে প্রোটিন ও এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ খাবার দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এক্সট্রা মিনারেলস এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে যা পাখির পাখা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। এ সময় পাখিকে হাল্কা কুসুম গরম নিয়মিত স্প্রে করা যেতে পারে।
সাধারনতঃ পাখির ৪ মাস বয়সে একবার মল্টিং হয়। মল্টিং এর পর পাখনা বা পশম পুনরায় গজাতে ৪২ দিন সময় লাগে এ সময় পাখির সিদ মিক্স এ গুজি তিল , সুর্যমূখী বীজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হয় এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ দিন সবজী কিংবা ফলমূল দিতে হবে।

ফ্রেঞ্চ মল্টিং

FM- কে বলে ফ্রেঞ্চ মল্ট । আপনি যখন কোন প্রকার বিরতি ছাড়াই পাখী ব্রিড করাবেন তখন এই ধরণের সমস্যা হয়। অফ-সিজনে ব্রিডিং করালে এই সমস্যা হয়। পাখির ঘরে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন হলে এই ধরণের সমস্যা হয়। ফ্রেঞ্চ মল্ট আক্রান্ত পাখী থেকে ভাইরাস ট্র্যান্সফার হয়।

তখন আক্রান্ত পাখিগুলো আপনার পাখির ঘর থেকে আলাদা করে ফেলুন ( এ ধরণের পাখী না রাখাই উত্তম যারা পাখী পালে তাদের দিয়ে দিতে পারেন)
তারপর ফার্মের সব পাখিকে অবসর দিয়ে দিন। মেল এবং ফিমেল পাখিকে আলাদা করে ফ্লাইট খাঁচায় রেখে দিন ৪-৫ মাস। খাঁচায় বাতাস চলাচলের ব্যাবস্থা করুন আর ৪-৫ মাসের মধ্যে খামারে নতুন কোন পাখী আনা যাবেনা। পাখীকে ১ম সপ্তাহে ২ বার সবজী খেতে দিন ফলমূল খেতে দিন। বিভিন্ন রকম সিড মিক্স খেতে দিন। পাখির কেজ বা খাঁচা থেকে শুরু করে পাখী সংক্রান্ত সব কিছু ধুয়ে দিন । অনেক সময় এ ধরণের পাখির পালক পুনরায় নতুন করে গজায় না আবার গজাতেও পারে।
আপনি আক্রান্ত পাখিকে আপনার পাখির রুম থেকে আলাদা করে ফেলুন। তারপর পাখিটার শরীরে , পাখা আর লেজ এ আলোভেরা জেল লাগাবেন ২ দিন অন্তর । পাখিকে সপ্তাহে দুই দিন সবজী খেতে দিন। পাখিকে সূর্যমুখী বীজ, গুজি তিল, সিড মিক্সের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন আর কাঊনের পরিমাণ কমিয়ে দিন। মনে রাখবেন এ ধরণের পাখির শরীরে পুনরায় পাখা গজাতে অনেক সময় নেয় আর পাখা পুনরায় গজালেও তার হার ৯০% আর এটা ২ থেকে ৬ মাসের মধ্যে হয়ে থাকে। কারণ ভাইরাস তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয় তাই এই ধরণের পাখি সহজেই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত যে কোন যে কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাই এ ধরণের পাখি খামারে না রাখা উচিত। যারা পাখী পালে না এমন কাউকে ফ্রি দিয়ে দেয়া। কারণ আপনি যতদিন এই পাখি রাখবেন সেটা সুস্থ পাখি দের জন্য ঝুঁকি হয়ে থাকবে। তখন আর ৪-৫ মাস বিশ্রাম দিয়ে কোন লাভ হবে না। এ ছাড়া এ আক্রান্ত পাখি গুলোর সাথে যদি আক্রান্ত পাখি ও থাকে তবে সেই সাস্থবান পাখিগুলোকেও আপনার পাখির রুম থেকে আলাদা করে ফেলুন। কারণ অনেক সময় ঐ বাচ্চাপাখি গুলো রোগের বাহন হিসেবে কাজ করে। পুরো ৪ মাস আগে এ দের প্রথম মল্ট হওয়ার পর ফ্লাইং ফেদার পুনরায় গজিয়ে উঠে না।

 

লেখকঃ  সাফা ভুঁইয়া ( Safa Bhuiyan )

 

Leave a Reply

Scroll To Top