You are here: Home / পেট / বাজরীগার জিজ্ঞাসা – পর্ব ১

বাজরীগার জিজ্ঞাসা – পর্ব ১

পাখি পালন করতে গিয়ে নবীন পাখি পালকেরা অনেক সমস্যায় পড়েন অভিজ্ঞ ব্রিডাররা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে এসব সমস্যার সমাধান দেন।  নবীন ব্রিডারদের পাখি পালনের সুবিদার্থে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও অন্যান্য উৎস থেকে সেইসব সংগৃহীত সমস্যা ও তার সমাধান গুলো ধারাবাহিক ভাবে দেয়া হলঃ

প্রশ্নঃ(১) সীড মিক্স এর সাথে মধু মাখিয়ে দিলে কি কোন প্রব্লেম হবে? 

মধু পানির সাথে মিশিয়ে দিন । সিড মিস্কে দেয়া যাবে না, দিতে হলে পানিতে অল্প পরিমাণ মিশিয়ে দিন। সিড মিক্সে মিশালে পিঁপড়া ধরতে পারে। মধু মিশ্রিত পানি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। মধু গরমকালে ব্যাবহার না করাই ভালো । মধু শীতকালে ব্যাবহার করুন। সিড মিক্সে ভালো করে পানিতে ধুয়ে শুকাতে হবে। আর পিপড়ার ভয়তো আছেই তাই পানিতে মিশানোই ভালো। কারণ বাজী দিনে ১-২ মিলি পর্যন্ত পানি খায়। সকালে সিড মিক্সটা দিয়ে দিবেন এর পরে ১০ টার দিকে পানি দিবেন ।

বাজরীগার সীডমিক্স

প্রশ্নঃ(২) বাজরীগার নিয়ে ভ্রমণ সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে টিপস।

আমরা যারা বাজরীগার পালি, অনেক সময় প্রয়োজনের তাগিদে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিতে হয়। এমনকি এক শহর থেকে অন্য শহরে, এতে ভ্রমণ ক্লান্তিতে পাখী অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কি ??

বাজরীগারকে কোথা হতে আনার পর কিংবা ভ্রমণ শেষে পানি পান করাবেন, পানি তৈরির টিপস,  ১ লিটার পানিতে সি-ভিট ১ গ্রাম পরিমাণ এর সাথে গ্লুকোজ ৫০ গ্রাম ( আমরা যেটা গ্রহণ করি) মিশিয়ে পাখিকে পান করতে দিবেন । পাখির দুর্বলতা কেটে যাবে পাখী স্বাভাবিক প্রান-চঞ্চলতা ফিরে পাবে।

গ্লুকোজ পানিতে মিশালে পানি তাৎক্ষনিক ভাবে ঠাণ্ডা হয়ে যায় , তাই মিশ্রন তৈরি করে স্বাভাবিক অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখবেন এতে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় চলে আসবে তখন পাখিকে নিশ্চিন্তে খেতে দিবেন।

বাজরীগার

প্রশ্নঃ(৩) পাখির পুপ দেখে অনেক কিছু বুঝা যায়,
পাখির পুপ তিন ভাগে ভাগ করা যায়,

১। Feces যেটা কৃমির মত দেখতে ……তার রং বা বর্ণ কি ?? এটি দেখেই আপনাকে বুঝতে হবে। যে পাখী সিড মিক্স খায় তার রং সবুজ ( কালো) মানে সিডের মতই বর্ণ। আর যারা সফট ফুড খায় তার রং খয়েরী, সবজী খেলে রং হয় সবুজ ( কালো) আবার ২৪ ঘণ্টা কোন খাবার না খেলে রং হয় সবুজ, …… অনেক সময় রক্তবর্ণ হয় ভয় পাবেণ না, সিড মিক্স খেলে ঠিক হয়ে যাবে।

বাজরীগারের পূপ সমস্যা

প্রশ্নঃ (৪) আপনার পাখীর মিনারেল ঘাটতি মেটানোর জন্য খাঁচায় মিনারেল ব্লক রাখুন সব সময়,  

মিনারেল ব্লক আপনার পাখী ও তার বাচ্চার সু-সবাস্থের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়,

কেন খাওয়াবেন মিনারেল ব্লকঃ

(১) পাখির স্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধন করে।

(২) বাচ্চাদের হাড়-গোড় শক্ত করে।

(৩) এগ বাইন্ডিং রোধ করে। (BCSIR) দ্বারা পরীক্ষিত।

মিনারেল ব্লক

প্রশ্নঃ (৫) তিনটাপ্রশ্নঃ

১। পাখি কে মাল্টিভিটামিন খাওয়ানোর কথা বলা হয়। কোন মাল্টিভিটামিন খাওয়াব? যেগুলো মানুষ খায় সেগুলো নাকি পাখির জন্য আলাদা মাল্টিভিটামিন আছে? কিভাবে, কোন পরিমান খাওয়াব?
২।  পাখিকে কি কৃমির ঔষধ খাওয়াতে হয়? খাওয়ালে কোন ঔষধ, কি পরিমানে, কিভাবে খাওয়াব?
৩।  আমার ফিমেলটা উড়ে চলে যাওয়ার পর নতুন একটা পাখি দিয়ে জোড়া দিয়েছি। আমার মেল পাখিটা বর্তমানে ফুল ব্রিডিং মুডে আছে কিন্তু ফিমেল পাখিটা ব্রিডিং মুডে নাই। দু’টোকে কি করে একজাষ্ট করব?

(১) পাখিকে শাক-সবজি + সিডমিক্স + এগ ফুড নিয়মিত দিন ওখান থেকেই ভিটামিন এর ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।
(২) আপনি প্রতি মাসে দুইবার ১৫ দিন পর পাখিকে ঢাল সহ নিম পাতা দিন। ওরা নিম পাতা খেলে কৃমিমুক্ত থাকবে। । খাবার পাত্র, পানির পাত্র ও কেজ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন ।
(৩) ফিমেল ব্রিডিং মুডে থাকলে পেয়ার করার দরকার নেই। এখন আলাদা রাখেন।

বাজরীগারের মাল্টিভিটামিন

প্রশ্নঃ (৬) আমি কয়েকদিন ধরে বাজরিগার পালন শুরু করেছি । আমার পাখির বয়স তিন মাসের কিছু বেশী । আমি খাচার মধ্যে কলসি দিয়ে দিয়েছি যাতে এরা খেলাধুলা করতে পারে । এতে কি কোন সমস্যা হবে । দয়া করে কেউ আমাকে জানান ।
উত্তরঃ খাঁচা থেকে হাড়ি সরিয়ে ফেলে কিছু খেলনা যেমনঃ দোলনা, আয়না দিতে পারেন। (রাসেল অ্যাভিয়ারি ফেনি)ঃ খাঁচায় সবসময় হাড়ি রাখলে পাখি খাঁচায় বসে থাকবে, পেয়ার নিতে অনেক সময় নিবে।

প্রশ্নঃ (৭) আমি আমার পাখিগুলোকে কলমি শাক খেতে দেই, এতে কোন সমস্যা হবে ?

উত্তরঃ সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন কলমি শাক খেতে দিবেন।

প্রশ্নঃ (৮)  (পাখি পালক) আমার ২ জোড়া বাজরীগার পাখি আছে ১ মাস আগে একবার ৬ টি ডিম দিয়েছিল এবং সময়মত বাচ্চাও দিয়েছিল কিন্তু বাচ্চা গুলি ১-২ দিন এর মধ্যে মারা গেছে সে সময় প্রচণ্ড গরম পড়ছিল তাই ভাবছিলাম গরম এর কারণ এ হয়তো মারা গেছে। যাই হোক আবার ৬ টি ডিম দিয়েছে আর একজোড়া ৪ টি ডিম দিয়েছে।এখন আমার কি কি করতে হবে জানালে উপকৃত হবো।

হিরা সাহাঃ আপনি তাদেরকে সিড মিক্স এর পাশাপাশি কি কিছু খেতে দিতেন।

উত্তরঃ (পাখি পালক) শুধু মাঝে মাঝে শসা, লতা পাতা (ঘাস) দিতাম।

হিরা সাহাঃ আপনার পাখির প্রোটিনের অভাব রয়েছে তাই , বাচ্চা পাখিরা পুষ্টির অভাবে নতুন পরিবেশে টিকে থাকতে পারছে না। আপনি তাদেরকে মাল্টিভিটামিন যে কোন একটা ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম করে মিশিয়ে মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত মানে টানা পাঁচ দিন খাওয়ান + ৮ তারিখ থেকে ১২ তারিখ …

প্রশ্নঃ ( ৯) পাখির প্রতিদিনের খাবার  By Sifat E Rabbani

১| সীড মিক্স
২| যেকোনো ১ টি শাক / পাতা : পালং / কলমি /পুদিনা পাতা / সজনে পাতা / নিম পাতা / লাল শাক / ধনে পাতা ইত্যাদি
৩| যেকোনো ১ টি সবজি : এসপারাগাস/ ব্রকোলি/ বরবটি/বাধা কপি/ মিষ্টি কুমড়া/ ঝিঙ্গা / চিচিঙ্গা/শসা/সজনে ডাটা /মটরশুটি/সীম/ সীম এর বিচি/ কাচা পেপে/ পটল/ ঢেঁড়শ
৪| যেকোনো ১ টি ফল : আপেল / স্ট্রবেরি/ ফুটি / তরমুজ/ পেপে/ নাশপাতি/ পেয়ারা /কামরাঙ্গা/ আমড়া
৫| কাট্টলবোন্
৬| ফুটানো এবং ফিল্টার করা টাটকা পানি : সকালে ১ বার & সন্ধায় ১ বার বদলে দিবেন
৭| সজনে পাতা লিফ – সাপ্তাহিক 2 দিন (এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম , প্রোটিন, সবরকমের ভিটামিন ও মিনারেল আচ্ছে)
৮| অঙ্কুরিত বীজ – সাপ্তাহিক 2 দিন
৯| সেদ্ধ বুটের ডাল – সাপ্তাহিক 2 দিন
১0| শুকনো কুমড়ো বীজ – সাপ্তাহিক 2 দিন
১১| ঘৃতকুমারী টুকরা – সাপ্তাহিক 2 দিন
১২| সপ্তাহে ১ বার অথবা চিকিত্সার প্রয়োজন অনুযায়ী – তুলসী দ্রবণ (ঠান্ডায়), এলে ভেরা/ঘৃতকুমারী দ্রবণ (গরমে, হজম & পালকের সমস্যায়)| সকাল থেকে ৬ ঘন্টা রেখে এরপর বদলে দিয়ে সাধারণ পানি দিবেন

*শাক সবজি ফল দেয়ার আগে সবসময় বড় একবাটি পানিতে ভালমত ডলে ধুবেন ৩ বার
*ফল দেয়ার আগে বিচি ফেলে দিবেন

বাজরীগারের অঙ্কুরিত বীজ

প্রশ্নঃ (১০)পাখির জন্য অঙ্কুরিত বীজ - By Sifat E Rabbani 

অঙ্কুরিত বীজ পোষা পাখির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। খোসা যুক্ত যেসব বীজ আমরা সাধারণত পাখিকে খেতে দেই সেসব বীজকে অঙ্কুরিত করে আমরা খুব সহজেই পাখির জন্য এই খাবারটি তৈরী করতে পারি। কিছু বীজের নামঃ শস্য বীজঃ ক্যানারি, চিনা কাউন, সরিষা, বাজরা, মটরডাল, ছোলা, সীম এর বিচি. black eyed peas, black beans, ঔষধি/ভেষজ বীজঃ মৌরি, মেথি, মূলা বীজ, লাল ক্লোভার| অঙ্কুরিত বীজ প্রস্তুত প্রনালী নিম্নে দেয়া হলঃ 

১। কিছু বীজ একটি পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এর পরে একটি পরিষ্কার স্বচ্ছ কাচের পাত্রে অল্প একটু পানি দিয়ে(এমনভাবে পানি দিতে হবে যাতে বীজ ও পানি এক এ লেভেল থাকে পানি যেন বীজের উপরে উঠে না যায়।) ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২। কক্ষ তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কাচের জারটি এভাবে রেখে দিতে হবে।

৩। এর পর বীজগুলো আবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

৪। এই বীজ ও পাখিকে খেতে দিতে পারেন। অথবা আরও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কাচের পাত্রটিকে এমন ভাবে রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করে এবং বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়।

৫। নির্দিষ্ট সময় পরে বীজগুলো অঙ্কুরিত হলে এগুলো পাখিকে খেতে দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। বীজগুলো ১/২ চামচ অপরিশোধিত আপেল সিডার ভিনেগারে ১৫ মিনিট ধরে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজে যদি কোন ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া থাকে তা দূর হবে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু এনজাইম, ভিটামিন ও মিনারেল বীজে যোগ করবে। আপেল সিডার ভিনেগার অবশ্যই জৈব (Organic),কাঁচা (Raw), অপরিশোধিত (Unfiltered) হতে হবে। এরকম আপেল সিডার ভিনেগারের একটি ভালো ব্র্যান্ড হলঃ Bragg with the “Mother”

৬। ১৫ মিনিট ধরে আপেল সিডার ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখার পরে অঙ্কুরিত বীজগুলোর ভালভাবে পানি ঝরিয়ে পাখিকে খেতে দিন. ৭। পাখির খাওয়ার পরে যেসব যেসব বীজ থেকে যায় তা ফ্রিজে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে পাখিকে আবার খেতে দেয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে পানিতে এবং অপরিশোধিত আপেল সিডার ভিনেগারে ধুয়ে খেতে দিতে হবে। আর খাওয়ানোর আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন বীজ থেকে টক জাতীয় গন্ধ না আসে।

 

কৃতজ্ঞতায়ঃ বাজরিগার সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বার্ডসওয়ে ন্যাচারাল ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড কেয়ার।

Leave a Reply

Scroll To Top