You are here: Home / পেট / ফরপাস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

ফরপাস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

ফরপাস

শোখিন পাখি পালকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রঙবেরঙের হরেক জাতের পাখি পালন যেমন বাজরিগার, ফিঞ্চ, জাভা, ককাটেল, লাভবার্ড, রোজেলা ইত্যাদি। তেমনি প্যাঁরাকিট প্রজাতির একটি ছোট্ট পাখি ফরপাস। দেখতে অনেক সুন্দর এই পাখি অনেকেরই এখন পছন্দ।

বৈজ্ঞানিক নাম = Forpus Coris Picillatus

 ফরপাস

প্রচলিত নাম = ফরপাস

পরিচিতি = প্যাঁরটলেট প্যাঁরাকিট প্রজাতির একটি ছোট্ট পাখি, দেখতে অনেকটা লাভবার্ডের মতো । প্রকৃতিতে এদেরকে ভেনিজুয়েলা, পানামা, কলম্বিয়া ও পেরুর বনাঞ্চলে পাওয়া যায় । বন্য পরিবেশে এরা ১০ থেকে ১৫ বছর বেচে থাকে । পাখালদের আন্তরিক সেবায় এরা খাঁচায় ২০ বছর পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে ।

Mutation = albino, american white, american yellow, blue, lutino, pied, yellow faced, wild green.

ফরপাস

দৈহিক গঠন = দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার ও ওজন প্রায় ৩০ গ্রাম । wild green এর সমস্ত শরীর প্রায় সবুজ, তবে এদের কোমরের উপরের অংশ ডানা ও চোখের চারিদিকে হালকা নীল থাকে । এদের চোখের রং বাদামী, পা হালকা বাদামী রঙের হয় । স্ত্রী পাখির শরীরে নীলের আধিক্য পুরুষ পাখির চেয়ে অনেক কম থাকে ।

স্ত্রী ও পুরুষ ফরপাস চেনার উপায় = সবুজ ও নীল প্রজাতির ফরপাস পাখীর চোখ দেখেই স্ত্রী ও পুরুষ পাখি সনাক্ত করা যায় । পুরুষ পাখিদের দেহের রং উজ্জ্বল, এদের দেহে নীলের আধিক্য স্ত্রী পাখির তুলনায় বেশী থাকে । তবে লুটিনো ফরপাসের গায়ে নীলের জায়গায় সাদা দেখা যায়, যা মাথার কাছে বেশী থাকে । albino & pied ফরপাসের বেলায় স্ত্রী ও পুরুষ সনাক্ত করা অনেক জটিল । এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ পাখালগণ পাখিদের আচরণগত পার্থক্য দেখা স্ত্রী-পুরুষ সনাক্ত করেন ।

ফরপাস

খাদ্য = লাভবার্ড ও ফরপাসের খাবার তালিকা একই ধরনের । খাঁচায় অবশ্যই কাটল ফিশ বোন রাখেন ।

প্রজনন = প্রতি ১ জোড়া ফরপাসের জন্য ২৪ x ১৮ x ১৮ সাইজের খাঁচা ব্যাবহার করুন । ফরপাস স্ত্রী পাখির বয়স কমপক্ষে ১৪ মাস ও পুরুষ পাখির বয়স ১২ মাস হবার পর প্রজননে দিলে ভালো বাচ্চা তোলে । প্রজননের শুরুতে খাঁচার এক কোণায় (৩০ x ৩০ x ৩০) সেন্টিমিটার সাইজের মাটির হাড়ী বা কাঠের বাক্স ঝুলিয়ে দিতে হবে । বাক্সের সামনের দিকে ৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি ছিদ্র থাকতে হবে যা দিয়ে পাখি সহজে বাক্সের ভিতরে আসা যাওয়া করতে পারে । এই সময় পাখিদেরকে অবশ্যই ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার বেশী করে খেতে দিতে হবে । হাড়ি বা বাক্সের ভিতরে বাসা বানাবার জন্য খাঁচার এক কোণায় চিকন করে কাঁটা খেজুর পাতা রেখে দিতে হবে । নির্দিষ্ট সময় পরে স্ত্রী পাখি ৫ থেকে ৭ টি ডিম দেয় । স্ত্রী পাখি একাই ডিমে ২০ থেকে ২৫ তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । পুরুষ পাখি স্ত্রী পাখিকে খাইয়ে দেয় । বাচ্চা ফোটার পর মা-বাবা দু’জনেই বাচ্চাদের খাইয়ে বড় করে । ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে বাচ্চা পাখিরা NestBox থেকে বেরিয়ে আসে ও নিজেরা খেতে শুরু করে ।

ফরপাস

বাচ্চা ফোটার পর খাঁচায় ভেজা পাউরুটি, সিদ্ধ ভুট্টা, ভেজানো ছোট গম ইত্যাদি দিতে হবে ।

রোগব্যাধি = ফরপাস কষ্ট সহিষ্ণু ও শক্ত প্রকৃতির পাখি । রোগব্যাধি এদের খুব একটা হয় না । তবে মাঝে মাঝে সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া হতে পারে । সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ পাখালদের সহযোগিতায় আপনার পাখিকে সুস্থ করে তুলুন ।।

Leave a Reply

Scroll To Top