You are here: Home / ঘর সাজাই / খেলাচ্ছলেই বানিয়ে ফেলুন কাগজের ফুল, সাজান ফুলদানি!

খেলাচ্ছলেই বানিয়ে ফেলুন কাগজের ফুল, সাজান ফুলদানি!

কাগজের ফুলআধুনিক শহুরে জীবনে আমরা অনেক ব্যস্ততার ভিড়ে নিজেকে সময় দেয়ার সময় ও খুজে পাইনা। নতুন কিছু করার চিন্তা সবসময়ই  মাথায় ঘুরপাক খায়। জাতি হিসেবে আমরা সৌখিন একথা অনস্বীকার্য। দিনে দিনে সৌখিন মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে তবে যারা এখনো নিজেকে সৌখিন মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পছন্দ করেন আজকের উপহারটা তাদের জন্যেই। বেশ কিছুদিন আগে একটা আর্টিকেল লিখেছিলাম কিভাবে ফেলে দেওয়া প্যাকেট দিয়ে একটি চমৎকার ফুলদানি বানাবেন, হয়তো অনেকে চেষ্টা করে বানিয়েও ফেলেছেন। মনের আকুতি থেকেই বোধদয় হল ফুলদানি না হয় বানালাম কিন্তু ফুল কোথায় পাব, আবার ঘুরেফিরে দোকান কিংবা শপিংমলে যাও। আর যারা শহরে বসবাস করেন তাদের জন্যে তো রাস্তায় বের হওয়া রীতিমতো যুদ্ধ করার মতো। যা হোক ওদিকে আর নাইবা গেলাম এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন আমি কাগজের ফুল বানানোর কথা বলছি।

কাগজের ফুলকাগজ নিয়ে কতশত নৌকা আর প্লেন বানিয়েছেন সেটা মনে করতে নিশ্চই কারো কষ্ট করতে হবে না, ছোটবেলার সোনালী স্মৃতি কার না মনে থাকে। না হয় একটু ফিরে গেলাম সেই সোনালী অতীতে, চিন্তার কিছু নেই আমি আপনাকে টাইম মেশিনে চড়ার কথা বলছিনা। কাগজ নিয়ে খেলতে খেলতে আমরা আজকে ফুলের স্টিক বানাবো যা দিয়ে চমৎকার ভাবে ফুলদানি সাজানো যায়।

কাগজের ফুলকাগজের ফুল বানাতে আপনার হাতের কাছেই যা যা রাখা প্রয়োজন-

১। রঙ্গিন কাগজ

২।  কেঁচি

৩। আঠা

কাগজের ফুলআপনি চাইলে নিজের মত রঙ্গ করে নিতে পারেন কাগজে অথবা যে কয়টা রঙ্গের কাগজ পাওয়া যায় তাই ব্যবহার করতে পারেন। তবে নিজের পছন্দমত রঙ্গ করে নিলে ফুলগুলো দেখতে বেশি সুন্দর দেখায় । প্রথমে কাগজের টুকরা বানানোর পালা, ২ ইঞ্চি চওড়া করে কাগজ কেটে টুকরো করুন আর লম্বা আপনার মন মত দিতে পারেন তবে আমি ৮ ইঞ্চি রেখেছি।  লম্বা দিকের যে কোন এক পাশে ১ সেন্টিমিটার করে হালকা একটু ভাজ করে রাখেন।

কাগজের ফুলএবার আঙ্গুল বানানোর পালা। যে পাশে ভাজ করেছেন ঠিক তার উল্টা পাশ থেকে ভাঁজ পর্যন্ত কেটে ছোট আঙ্গুল তৈরি করুন। এক্ষেত্রে যে অংশটুকু কাটবেন তা দুইভাজ করে কাটলে অনেকটা সহজ হয়। তবে লক্ষ রাখতে হবে যাতে প্রত্যেকটি আঙ্গুল সমান সাইজের হয় এবং আঙ্গুল যেন চিকন বা হালকা চওড়া করে কাটা হয়। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে পেন্সিল দিয়ে হালকা করে দাগ দিয়ে তারপর কাটলে কোন রিস্ক থাকে না।

কাগজের ফুলএতক্ষণে আপনি নিশ্চই আঙ্গুল বানিয়ে ফেলেছেন। এখন আঙ্গুলগুলো মুচড়িয়ে রোল বানাতে থাকেন। প্রত্যেকটি আঙ্গুলকে শেষ প্রান্ত থেকে মোচড়াতে থাকেন যতটুকু কাটা আছে ততটুকু পর্যন্ত। আপনাকে ধৈর্য সহকারে সময় নিয়ে এই কাজটি করতে হবে কেননা এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আমি আবার বলছি আপনি সময় নিন এবং ধৈর্য সহকারে কাজটি করুন। আশা করি আপনি খুব সহজেই বানাতে পেরেছেন।

কাগজের ফুলফুল বানানোর আগে আপনাকে ফুলের ডাঁটা বানাতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্য সবুজ রঙ্গের কাগজ ব্যবহার করা ভালো। প্রথমে লম্বা করে কাগজের টুকরা কাটুন। আমি সাইজ রেখেছি ২x১০ ইঞ্চি করে। এরপর যে কোন এক কোনা থেকে কোণাকুণিভাবে মোচড়াতে থাকেন যতক্ষন পর্যন্ত শেষ না হয়। এবার মোচড়ানো ডাঁটার দুই প্রান্তে আঠা লাগিয়ে দিন যাতে খুলে না যায়।

কাগজের ফুলএবার আঙ্গুল বানানো কাগজটা নিন এবং হালকা ভাঁজ করা অংশ যেটা আঙ্গুল কাটার সময় বাচিয়ে রেখেছিলেন সেখানে আঠা লাগাতে থাকেন। কাগজের কোনপাশে আঠা লাগাতে হবে তা উপরের ছবি দেখে ভালোভাবে বুজে নিন। আঠা লাগানো শেষ হলে এবার ডাঁটার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত আস্তে আস্তে মুচড়িয়ে আঠাযুক্ত কাগজটির পুরোটা লাগিয়ে নিন। প্রয়োজনে বারবার উপরের ছবিটি খেয়াল করুন।

কাগজের ফুলএবার পাতা বানাতে হবে। পাতা ছাড়া ফুল দেখতে বেমানান দেখায়। আগের মতই সবুজ রঙ্গের কাগজ নিতে পারেন পাতা বানানোর জন্যে। ২x৩ ইঞ্চি সাইজ করে কাগজের টুকরা করুন। এবার ১ সেন্টিমিটার সাইজ রেখে পুরো কাগজটি ভাঁজ করে ফেলেন। এরপর যে কোন এক প্রান্তকে কেঁচি দিয়ে এমনভাবে কাটুন যাতে তা সূচালো আকৃতির হয়।

কাগজের ফুলএবার কাগজটির ভাঁজ খুলে ফেলুন এবং আঠা লাগিয়ে নিন যাতে করে ডাঁটার নিচের অংশে লাগিয়ে নিতে পারেন। ডাঁটার মধ্যে পাতা লাগানো শেষ হলে আপনি কিছুক্ষন শুঁকাতে দিন।

কাগজের ফুলএকবার বানানো হয়ে গেলে পরেরবার থেকে আপনার অনেক কম সময় লাগবে আর অনেক মজা করে বানাতে পারবেন। তো বানাতে থাকেন যে কয়টি ফুল আপনি চান। আপনি চাইলে রঙ্গ পরিবর্তন করে কিংবা কাগজের টুকরার সাইজ পরিবর্তন করে ভিন্নতা নিয়ে আসতে পারেন।

কাগজের ফুলকাগজ নিয়ে খেলুন আর মজা করতে থাকুন যত ইচ্ছে তত।

Leave a Reply

Scroll To Top