You are here: Home / পেট / বাজরিগার ব্রিডিং করাতে প্রস্তুত?

বাজরিগার ব্রিডিং করাতে প্রস্তুত?

অনেকের কাছেই বাজরিগার ব্রিডিং হিমালয় পর্বত জয় করার মতই কঠিন কাজ বলে মনে হয়। তাদের এই কঠিন কাজকে একটু সহজ করার জন্য আমার এই আর্টিকেল। এটি মূলত আমি আমার অভিজ্ঞতা আর পড়াশুনা থেকে সাজিয়েছি। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

বাজরিগার ব্রিডিং

আপনি কি আপনার আশেপাশের কোন ব্রিডারকে চেনেন যারা প্রয়োজনে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে?

আপনার নিকটস্থ এভিয়ান হল আপনার পাখির সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এমন কাউকে খোঁজ করুন যিনি সবসময় আপনাকে পরামর্শ দিয়ে, প্রয়োজনে নিজে গিয়ে আপনার সমস্যা সমাধান করতে পারে। যদি এমন কাউকে না পান তাহলে বাজরিগার সোসাইটিতে যোগ দিন এবং এমন কাউকে খুঁজে বের করুন।

আপনার বাজেরিগারের বয়স কত?
৪-৫ মাস বয়সেই আপনার পাখির সিয়ার নীল এবং বাদামী রঙ ধারন করতে শুরু করেছে তার মানে এই না যে তারা ডিম পাড়া এবং বাচ্চা বড় করে তোলার জন্য প্রস্তুত। তাদের কমপক্ষে ৮-১০ মাস সময় দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি ভিন্ন ভিন্ন জোড়া থেকে পাখি সংগ্রহ করা যায়। এক ঘরের বাচ্চা জোড়া দেয়া ঠিক নয়। আপনি যদি এক জনের কাছ থেকে ছেলে পাখি কিনেন তাহলে মেয়ে পাখি অন্য ব্রিডারের কাছ থেকে কিনবেন।
আপনি কি নিশ্চিত যে তারা সুস্থ্য ও স্বাস্থ্যবান?
অনেকেই এই সহজ বিষয়টি এড়িয়ে যান। আপনার বাজরিগার ব্রিডিং জোড়া যদি সুস্থ্য না হয় তাহলে তাদের বাচ্চারাও হবে অপুষ্ট। নিশ্চিত করুন যে তারা পরজীবী মুক্ত ও কোন রকম অসুস্থ্যতার লক্ষন দেখাচ্ছে না। যদি কোন সন্দেহ থাকে তাহলে শতভাগ নিশ্চিত হউন। যদি তারা মোল্টিং অবস্থায় থাকে বা মোল্টিং শুরু হবে এমন হলে ব্রিডিং করাবেন না। কারন সে সময় তারা নিজেরাই অনেক দুর্বল থাকে।
আপনার কি মৌলিক ব্রিডিং সেটআপ আছে?
আপনার যথেষ্ট বড় খাঁচা দরকার যাতে তারা উড়তে পারে এবং বাচ্চারা হাড়ি থেকে বের হবার পর খেলাধুলা ও উড়া শেখার জন্য জায়গা পায়। এক জোড়া পাখির জন্য সর্বনিম্ন খাঁচার মাপ হল ১৮-১৮-১৮। খাঁচায় ২টি ভিন্ন মাপের কাঠি থাকা ভালো। এগুলো যাতে শক্ত করে লাগানো থাকে এবং এমন হয় যে তারা ঠিকভাবে মেটিং করতে পারে। প্লাস্টিকের পাইপ থাকলে সেটাতে ফিমেল পাখি ঠিকভাবে বসতে পারে না এবং মেল পাখি যখন ফিমেল এর উপর উঠে তখন ফিমেল পড়ে যেতে পারে। এতে করে তাদের মেটিং সফল হবেনা।

বাজরিগার ব্রিডিং

হাড়ি বা বক্স কেমন হবে?
আপনি যদি প্রতিদিন ডিম বা বাচ্চাদের পরীক্ষা করতে চান তাহলে খাঁচার বাহিরে সেট করা যায় এমন বক্স হলে ভালো হয়। বক্সের মেঝেতে ঢালু জায়গা থাকবে যাতে ডিম গড়িয়ে না যায়। আর হাড়ি হতে হবে এমন মাপের যাতে মেল-ফিমেল দুজন আরামে ভিতরে বসতে পারে। বাচ্চা হবার পর যাতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে। সেটা না হলে বাবা-মায়ের চাপে বাচ্চা আঘাত পেতে পারে।
তাদের কি খাওয়াচ্ছেন?
আপনি বাবা-মা পাখিদের কি খাওয়াচ্ছেন তার উপর নির্ভর করবে বাচ্চার স্বাস্থ্য কেমন হবে। সিডমিক্স, পানি আর কিছু রাসায়নিক ভিটামিন তাদের আদর্শ খাবার নয়। তাদের দরকার অনেক রকমের শাকসবজি, ডিম ইত্যাদি।
আপনি কি তাদের ব্রিডিং মুড চিনতে পারেন?
বাজরিগার সারা বছরে ডিম দিতে পারেনা। এর জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে যাকে আমরা বলি ব্রিডিং মুড। তারা বছরে কয়েকবার এই অবস্থায় আসতে পারে। এই সময় তাদের হরমোনের পরিমান বেড়ে যায় যা তাদের ডিম দিতে ও বাচ্চা উৎপাদন করতে উৎসাহিত করে।

বাজরিগার ব্রিডিং
ফিমেল পাখি ডিম দেবার লক্ষন
কিছু লক্ষন দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন যে ফিমেল ডিম পাড়বে। সে বেশি পরিমানে ক্যালসিয়াম খাবে, বড় বড় মলত্যাগ করবে এবং তার তলপেট ফুলে যাবে। ডিম পাড়া শুরু করার পর প্রতি ১ দিন পর পর সে ডিম পারবে। যদি অনিয়মিত ডিম পাড়ে তাহলে বুঝতে হবে সে হরমোনের অসামঞ্জস্যতায় ভুগছে। এই সময় খাঁচায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম রাখতে ভুলবেন না।
এগ বাইন্ডিং কি? লক্ষন ও কেন হয়?
পাখির ভেন্টে যদি ডিম আটকে যায় তাহলে সেই অবস্থাকে এগ বাইন্ডিং বলে। এটা নানান কারনে হতে পারে। যেমনঃ ক্যালসিয়ামের অভাবে ডিমের খোলস ঠিক ভাবে গঠিত না হলে, বাজরিগার ব্রিডিং এ দেবার আগে পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ালে, অপ্রাপ্ত বয়সে ব্রিডিং করালে ইত্যাদি।
লক্ষনগুলো যা দেখা যায় তা হলঃ খাঁচার মেঝেতে গা ফুলিয়ে বসে থাকা। জোরে জোরে নিশ্বাস নেয়া। ভেন্টের আশেপাশের পালক তুলে ফেলা। পাতলা মলত্যাগ করা ইত্যাদি।

 

লেখাঃ  Melopsittacus Deepu (  দীর্ঘদিনের সৌখিন পাখি পালক, পাখির ব্রিডিং এ অভিজ্ঞ এবং বিএসবি এর কোর মেম্বার  )

Leave a Reply

Scroll To Top