You are here: Home / পেট / বাজরিগার বা পাখির সাদা পায়খানা

বাজরিগার বা পাখির সাদা পায়খানা

যারা বিভিন্ন রকমের পাখি যেমন ধরুন জাবা, ফিঞ্চ ও বাজরিগার পালন করেন তারা প্রায়শই একটা সমস্যার সম্মুখীন হন তা হলো পাখির সাদা পায়খানা। এ ছাড়াও আরো অনেকগুলো রোগব্যাধি আছে, আগে থেকে প্রতিকারের  উপায় জেনে রাখলে আপনার উপকার হবে।

বাজরিগার
সমস্যা গুলো হলঃ
১। চোখের চারপাশের পালক কমে গেছে।
২। পিছনের পালকগুলো কমে গেছে।
৩। অনেক দ্রুত নিঃশ্বাস নিচ্ছে ।
৪। লেজ সবসময় উঠানামা করছে
৫। পূপ প্রথমে সাদা তারপর বাদামি, সবশেষে পানির মত।

সমাধানঃ
পাখিকে এখনই অ্যালোভেরা সল্যুশন দিন। সকাল থেকে একটানা ৬ টানা রেখে এরপর বদলে নরমাল পানি খেতে দিন।

সুস্থ থাকার জন্য পাখির প্রতিদিনের খাবার -
১| সীড মিক্স
২| যেকোনো ১ টি শাক / পাতা : পালং / কলমি /পুদিনা পাতা / সজনে পাতা / নিম পাতা / লাল শাক / ধনে পাতা ইত্যাদি
৩| যেকোনো ১ টি সবজি : এসপারাগাস/ ব্রকোলি/ বরবটি/বাধা কপি/ মিষ্টি কুমড়া/ ঝিঙ্গা / চিচিঙ্গা/শসা/সজনে ডাটা /মটরশুটি/সীম/ সীম এর বিচি/ কাচা পেপে/ পটল/ ঢেঁড়শ
৪| যেকোনো ১ টি ফল : আপেল / স্ট্রবেরি/ ফুটি / তরমুজ/ পেপে/ নাশপাতি/ পেয়ারা /কামরাঙ্গা/ আমড়া
৫| কাটল ফিশবোন্ (সাগরের ফেনা)
৬| ফুটানো এবং ফিল্টার করা টাটকা পানি : সকালে ১ বার & সন্ধায় ১ বার বদলে দিবেন
৭| সজনে পাতা লিফ – সাপ্তাহিক 2 দিন (এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম , প্রোটিন, সবরকমের ভিটামিন ও মিনারেল আছে)
৮| অঙ্কুরিত বীজ – সাপ্তাহিক ২ দিন
৯| সেদ্ধ বুটের ডাল – সাপ্তাহিক ২ দিন
১0| শুকনো কুমড়ো বীজ – সাপ্তাহিক ২ দিন
১১| ঘৃতকুমারী টুকরা – সাপ্তাহিক ২ দিন
১২| সপ্তাহে ১ বার অথবা চিকিত্সার প্রয়োজন অনুযায়ী – তুলসী দ্রবণ (ঠান্ডায়), aloe vera /ঘৃতকুমারী দ্রবণ (গরমে, হজম & পালকের সমস্যায়)| সকাল থেকে ৬ ঘন্টা রেখে এরপর বদলে দিয়ে সাধারণ পানি দিবেন|

*শাক সবজি ফল দেয়ার আগে সবসময় বড় একবাটি পানিতে ভালমত ডলে ধুবেন ৩ বার|
*ফল দেয়ার আগে বিচি ফেলে দিবেন|

সীডমিক্স অনুপাত -
বাজরিগার এর ক্ষেত্রে কাউন ৩ কেজি, চিনা ৫০০ গ্রাম, গুজি তিল ২৫০ গ্রাম, পোলাও চালের ধান ১ কেজি, ক্যানারি বীজ ২৫০ গ্রাম। এছাড়া ঠাণ্ডা আবহাওয়া, শীতের সময়ে, পাখি যখন ব্রিডিং এ থাকে অথবা খুব দুর্বল হয়ে যায় শুধুমাত্র তখন ২৫০ গ্রাম সূর্যমুখী বীজ আপনার পাখির সীডমিক্স এ যোগ করতে পারেন।
সীডমিক্স অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে টানা ৩ দিন কড়া রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

বাজরিগারের পুপ

বাজরিগারের সাদা পুপ

 

অ্যালোভেরা সল্যুশন বানানোর নিয়মঃ

ঘৃতকুমারী গাছের পাতার সবুজ অংশটি ফেলে দিয়ে ভিতরের শাঁস/জেলের মত অংশটি বের করে নিন। ১ কাপ পানি, ১ চা চামচ পরিমান ঘৃতকুমারীর শাঁস/জেল এবং ঘৃতকুমারী(Aloe vera)  এর সাথে ১/৪ চা চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। যদি ব্লেন্ডার না থাকে তাহলে ঘৃতকুমারীর শাঁস/জেল ছোট ছোট টুকরা করে হাত দিয়ে ভাল করে চটকে নিয়ে বাকি উপকরণগুলো শরবতের মত ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। উপকরণগুলো মিশানোর ফলে কিছুটা ফেনা তৈরি হবে যা কিনা কিছুক্ষন রেখে দিলে আপনা আপনি দ্রবনে মিশে যাবে। আরও ভালো ফলাফলের জন্য, দ্রবণটিতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন।

এই দ্রবণটি পরিষ্কার পানির পাত্রে পাখিকে খেতে দিন। সাধারণত ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পাখির খাঁচায় রাখা যাবে। এর পরে দ্রবণটি বদলে দিতে হবে। আপনি চাইলে দ্রবণটি এক সাথে বেশি পরিমানে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে পর পর ২ দিন পাখিকে খাওয়াতে পারেন। তবে ফ্রিজ থেকে বের করে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট পরে(ঠাণ্ডা ছাড়িয়ে) পাখির খাঁচায় দিতে হবে।
ঘৃতকুমারী পাতার টুকরা সপ্তাহে ২ দিন, ঘৃতকুমারী(Aloe vera) শরবত মাসে ১ বার টানা ৩ দিন, গরমের সময়ে ৩/৪ দিন পর পর একদিন দেয়া যেতে পারে।

 

 

লেখকঃ  সিফাত ই রাব্বানী  (Sifat E Rabbani)
(ন্যাচারাল ট্রিটমেন্ট কনসালটেন্ট, অফ “দ্যা ফীগ ট্রি, ইউ.এস.এ.”, বার্ড এক্সপার্ট)

 

Leave a Reply

Scroll To Top