You are here: Home / ঘর সাজাই / প্ল্যাস্টিকের চামচ দিয়ে শো-পিস পর্ব- ১

প্ল্যাস্টিকের চামচ দিয়ে শো-পিস পর্ব- ১

শো-পিস

প্ল্যাস্টিকের চামচ দিয়ে চন্দ্রমল্লিকা

আমদের ছোট বাগান বাড়ির পাশে ছিল একটি চন্দ্রমল্লিকা গাছ। ডার্ক অ্যান্ড লাইট শেডের ফুল হওয়ার কারনে চন্দ্রমল্লিকা যেন আমাকে একটু বেশীই আকর্ষণ করত। কোথায় সে দিন… হারিয়ে যাওয়া দিন কি ফিরে পাওয়া যায় ? ঘর সাজানোর তুমুল ইচ্ছায় হঠাৎ কি হল যে, আমার বাথরুমের আয়নায় একটি চন্দ্রমল্লিকা আনতে খুব ইচ্ছা করল। মানুষ তার আয়নায় কত কিছুই না যোগ করে, আমি না হয় শখের বশে একটি চন্দ্র মল্লিকাই লাগালাম! আমি করেছি তাই এখন আপনাদেরকে দেখাব, বলতে গেলে শেয়ার করব, কিভাবে আপনার বাথরুমে চন্দ্রমল্লিকা আনা যায় মানে, আমি কিভাবে এনেছি। ঠিক বাথরুম নয়, যেকোন জায়গায় মানে যেখানে আয়না পাওয়া যাবে আরকি। উঁহু ঘ্রাণ নয়, ফুলের একটি স্বচ্ছ ছবি। এবং যার পুরোটাই তৈরি হবে আপনার হাতের পরশে! এটি প্ল্যাস্টিকের চামচ দিয়ে শো-পিস এর প্রথম পর্ব।

প্রণালী জানানোর আগে, জানিয়ে দেই উপকরণ গুলো। যা হলঃ- 

১) কমপক্ষে ২৮৮টি প্ল্যাস্টিকের ওয়ান টাইম ইউজ চামচ (কম দামি গুলো হলে ভাল হয়, কাটতে সুবিধা হবে)
২) কেঁচি
৩) সুপার গ্লু
৪) হট গান গ্লু অথবা সল্যুশন আঠা
৫) MDF (এমডিএফ) বোর্ড।

শো-পিস

এই সোপিস টি তৈরির জন্য আমি ২৮৮টি ওয়ান টাইম ইউজ চামচ ব্যাবহার করেছি। তার পর প্রতিটির ধরার হাতল কেটে ফেলেছি। এজন্য সবচেয়ে কমদামী চামচ ব্যাবহার করা ভালো আমিও তাই ই করেছি, কমদামী চামচ কাটতে সুবিধা হয়।

শো-পিস

এর পরের কাজ হচ্ছে হেঙ্গার বা ধারক তৈরি। আমি কোন দামি বা ওজনে ভারি জিনিস ব্যাবহার করিনি। শুধুমাত্র দুটি বৃত্তাকার ১\৪ ইঞ্চি পুরুত্ব MDF বোর্ড ব্যাবহার করেছি। একটির পরিধি ১৮ইঞ্চি এবং অন্যটির পরিধি ১২ ইঞ্চি। দুটি বৃত্তাকার বোর্ড একসাথে লাগিয়ে রাখার জন্য আমি এই মাত্র কেটে ফেলে দেয়া কিছু চামচের হাতল ও গ্লু ব্যাবহার করেছি।

শো-পিস

 

চামচের হাতল গুলো নিচের দিকে গ্লু দিয়ে লাগানো থাকবে। আর এ অংশটি মোটা আর্টপেপার দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।

শো-পিস

এবার চন্দ্রমল্লিকা তৈরির পালা। কেটে রাখা চামচগুলো হট গ্লু অথবা সুপার গ্লু দিয়ে চিত্রে যে ভাবে দেখানো হয়েছে ঠিক সে ভাবেই লাগাতে হবে। কারণ বাইরের চামচগুলো ওভার ল্যাপ করার সুযোগ ভিতরের চামচগুলোর থেকে অনেক কম। আমি শুধু মাত্র একটির উপর একটি চামচের স্তর তৈরি করেছি।

শো-পিস

ভিতরের চামচগুলো লাগানোর জন্য আমি সবচেয়ে নিখুঁত করে কাটা চামচ গুলো ব্যাবহার করেছি। কারণ ভিতরের দিকটা সমান বৃত্তাকার না হয়ে আঁকাবাঁকা হলে দেখতে খারাপ লাগবে। মসৃণ করার জন্য সিরিজ পেপার দিয়ে ঘসে দিয়েছি।

শো-পিস

চামচ গুলো শুঁকিয়ে গেলে এবার রং করার পালা। আমি ব্রাশ আর রং ব্যাবহার করেছি। আপনারা চাইলে স্প্রে রং ব্যাবহার করতে পারেন। এতে রং বেশি লাগবে, খরচ বেশি হবে সেই সাথে সময়ও বেশি অপচয় হবে।

শো-পিস

তাই আমি ব্রাশ দিয়ে একটা একটা করে রং করেছি। কয়েক ধরণের শেড এখানে ব্যাবহার করা হয়েছে। ভেতরের অংশটা গাড় শেডের থেকে ধীরে ধীরে বাইরের দিকটা হালকা শেডের এভাবে, পুরো জিনিষটিই রং করা হয়েছে।

শো-পিস
ভিতরের দিকের চামচ গুলোতে আমি এক্রিলিক রং ব্যাবহার করেছি। প্রথম সারির চামচ গুলো আয়নাতে প্রতিফলিত হয়, তাই সেই চামচ গুলোতে আমি উভয় দিকেই রং করেছি। পরের সারির জন্য আমি হালকা সাদা রংয়ের মিশ্রন তৈরি করেছি। তার পরের দিকের সারিগুলো আরেকটু হালকা, এভাবে গাড় থেকে হালকা শেড তৈরি করেছি।

শো-পিস
এবার আয়না লাগানোর পালা। আমি হট গ্লু গান দিয়ে আয়না নির্ধারিত ফাঁকা স্থানে লাগিয়ে দিলাম। আপনি চাইলে সল্যুশন আঠা বা সুপার গ্লু দিয়েও আয়না বসিয়ে দিতে পারেন।

শো-পিস
আমি আমার ড্রইং রুমকে আলোকিত করার উপায় খুঁজছিলাম। কিন্তু যখন শো-পিস তৈরি করলাম অন্য সব কিছু যেন পানসে হয়ে গেল। যখন এর উপর আলো পড়ে, যেন আলো ছায়া খেলা করে। উপায় তোঁ দেখিয়ে দিলাম এবার আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

 

 

Leave a Reply

Scroll To Top