You are here: Home / বারোয়ারি / দর্শনীয় সব জলপ্রপাত এখন বাংলাদেশেই-২

দর্শনীয় সব জলপ্রপাত এখন বাংলাদেশেই-২

এতক্ষনে নিশ্চয়ই আপনি দর্শনীয় সব জলপ্রপাত এখন বাংলাদেশেই-১ পড়ে ফেলেছেন আর রীতিমত অবাক হয়েছেন বাংলার অপুর্ব সব জলপ্রপাত দেখে। এবার আরো কিছু মনোমুগ্ধকর ও অপরূপ ঝর্না দেখাব আপনাদেরকে যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সবছেয়ে বড় জলপ্রপাত হামহাম জলপ্রপাত। এছাড়াও নাফাখুম ও অমিয়াখুম তো আছেই।

নাফাখুম জলপ্রপাত

নাফাখুম জলপ্রপাতঃ বান্দরবনের থানচি উপজেলার মারমা অধ্যুষিত একটি এলাকার নাম রেমাক্রি। আশ্চর্য সুন্দর এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে রেমাক্রি থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিতে হয়।এলাকার নামকরনেই এখানে আছে রেমাক্রি খাল যার পানি কিছুদুর প্রবাহিত হয়ে নাফাখুমে এসে বাক খেয়ে ২৫-৩০ ফুট নিচে পতিত হয়ে সৃষ্টি করেছে নাফাখুম ঝর্না। অনেকে একে বাংলার নায়াগ্রা বলে থাকেন। পাহাড়, নদী আর ঝর্নার অতিপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আপনার মনে হতেই পারে আপনি সিনেমার কোন সুন্দর একটি দৃশ্য দেখছেন। যাওয়ার পথ- বান্দরবান>থানচি>রেমাক্রি>নাফাখুম।

লাইখ্যানঝিরি

তবে রেমাক্রি থেকে চাইলে আরো একটি ঝর্না উপভোগ করতে পারেন তা হলো লাইখ্যানঝিরি ঝর্না

রাইখং জলপ্রপাত

রাইখং জলপ্রপাতঃ এডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষদের জন্যে এই যায়গাটি চমৎকার একটি উপহার। দুর্গম পাহাড়ি উচু-নিচু রাস্তা আর খাল পার হবার মতো মানসিক এবং শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্য যাদের আছে তারাই এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেতে পারেন। মূলত রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত হলেও এখানে যেতে হবে বান্দরবান হয়ে। রুট- বান্দরবান>রুমাবাজার>বগালেক>রাইখং।

অমিয়াখুম ঝর্না

অমিয়াখুমঃ অমিয়াখুম ঝর্না দেখার পর আপনি নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারবেন না। বলতে বাধ্য হবেন- প্রকৃতির এমন সুন্দর নিদর্শন বাংলাদেশে? হ্যা এমনকি এর চেয়ে বেশি কিছু বললেও কম হবেনা। বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার অন্যতম জলপ্রপাত এটি। এর স্বচ্ছ প্রবাহমান জলধারা দেখে আপনি হয়তো মনে মনে বলে উঠবেন এমন পানিতে ঝাপ না দেয়া গুরুত্বর অন্যায়। আসুন জেনে নেই অমিয়াখুম যাবার পথ- বান্দরবান>থানচি>রেমাক্রি>নাফাখুম>অমিয়াখুম

সাতভাইখুম ঝর্না

অমিয়াখুম থেকে মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা পার হলেই আপনার সাথে দেখা হয়ে যাবে আরেক সপ্তাশ্চার্য সাতভাইখুম। এই ফাকে আপনার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর  ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও হয়ে যাবে।

হামহাম ঝর্না

হামহাম ঝর্নাঃ সর্বশেষ আমি যে ঝর্নাটির সম্পর্কে বলতে যাচ্ছি তা হলো হামহাম ঝর্না। এই ঝর্নার বর্ণনা বলে শেষ করার মতো না। যারাই এই ঝর্না স্বচক্ষে দেখেছেন শুধু একপলকে তাকিয়ে ছিলেন। এই ঝর্নার পানি আয়নার মতো স্বচ্ছ আর ঝর্নার পানি প্রবাহ খুব বেশি। মজার বিষয় হলো গুড়ি গুড়ি জলকনা আকাশের দিকে উড়ে গিয়ে তৈরি করছে কুয়াশার আভা। শীতল বাতাসে আপনি শিহরিত হবেন নিমিষেই। রোমাঞ্চকর নয়নাভিরাম এই ঝর্নাটি উচ্চতায় প্রায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কাছাকাছি। দীর্ঘ পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথে অনেক কষ্টে গহীন অরন্যে এই জলপ্রপাতকে দেখতে প্রতিদিন আগমন ঘটছে দিনে দিনে পর্যটকদের ঢল।

যাওয়ার রাস্তাঃ ঢাকা>শ্রীমঙ্গল>কমলগঞ্জ- কুরমা চেকপোষ্ট>চাম্পারায় চা বাগান>কলাবনপাড়া>হামহাম জলপ্রপাত।

বিঃ দ্রঃ  উল্লেখিত সকল দর্শনীয় স্থানগুলো খুবই দুর্গম এবং ঝুঁকিপুর্ন। কেউ যদি এই সকল জায়গায় যেতে চান অবশ্যই এর সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

Leave a Reply

Scroll To Top