You are here: Home / বারোয়ারি / দর্শনীয় সব জলপ্রপাত এখন বাংলাদেশেই-১

দর্শনীয় সব জলপ্রপাত এখন বাংলাদেশেই-১

ভ্রমণ করতে অপছন্দ করেন এমন মানুষ খুজে পাওয়া দুষ্কর। কম-বেশি আমরা সবাই ভ্রমণ করি। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম প্রত্যেক সেমিস্টার শেষে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাওয়াটা পরীক্ষার চেয়েও গুরুত্তপুর্ন বিষয় ছিলো। একসাথে সব বন্ধুরা চলে যেতাম দর্শনীয় সব জায়গা ঘুরে বেড়াতে। আমাদের সবার কাছে কিছু এলাকা খুবই পরিচিত ছিলো তার মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, রাঙ্গামাটি, বান্ধরবন, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুন্দরবন ইত্যাদি অন্যতম ছিলো। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো পাহাড়ি ঝর্না দেখতে।

বাংলাদেশের জলপ্রপাত

ঝর্না বলতে হিমছড়ি আর মাধবকুণ্ড ছাড়া কিছুই নেই- এমনটিই ধারণা ছিলো কয়েকদিন আগেও। তবে কিছু সাহসী মানুষের নিরলস চেষ্টা আর পরিশ্রমের ফলে আমাদের দেশে অসম্ভব সব সুন্দর ঝর্নার  দেখা পাই। আমি জানিনা কে কি দেখেছেন, হয়তো অনেক বড় আর বিখ্যাত ঝর্না দেখা হয়ে গেছে আপনার কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি আপনার ধরনা পাল্টে দেওয়ার জন্যে একটি ঝর্নাই যথেষ্ট। কিছু অজানা আর অচেনা অথবা দুর্গম ঝর্নার সাথে পরিচিত হবো আজকে।

শুভলং

শুভলং ঝরনাঃ রাঙ্গামাটি থেকে জলপথে প্রায় ৮ কিলোমিটার যেতে হবে শুভলং ঝর্নার সৌন্দর্য দেখার জন্যে। রাঙ্গামাটির অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থান এটি। ঝর্নার নির্মল জলধারা আপনার হৃদয়ে অনুভূতির কাপন সৃষ্টি করবে। এছাড়া শুভলং যাওয়ার পথটিও বেশ চমৎকার, দু-পাশে উচু পাহাড় পুরো সমতল জুড়ে আছে লেক এক কথায় মনোরম পরিবেশ। যাওয়ার পথ- ঢাকা>রাঙ্গামাটি>শুভলং।

খইয়াছড়া ঝর্না

খইয়াছড়া ঝর্নাঃ এই ঝর্নাটির অবস্থান চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। সারাবছর অল্প ধারায় প্রবাহিত এর ঝর্নাটি খরস্রোতা হয় মূলত বর্ষাকালেই। ঝর্নার যোবন দেখতে হয় বর্ষায়। আপনাদের যদি সেই রকমের কোন যোবনবতী ঝর্নার রুপ দেখার ইচ্ছা হয় তাহলে অপেক্ষাকৃত সবচেয়ে সহজে যেখানে যেতে পারেন তা হলো- খইয়াছড়া ঝর্না। যাওয়ার জন্যে সড়ক পথ- ধাকা>চট্রগ্রাম মীরসরাই বাজার>খইয়াছড়া স্কুল> খইয়াছড়া ঝর্না।

সহস্রধারা জলপ্রপাত

সহস্রধারাঃ সহস্রধারা ঝর্নাটি চট্রগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে অবস্থিত। সহস্রধারা থেকে প্রায় সারা বছর জুড়েই অজস্র ধারায় পানি ঝরে। এই ঝর্নাটি উপভোগ করতে আপনাকে যেতে হবে- ঢাকা>চট্রগ্রাম>সীতাকুন্ড>ইকোপার্ক> সহস্রধারা।

বাকলাই ঝরনা

বাকলাই ঝরনাঃ চমৎকার এই ঝর্নাটি বান্দরবন জেলার থানচি উপজেলার নাইটিং মৌজার বাকলাই পাড়ায় অবস্থিত।এই ঝর্নার নামেই এলাকার নামকরন- বাকলাইপাড়া হয়েছে। কেওক্রাডং থেকে তাজিংডং যাওয়ার পথে এটিই সবচেয়ে পরিচিত গ্রাম। যাওয়ার পথে পাহাড়ি ছোট ছোট নদী যেমন আপনার নজর কাড়বে তেমনি নয়নাভিরাম-বিস্ময়কর-অভিনব-অনিন্দ সুন্দর বাকলাই ঝরনা দেখে আপনি বিমোহিত হবেন। পথ নির্দেশিকাঃ বান্দরবন>রুমাবাজার>বগালেক>কেওক্রাডং>জাদিপাইঝরনা>বাকলাই।

জাদিপাই জলপ্রপাত

জাদিপাইঃ দেশের সবচেয়ে উচু গ্রাম হিসেবে বান্দরবানের কেওক্রাডং-এর পরে অবস্থিত পাসিং পাড়াকেই(৩২০০ ফুট উচু) ধরা হয়। পাহাড়ের এতো উচুতে আর কোন জনবসতি নেই। পাসিং পাড়া থেকে নিচের দিকে গেলেই জাদিপাই পাড়া। জাদিপাই পাড়া থেকে ঘন্টাখানেক নিচের দিকে নামলেই অসাধারণ সুন্দর জাদিপাই জলপ্রপাত। ঝর্নার শীতল পানি পড়তে পড়তে নিচে একটি পুকুরের মতো তৈরি হয়েছে, আপনি শীতল পানিতে গোসল করতে করতে উপভোগ করতে পারবেন বুনো এই ঝর্নাকে। যেভাবে যেতে হবে- চট্টগ্রাম>বান্দরবন>কাইখ্যংছড়ি>রুমাবাজার>কেওক্রাডং জাদিপাই পাড়া>জাদিপাই জলপ্রপাত।

ফাইপি জলপ্রপাত

ফাইপি জলপ্রপাতঃ বান্দরবনের থাইকাং পাড়াতে অবস্থিত অপরূপ এই জলপ্রপাত। রুমা বা থানচি থেকে আপনি এই জলপ্রপাতে যেতে পারেন। থানচি থেকে ফাইপি যেতে হলে রুট- বান্দরবন>থানচি>বোডিং পাড়া>সেরকর পাড়া>বলকাই পাড়া>থাইকং পাড়া।

দর্শনীয় সব জলপ্রপাত এখন বাংলাদেশেই-২

 

Leave a Reply

Scroll To Top