You are here: Home / উপহার / নিজেই বানান মোমবাতির স্ট্যান্ড

নিজেই বানান মোমবাতির স্ট্যান্ড

গরমের তীব্রতা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। শহুরে জীবনে অভ্যস্ত আমরা লোডশেডিং এও মোটামুটি অভ্যস্ত; যখন একেবারে সহ্যের বাহিরে চলে যায় তখন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা – কর্মচারীদের খানিক গালাগালি করে নিজেদের সান্ত্বনা দিই। তা আমরা যে যত কথাই বলিনা কেন, লোডশেডিং কিন্তু আমাদের বেশ উপকারেও আসে। যেমন ছেলেবেলায় সন্ধায় যখন লোডশেডিং হতো তখন পাড়ার ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে ছোঁয়াছুঁয়ি, বরফ-পানির মতো খেলাগুলো খুব মজা করে খেলতাম। লোডশেডিং এর বদৌলতে আজও ঢাকা শহরে কুপিবাতি, মোমবাতি, হ্যাজাক লাইট, হারিকেন ব্যাবহারের আদি ঐতিহ্য বিদ্যমান। হাজারটা অপকারিতার মধ্যেও লোডশেডিং এর এমন কিছু চমৎকার উপকারী দিক খুঁজে বের করতে পেরে আমি অবশ্য যারপরনাই আনন্দিত। যাকগে, আসল কথায় আসি; লোডশেডিং এর কল্যানে মোমবাতির ব্যাবহার আমরা এখনও ভুলে যাইনি কিন্তু সেদিন হয়ত খুব দূরে নয় যখন মোমবাতির আলো আমাদের আর দরকার পড়বে না। বাস্তবতা হয়ত এমন নয়, হতে পারে আরও বহু বছর আমাদেরকে সেই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে কিন্তু আমি এমনটাই ভাবতে ভালোবাসি। তো যা বলছিলাম, আজকাল মোমের বহুমুখী ব্যাবহার আমরা দেখছি; ডেকোরেশন পিস তার মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় একটি ব্যাবহার। কিন্তু মোমের তৈরি ডেকোরেশন পিসগুলির যা দাম তাতে আমার এই মধ্যবিত্তের আয় ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারে না, তাই বলে কি আমার ঘর সাজবে না? আলবত সাজবে এবং আমার সামর্থ্যের মধ্যেই সাজবে, কিভাবে? চলুন শিখিয়ে দেই কিভাবে খুবই অল্প খরচে (একেবারে মধ্যবিত্তের নাগালে) সাজিয়ে তুলবেন আপনার লাল নীল সংসার।

প্রথম পদ্ধতিঃ  মার্বেল দিয়ে মোম স্ট্যান্ড তৈরি

যা যা প্রয়োজনঃ

১. ১ টি সিডি অথবা ডিভিডি (নতুন অথবা পুরানো, পুরানো বাতিল সিডিই ভালো হবে)

২. সুপার গ্লু জাতীয় আঠা (সাবধান! বাজারে কিন্তু নকল আঠার অভাব নেই!)

৩. লাল, নীল, হলুদ, সবুজ অথবা যেকোনো রঙের মার্বেল (বিভিন্ন রঙের মিলিয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে)

 

মোমবাতির স্ট্যান্ড

 

প্রথমে একটি সিডি অথবা ডিভিডির উপর মার্বেল গুলো আঠা দিয়ে একটির পাশে আর একটি (উপরের ছবির মতো করে) ভালভাবে লাগান। সিডির উপর মার্বেলগুলো সিডির চারিদিক দিয়ে লাগাতে হবে যাতে একটি সুন্দর গোল মার্বেল বেষ্টনীর সৃষ্টি হয়। এরপর মার্বেলগুলো একটার উপর আর একটা আঠা দিয়ে বসিয়ে দিতে থাকুন যাতে করে আরও একটি গোল মার্বেল বেষ্টনীর সৃষ্টি হয় । লাইন ঠিক রাখার জন্য সিডির ভিতরে একটি পানির বোতল অথবা গোল কোন জিনিস দিতে পারেন। এভাবে ৪ লেয়ার-এ মোমবাতির স্ট্যান্ড জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ৪*২২= ৮৮ টি মার্বেল। আপনি চাইলে এর চেয়েও বেশি লেয়ার দিতে পারেন। তার জন্য বেশি মার্বেল এর প্রয়োজন হবে। মনে রাখবেন লেয়ার বেশী হলে এটি কিন্তু মজবুতটাও একটু কম হবে। ব্যাস হয়ে গেল দারুণ একটি মোমবাতি স্ট্যান্ড, এবার জ্বালিয়ে দিন একটি মোমবাতি আর দেখুন আপনার হাতের কারিশমা; অন্যকেও দেখান আর জিতে নিন বাহবা! দেরি না করে এখনই বানিয়ে ফেলুন অতি জটিল মোম স্ট্যান্ড আর ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে।

 

২য় পদ্ধতিঃ

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ

১. যে কোনও সাইজের কাচের জার।

২. উলের সুতা যে কোনও রঙের।

মোমবাতির স্ট্যান্ড

যে কোন মাপের একটি কাচের জার নিন। জ্যাম/জেলির জার অথবা কাচের গ্লাসও হতে পারে শুধু খেয়াল রাখতে হবে যেন এর মুখটা প্রসস্থ হয়। এতে করে সহজেই জারের মধ্যে মোমবাতি স্থাপন করা যাবে। তারপর জারের মাথায় উলের সুতাটি পেঁচিয়ে একটি গিট দিয়ে নিন। এবার আপনার ইচ্ছেমত সুতাটি জারের মধ্যে পেঁচিয়ে নিন। সুতার শেষ প্রান্তটি আঠা অথবা গিঁট দিয়ে আর একটি সুতার সাথে লাগিয়ে দিন। হয়ে গেল মোমবাতির স্ট্যান্ড। আপনি চাইলে কয়েক রঙএর সুতাও একই সাথে ব্যবহার করতে পারেন।

মোমবাতির স্ট্যান্ড

পদ্ধতি ৩ ঃ

যা যা প্রয়োজনঃ

১. কাচের গ্লাস

২. বিভিন্ন রঙ এর টিস্যু

৩. পার্মানেন্ট মার্কার

৪. আইকা জাতীয় আঠা।

মোমবাতির স্ট্যান্ড

প্রথমেই টিস্যু আপনার পছন্দমত সাইজএ কেটে নিন। তারপর আঠা দিয়ে টিস্যুগুলো গ্লাস এর মধ্যে লাগান। আঠা না শুকান পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে আপনার ইচ্ছেমত আঁকিবুঁকি করুন। হয়ে গেল মোমবাতির স্ট্যান্ড।

মোমবাতির স্ট্যান্ড

এই মোমবাতির স্ট্যান্ডগুলো বানাতে আপনার বেশি খরচ করতে হবে না। ঘরের অব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করতে পারেন এই সুদৃশ্য স্ট্যান্ডগুলো। এই স্ট্যান্ডগুলো তৈরি করে আপনি আপনার প্রিয়জনকে উপহার হিসেবেও দিতে পারেন। তাহলে আর দেরি কেন নিজেই তৈরি করে ফেলুন মোমবাতির স্ট্যান্ড।

 

Leave a Reply

Scroll To Top