You are here: Home / উপহার / নিজে নিজেই বানিয়ে ফেলুন আসাধারন একটি শো-পিছ

নিজে নিজেই বানিয়ে ফেলুন আসাধারন একটি শো-পিছ

কথায় আছে প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক। প্রয়োজন মানুষকে অনেক দূরে নিয়ে যায়। এমনি একটি ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতার কথা বলব আজকে। অনেকদিন হলো নতুন কিছু করা হয়নি, আসলে ব্যস্ততার মাঝে খুব একটা সময় পাওয়া যায় না। এরমধ্যেই আবার খুব কাছের এক বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত পেলাম। বুজতেই পারছেন লোভ সামলাতে পারিনি, যাই হোক বিপদ যেটা হলো অনেক দোকান ঘুরেও পছন্দসই কিছু পেলাম না যা দিয়ে শুভকামনা জানানো যায় আবার অনেক অনেক দামি জিনিস দিলে সেখানে টাকার ঝরঝরানি থাকে ভালোবাসা থাকেনা। আসলে আমাদের সমাজে লোক দেখানো বিষয়টাই বেশি চোখে পড়ে। আমি বরং যেটা দিচ্ছি সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে যাকে দিচ্ছি তাকেই গুরত্ত্ব দিতে পছন্দ করি।

শো-পিছ

যাই হোক এবার আসল কথায় আসা যাক। অনেক ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের হাতে কিছু বানিয়ে দিব, এতে করে যেটা হবে তা হল গতানুগতিক ধারার বাহিরে কিছু করা হবে আর ভালোবাসাও থাকবে অটুট। একটু সময় দিতে হল কিন্তু বানিয়ে ফেললাম একটি সুন্দর গাছ, আসল গাছ নয় পাথর আর পুঁতি দিয়ে বানানো শো-পিস গাছ। মাত্র ৩ ঘণ্টায় এর চেয়ে ভালো আর কি বানানো যায় আমার ধারণা নেই। আসলে পরিবারকে যদি একটি গাছের সাথে তুলনা করা যায়, গাছ যেমন ছায়া দেয় তেমনি পরিবারের ছায়াতলেই কিন্তু আমরা বেছে থাকি। তাই আমার উপহারটি আমার কাছে প্রাসঙ্গিক বলেই মনে হয়েছে।

পুঁতি

এতক্ষণে বোধহয় আপনারও কিছুটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে যে কিভাবে আমি এটা বানালাম। দেখুন কোন কিছু বানানোর জন্যে দরকার শুধু আগ্রহের বাকিটা হল আপনার জানার পরিধি। তো খুব সহজে এবং কম সময়ে এই শো-পিছ  বানাতে আমার যা যা লেগেছেঃ

  • মাঝারী সাইজের একটি পাথর
  • হালকা মোটা তাঁর
  • বিভিন্ন ধরনের ভিন্ন ভিন্ন রঙের পুঁতি
  • তার কাটার যন্ত্র বা কাটিং প্লাস

আমি পাথরটা সংগ্রহ করেছি বাসার পাশের রাস্তা থেকেই, আপনি চাইলে কিনে নিতে পারেন। যে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো পাথরটার নিচের অংশ অবশ্যই সমান হতে হবে যাতে করে এটাকে স্থিরভাবে বসানো যায়। এবার হল সবচেয়ে কঠিন কাজ-

শো-পিছ

আপাতদৃষ্টিতে তার পেচানো সহজ মনে হলেও এটা ততটা সহজ নয়। এমনও হতে পারে তারের ঝটলা সামলাতেই আপনি ধৈর্যহারা হয়ে গেছেন। খুব ধৈর্য সহকারে তার গুলো পাথরের চারিদিকে পেঁচিয়ে নিন আর তারের উচ্চতা ঠিক ততটুকুই রাখবেন যতটা লম্বা গাছ আপনি বানাতে চান। তবে বেশি লম্বা হলে তাঁর বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই সহনীয় পর্যায়ে রাখুন।

শো-পিছ

তাঁর পেঁচানো হয়ে গেলে এবার প্লাস দিয়ে উপরের তাঁর গুলো কেটে নিন। আশাকরি সবচেয়ে কঠিন কাজটুকু আপনি করে ফেলেছেন।

শো-পিছ

এবার পাথরের গোড়ার দিক থেকে তারগুলো গুরিয়ে গুরিয়ে পেচাতে থাকেন, এমনভাবে পেঁচাতে হবে যাতে করে শক্তভাবে লেগে থাকে পরবর্তীতে যেন পাথর ছুটে যায়। গাছের যেখান থেকে আপনি শাখা-প্রশাখা বের করতে চান ঠিক ততটুকু পর্যন্ত পেঁচানো হয়ে এলে একটু পর্যবেক্ষন করেন। তাঁরগুলো যেন সব একদিকে সরে না যায় উপরের তাঁরগুলো যেন সবদিকে ছড়িয়ে থাকে।

শো-পিছ

এবার ডালপালা তৈরির কাজ শুরু করতে হবে। প্রথমে আপনি বড় বড় যতগুলো ডাল বানাতে চান তাঁর গুলোকে ততভাগে ভাগ করুন। এটা হতে পারে চারটা পাঁচটা অথবা ছয়টা। এভাবে আপনি বড় ডাল থেকে আবার তিন চার ভাগে ছোট ছোট ডাল তৈরি করুন।

শো-পিছ

হয়ে গেলো পাতাবিহীন গাছ। এবার পুঁতিগুলো ধীরে ধীরে গাঁথুন আর এক এক করে সবগুলো ডাল বানানো শেষ করুন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক ডালে ভিন্ন ভিন্ন রঙের পুঁতি হলে দেখতে খুব সুন্দর লাগবে।

শো-পিছ

আশাকরি আপনার শো-পিছ এখন প্রদর্শনীর জন্যে প্রস্তুত। আপনি চাইলে এটা ঘরে শো-পিছ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন অথবা কাউকে উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন।

Leave a Reply

Scroll To Top