You are here: Home / পেট / বাজরিগার পাখি পালনের কিছু টিপস

বাজরিগার পাখি পালনের কিছু টিপস

বাজরিগার পাখি পালকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাজারো প্রশ্নের, সব প্রশ্নের উত্তর তো একসাথে দেয়া সম্ভব নয় তাই কিছু সাধারন বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি। বাজরিগার লালন পালন ও এর যত্ন কীভাবে নিতে হবে , কি কি করনীয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

বাজরিগার পাখি

আপনি কি শখ করে বাজরীগার পালতে চান?

১। আকারে বড় থেকে একটা কেস কিনেন , তারপর ভালো একজন ব্রিডারের কাছ থেকে কিছু বাজরীগারের বাচ্চা কিনুন।
২। এরা কি খায়, এদের ভালো রাখার টিপস, এগুলো নেট থেকে বই থেকে স্টাডি করে নিবেন।
৩। আপনার আশে পাশের একজন ভালো ব্রিডারের মুরিদ হন।
৪। বাজরীগারের বয়স ৮ মাস হলে আলাদা কেস কিনুন , প্রতি পেয়ার এর জন্য একটা করে , তারপর ব্রিডিং মুডে আসলে হাঁড়ি দিন।

৫। যারা সৌখিন বাজরীগার পালক, তাদের সাথে সূ-সম্পর্ক রাখেন।
৬। বাজরীগার পালনকে একটা আর্ট হিসেবে নিন, বাজরীগারকে টেম করেন।
৭। নবীন পাখী পালকদের আপনার অভিজ্জতা, আপনার মুল্যবান টিপস দিয়ে সাহায্য করুন, আপনার নিজ থেকে কিছু ভালো জাতের পাখী স্বল্প দামে দিয়ে সাহায্য করুন।
৮। বাজরীগারেরা অসাধারণ পাখী, তা সবাইকে জানান, এদের ভালো বাসুন।
৯। মিউটেশন জেনে বাজরীগার পালুন।
১০। মিউটেশন জেনে ব্রিডিং করুন।

বাজরিগার পাখি

আমার বাজরিগার পালনের অভিজ্ঞতা বলছি,
১৬ মাসে আমার তোতামিয়াঁ ( আমার বাজ্জি) একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ল
আমি কি কি করেছিঃ
(১) সকালে ঘুম থেকে উঠে পাখিকে নিরাপদ পানি “ ওয়াটার ফিডারে” করে দিয়েছি। এক জোড়া বাজ্জি এর জন্য একটু উঁচু করে ২ চা চামচ সিড মিক্স, পাখিকে ক্ষিদে লাগিয়ে খেতে দিই। আমার কোন উদ্বৃত্ত খাবার থাকে না। সব খেয়ে ফেলে। আমি জানি আমার পাখি কতটুকু খায়।
(২) যে দিন সফট ফুড পাখিকে দিই সেই দিন আগে সফট ফুড খেতে দিই। ২ ঘণ্টা রেখে সরিয়ে ফেলি। পরে সিড মিক্স খেতে দিই।
(৩) সপ্তাহে ২ দিন গ্রিন ফুড পাখিকে দিই। যেমন ধনে পাতা অল্প করে।
(৪) কেজ এর ট্রে দুই দিন পর পর বদলে দিই।
(৫) পানির সাথে সপ্তাহে ৫ দিন (ACV)দেই আমি জানি প্রতিদিন (ACV) পাখির পুপ শক্ত হয়ে যায়। আমি জানি কি ভাবে পায়খানা নরম করতে হয়। আমি পাখিকে সফট ফুড দেই, ঠিক হয়ে যায়।
(৬) আমি যখন বাহিরে থাকি … দিনে অন্তত একবার আমার পাখির খোঁজ খবর নেই , মা অথবা স্ত্রীর কাছ থেকে।
(৭) আমার যে দিন শীত লাগে আমি ভাবি আমার পাখিরও শীত লাগছে, তখন তাদের কেজের পাশে লাইট জ্বালিয়ে দেই। যে দিন আমার গরম লাগে সে দিন আমার পাখিকে পানি দিয়ে স্প্রে করি। স্যালাইন খেতে দেই বা পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে দেই।
(৮) মিনারেল ব্লক ও ক্যাটল বোন ছাড়া অন্য কিছু আমি দেই না। যেমন, গ্রিট।
(৯) আমি সিড মিক্স বাজার থেকে কিনে আনি তারপর ভালো করে পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তারপর পাখিকে খেতে দেই।
(১০) রাতে বাসায় আসলে আগে পাখি দেখি তার সিড মিক্স লাগলে অল্প করে সিড মিক্স দেই, আর শীতকালে মোটা কাপড় আর গরমকালে পাতলা কাপড় দিয়ে কেজ ঢেকে দেই। এবং পট ও ওয়াটার ফিডার বের করে দেই। এটা আমার পাখি পালার স্টাইল , আপনি এটাকে ল’ বা আইন হিসেবে দেখবেন না।

বাজরিগার পাখি

প্রতিবার ব্রিডিং এর পর অবশ্যই পাখিদের বিশ্রামে দিবেন। বিশ্রামে দেয়ার কারনঃ
১। ৪-৫টা বাচ্চা খাওয়ানো দেখতে খুব সহজ মনে হলেও, এইতা কিন্তু অনেক কঠিন একটা কাজ।
২।সম্পূর্ণ ব্রিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে (ডিম পারা থেকে শুরু করে বাচ্চা বড় করা পর্যন্ত) পাখিদের শরীরের প্রচুর ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, মিনারেল এর ঘাটতি তৈরি হয়। তা সম্পূর্ণ রুপে আবার পাখি এর শরীরে তৈরি হতে কমপক্ষে ২মাস সময় লাগে। এই ঘাটতিটা ফিমেল এর ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে।
৩। প্রত্যেকবার ব্রিডিং এরপর কম পক্ষে ২মাসের বিশ্রাম, নানান ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত রোগ থেকে আমাদের প্রিয় পাখিদের রক্ষা করবে।
আরেকটা বিষয় শুধুমাত্র বিশ্রামে দিলে হবে, বিশ্রামে থাকাকালিন অবশ্যই তাদের পুষ্টিকর খাবার দিন। রেগুলার পাখিদের virkon-s অথবা অন্য কোন জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন।
একটা কথা আমরা সব সময় মাথায় রাখি,” আমাদের আদরের পাখি গুলো ব্রিডিং মেশিন না, এদের যত্ন নিন।”

 

লিখেছেনঃ সুলতান বাবু (বাজরিগার সোসাইটি অভ বাংলাদেশ)

Leave a Reply

Scroll To Top