You are here: Home / পেট / ফ্রেঞ্চ মোল্ট এর চিকিৎসা

ফ্রেঞ্চ মোল্ট এর চিকিৎসা

ফ্রেঞ্চ মোল্ট  এর চিকিৎসা 

                                                          -সিফাত ই রাব্বানী-

               (সার্টিফাইড এভিকালচারিস্ট আমেরিকান ফেডারেশন অফ এভিকালচার ইউ.এস.এ.
                     ন্যাচারাল ট্রিটমেন্ট কনসালটেন্ট, অফ “দ্যা ফীগ ট্রি, ইউ.এস.এ.”) 

 পাখির ফ্রেঞ্চ মোল্ট

কিভাবে  কেন পাখি ফ্রেঞ্চ মোল্ট  আক্রান্ত হয়?

ফ্রেঞ্চ মোল্ট সাধারণত দুই ধরনের –

 ১। পলিওমা ভাইরাসের কারনে ফ্রেঞ্চ মোল্ট

২। শারীরিক অপুষ্টি বা দুর্বলতা জনিত ফ্রেঞ্চ মোল্ট

পলিওমা(Polyoma) নামক এক ধরনের ভাইরাসের কারনে পাখি ফ্রেঞ্চ মোল্টে আক্রান্ত হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে সব পাখিকে অতিরিক্ত ব্রিডিং করানো হয়, অপুষ্টিকর খাদ্য  এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লালন পালন করা হয় তাদের মধ্যে ফ্রেঞ্চ মোল্টের অনুরূপ লক্ষন দেখা যায়, পাখি খুবই দুর্বল হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যার কারনে পাখি খুব সহজেই রোগাক্রান্ত হয় এবং পালক ঠিকমত গজায় না।শারীরিক অপুষ্টি বা দুর্বলতা জনিত কারনে যেসব পাখির ফ্রেঞ্চ মোল্টিং হয় তাদেরকে অন্য পাখিদের থেকে আলাদা করার প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশের ফ্রেঞ্চ মোল্ট কেস গুলো ৯৯% ক্ষেত্রেই অপুষ্টি এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্রিডিং এর জন্যে হয়ে থাকে, পলিওমা ভাইরাস এর কারণে নয়| সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় ফ্রেঞ্চ মোল্ট সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।

 বর্তমানে অনেক পাখিপালক এবং ব্রিডাররা ফ্রেঞ্চ মোল্ট  সমস্যায় ভুগছেন। ফ্রেঞ্চ মোল্ট এবং এরচিকিত্সা সম্পর্কে নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো|

প্রাথমিক ফ্রেঞ্চ মোল্ট চিকিৎসাঃ

 

স্টেপ  : পাখির প্রতিদিনের খাবার - 

১| সীড মিক্স

২| যেকোনো ১ টি শাক / পাতা  : পালং / কলমি /পুদিনা পাতা / সজনে  পাতা / নিম পাতা  / লাল শাক / ধনে পাতা  ইত্যাদি

৩| যেকোনো ১ টি  সবজি : এসপারাগাস/ ব্রকোলি/ বরবটি/বাধা কপি/ মিষ্টি কুমড়া/ ঝিঙ্গা / চিচিঙ্গা/শসা/সজনে ডাটা /মটরশুটি/সীম/ সীম এর বিচি/ কাচা পেপে/ পটল/ ঢেঁড়শ

৪| যেকোনো ১ টি  ফল : আপেল / স্ট্রবেরি/ ফুটি / তরমুজ/ পেপে/ নাশপাতি/ পেয়ারা /কামরাঙ্গা/ আমড়া

 ৫| কাটল ফিশবোন্ (সাগরের ফেনা)

৬| ফুটানো এবং ফিল্টার করা টাটকা পানি : সকালে ১ বার & সন্ধায় ১ বার বদলে দিবেন

৭| সজনে  পাতা লিফ – সাপ্তাহিক 2 দিন (এতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম , প্রোটিন, সবরকমের ভিটামিন ও মিনারেল আছে)

৮|  অঙ্কুরিত বীজ – সাপ্তাহিক ২ দিন

৯| সেদ্ধ বুটের ডাল – সাপ্তাহিক ২ দিন

১0| শুকনো কুমড়ো বীজ  – সাপ্তাহিক ২ দিন

১১| ঘৃতকুমারী টুকরা – সাপ্তাহিক ২ দিন

১২| সপ্তাহে ১ বার অথবা চিকিত্সার প্রয়োজন অনুযায়ী – তুলসী দ্রবণ (ঠান্ডায়),  aloe vera /ঘৃতকুমারী দ্রবণ  (গরমে, হজম & পালকের সমস্যায়)| সকাল থেকে ৬ ঘন্টা রেখে এরপর বদলে দিয়ে সাধারণ পানি দিবেন|

*শাক সবজি ফল দেয়ার  আগে সবসময় বড় একবাটি পানিতে ভালমত ডলে ধুবেন ৩ বার|

*ফল দেয়ার আগে বিচি ফেলে দিবেন|

 

স্টেপ ২ : পাখির সীডমিক্স অনুপাত - 

বাজেরিগারঃ কাউন ৩ কেজি, চিনা ৫০০ গ্রাম, গুজি তিল ২৫০ গ্রাম, পোলাও চালের ধান ১ কেজি, ক্যানারি বীজ ২৫০ গ্রাম। এছাড়া ঠাণ্ডা আবহাওয়া, শীতের সময়ে, পাখি যখন ব্রিডিং এ থাকে অথবা খুব দুর্বল হয়ে যায় শুধুমাত্র তখন ২৫০ গ্রাম সূর্যমুখী বীজ আপনার  পাখির সীডমিক্স এ যোগ করতে পারেন।

ককাটিয়েলঃ চিনা ৩ কেজি, কাউন ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সূর্যমুখী বীজ ২৫০ গ্রাম, পোলাও চালের ধান ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, ক্যানারি ১ কেজি, গুজি তিল ২৫০ গ্রাম

সীডমিক্স অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে টানা ৩ দিন কড়া রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে।

 

স্টেপ ৩ : খাচার আয়তন –

পাখি বড় হোক কিংবা ছোট, সংখ্যায় কম কিংবা বেশি  , তাদের ওড়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার দরকার| যদিও তারা খাঁচায় বেঁচে থাকতে পারে, তবুও তারা পাখি এবং সুস্থ ও সবল থাকতে তাদের কিছুটা ওড়া উড়ি প্রয়োজন। তাই খাঁচায় পাখির ওড়া উড়ির জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকা আবশ্যক। আপনার পাখিকে বড় খাঁচায় রাখুন।  ন্যূনতম খাঁচার পরিমাপ-

বাজেরিগারঃ  ১৮-১৮-২৪, ককাটিয়েলঃ ২৪-২৪-২৪

 

স্টেপ  : খাঁচার আনুষাঙ্গিক উপকরণ – পাখির খাঁচায় বসার লাঠি(perch) পরিবর্তন করে নিমের কান্ড/ডাল ব্যবহার করতে হবে। খাচায়  পাখির  সংখ্যার উপর নির্ভর করে একাধিক খাবার পাত্র ও পানির কাপ থাকা উচিত ।  কিছু খেলনা, যেমন – দোলনা, আয়না , মই ইত্যাদী থাকলে পাখি খেলা ধুলা করতে পারবে, এতে করে পাখির ব্যায়াম হবে এবং পাখি  মনমরা থাকবে না । সুলতান বাবু  পাখিদের জন্য বেশ কিছু সুন্দর খেলনা এবং খাবার-পানির পাত্র বাজারজাত করাচ্ছে যেগুলোর দাম ও খুব বেশি না, কোয়ালিটি ও বেশ ভাল।

 

স্টেপ  : পাখির আদর্শ  পরিবেশ –

পাখিকে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন পরিবেশ এবং  সূর্যালোক ও বায়ু চলাচলের সুপরিসর ব্যাবস্থা আছে এমন জায়গায় রাখা দরকার ।পাখির খাঁচার কাছে অত্যাধিক শোরগোল এবং মানুষের ভিড় থাকা যাবে না । পাখির অবশ্যই দিনে  ২/৩ ঘন্টা সূর্যালোক দরকার এবং  খাঁচাটি এমন স্থানে রাখতে হবে যেন খাঁচায় অর্ধেক সূর্যালোক এবং অর্ধেক ছায়া পায়। খাঁচা অবশ্যই ঠান্ডা বাতাস , এসি এবং সরাসরি পাখার বাতাস থেকে দূরে রাখতে হবে কারণ এতে পাখি দ্রুত অসুস্থ হয়ে যেতে পারে  । রাতের বেলায় পাখির খাচা ঘরের ভেতর কোনো নিরব স্থানে রাখতে হবে এবং খাঁচার উপরের ২/৩ ভাগ অংশ পাতলা কাপড় (শীতের দিনে পাতলা কম্বল অথবা মোটা কাপড়)দিয়ে ঢেকে দিতে হবে । বাতি অবশ্যই নেভানো থাকতে হবে কিন্তু একটা নীল ডীম লাইট জ্বালিয়ে রাখতে হবে, কারণ রাতের অন্ধকারে পাখির নাইট ফ্রাইট (রাতের ভীতি) হয় যার কারণে পাখি খাঁচার ভেতর লাফালাফি অথবা উড়াউড়ি করে অনেক সময় আহত হতে পারে ।

স্টেপ ৬:  খাঁচার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা –

পাখিকে খাঁচা থেকে সরিয়ে খাঁচাটি ভালভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর নিম পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে আরেকবার ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুঁকাতে হবে। প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার এভাবে আপনার পাখির খাঁচা পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন খাঁচার ট্রে, খাবারের বাটি, পানির পাত্র ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

স্টেপ ৭ : প্রাকৃতিক মাল্টি ভিটামিন

সর্বদা প্রাকৃতিক মাল্টি ভিটামিন যেমন খাঁটি মধু, সজনে পাতা, ঘৃতকুমারী ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এগুলোতে প্রচুর পরিমানে  ভিটামিন এ, বি১ , বি২, বি৩, বি৫, বি৬, সি, ডি, ই, কে, বায়োটিন , প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ওমেগা ৩, ওমেগা ৬, ওমেগা ৯ , ক্যালসিয়াম এবং বিভিন্ন মিনারেলস বিদ্যমান|

আপনার পাখিকে সপ্তাহে ৩ দিন তাজা সজনে পাতা খেতে দিন। পাখি যদি না খায় তাহলে সপ্তাহে এক দিন, এক কাপ পানিতে এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ সজনে পাতা বাটা/ব্লেন্ড করে, আধা চা চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে সেই পানি পাখিকে খেতে দিন। এই মিশ্রণটি ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত খাঁচায় রাখা যাবে। এছাড়া ছায়ায় শুকানো সজনে পাতার গুড়া সীড মিক্সের সাথে মিশিয়ে পাখিকে খেতে দিতে পারেন।

ঘৃতকুমারী গাছের তাজা পাতা টুকরা করে কেটে প্রতিদিন পাখির খাঁচায় দিন। ঘৃতকুমারী দ্রবণ সপ্তাহে এক দিন খেতে দিতে পারেন। ১ চামচ ঘৃতকুমারী এর নরম শাস চটকে নিয়ে ১ কাপ / ২৫০ মিলি পানিতে ৬-৭ ফোটা লেবুর রস ও খাটি মধু মিশিয়ে দ্রবণ তৈরী করুন| এই মিশ্রণটি ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত খাঁচায় রাখা যাবে।

স্টেপ  :  গোসল – পাখি কে অবশ্যই গ্রীষ্মকালে গোসলের জন্য পানির পাত্র দিতে হবে ১/২ দিন পর পর এবং শীতকালে সপ্তাহে ২ বার  । গোসলের পাত্র টি অবশ্যই পাখির দেহের আকারের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ হতে হবে , বেশি বড় ও না কিংবা ছোট ও না । গোসলের পানি সকাল ১০-১১ টার মধ্যে খাঁচায় রাখতে হবে  এবং ২ ঘন্টা পরে খাঁচা থেকে বের করে ফেলতে হবে । যদিও পাখির উপর পানি স্প্রে করে গোসল করানো যায় কিন্তু পানির পাত্রে গোসল করানোই উত্তম কারণ এতে করে তারা নিজের ইচ্ছা এবং প্রয়োজন মতন গোসল সেরে নিতে পারে ।  মাসে  ২ বার গোসলের পানি তে নিম পাতা সেদ্ধ ব্যবহার করলে পাখিদের শরীর জীবাণু মুক্ত থাকে ।

 

স্টেপ  : সূর্যালোক - 

আপনার পাখির খাঁচা এমন স্থানে রাখুন যাতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট সূর্যের আলো সরাসরি পাখির খাঁচায় লাগে। আর খাঁচার এক অংশে ছায়ার ব্যবস্থা রাখুন যাতে পাখির গায়ে বেশী রোদ লাগলে পাখি ছায়ায় আশ্রয় নিতে পারে।

 

স্টেপ 0:

#কমপক্ষে ১ বছরের জন্য পাখির ব্রিডিং বন্ধ রাখুন। আর বছরে ২/৩ বারের বেশী কখনই ব্রিডিং করাবেন না।

স্টেপ ১১:

২ সপ্তাহ অন্তর অন্তর টানা ৫ দিন আপনার পাখিকে এপেল সিডার ভিনেগার(এসিভি) (Bragg Organic Raw Apple Cider Vinegar) মিশ্রিত পানি খেতে দিন।

বাজেরিগার এর জন্য ২৫০ মিঃ লিঃ পানিতে ৫ মিঃ লিঃ এসিভি। ককাটিয়েল এর ক্ষেত্রে ২৫০ মিঃ লিঃ পানিতে ১০ মিঃ লিঃ

এসিভি মিশ্রিত পানি খাঁচায় ৭ ঘণ্টা রেখে দিন। এর পরে এই পানি ফেলে দিয়ে সাধারণ পানি খেতে দিন। এভাবে ২ মাস যাওয়ার পরে প্রতি মাসে ১ বার পাখিকে এসিভি মিশ্রিত পানি খেতে দিন।

স্টেপ :

এসিভি ট্রিটমেন্টের পরে এক মাস আপনার পাখিকে টানা তিন দিন ঘৃতকুমারীর (Aloe vera) দ্রবণ  এর পরে ২ দিন বন্ধ রেখে একি ভাবে আবার তিন দিন ঘৃতকুমারীর(Aloe vera দ্রবণ  খেতে দিন। এক মাস পরে সপ্তাহে দুই দিন পাখিকে ঘৃতকুমারীর(Aloe vera) দ্রবণ  খেতে দিতে পারেন।

স্টেপ ৩:

১০০ মিঃ লিঃ পানির সাথে ২০ মিঃ লিঃ এসিভির দ্রবণ তৈরি করুন। সতর্কতার সাথে এই মিশ্রণটি পাখির যে সব পালক ক্ষতিগ্রস্থ  হয়েছে অথবা যে সব জায়গা থেকে পালক ঝরে পরে গেছে ওই সকল স্থানে স্প্রে করুণ। স্প্রে করার সময় খুবই সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পাখির চোখে, নাকে অথবা কানে না যায়। স্প্রে করার পরে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে পাখির গায়ে রোদ না লাগে। এভাবে ১০ মিনিট যাওয়ার পরে পাখির পুরো শরীরে সাধারণ পানি স্প্রে করে দিতে হবে। এর পরে পাখিকে কিছুক্ষন রোদে রাখা যেতে পারে। ৪ দিন পরে আরেকবার এই কাজটি করতে হবে।

স্টেপ ৪:

আপনি আপনার ফ্রেঞ্চ মোল্টে আক্রান্ত পাখির চিকিৎসায় অতি দ্রুত উপরে উল্লেখিত স্টেপ গুলো অনুসরন করা শুরু করুণ। এক সপ্তাহ পরে আপনি আমাকে আপনার পাখির অবস্থা জানাতে পারেন। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এই সকল পদক্ষেপ গুলো আপনি ঠিক ভাবে মেনে চললে আপনার পাখি সুস্থ হয়ে উঠবে।

প্রকট ভাবে ফ্রেঞ্চ মোল্টে আক্রান্ত পাখির ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে আমার কাছ থেকে কিছু অতিরিক্ত চিকিত্সা উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। এগুলো মুলত ভেষজ ফর্মুলা যা বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এই ফর্মুলার প্রয়োগ মাত্রা নির্ভর করবে উপরে বর্ণিত স্টেপ গুলো আপনার পাখির উপরে প্রয়োগ করার পরে আপনার পাখির কি ধরনের পরিবর্তন/উন্নতি ঘটছে তার উপর। ফ্রেঞ্চ মোল্ট শতভাগ নিরাময়যোগ্য এবং আমি উপরে বর্ণিত উপায়ে বেশ কিছু বাজেরিগার, ককাটিয়েল এর চিকিৎসা সফল ভাবে সম্পন্ন করেছি।

স্টেপ :

উপরের পদক্ষেপ গুলো প্রয়োগ করার ১ থেকে ২ সপ্তাহ পরে পাখির শারীরিক অবস্থার উন্নতির উপর নির্ভর করে চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায় শুরু করতে হবে।  প্রকট ভাবে ফ্রেঞ্চ মোল্টে আক্রান্ত পাখির  ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসা একি সাথে শুরু করতে হবে। এই সংক্রান্ত যে কোন প্রয়োজনে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন|

 

 

প্রয়োজনীয় রেসিপি -

 

নিমের দ্রবন (Neem Solution):

১০ টি নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে ১ লিটার পরিমাণ ফুটন্ত গরম পানিতে ছেড়ে দিন। এর পরে পাত্রটি ঢাকনি দিয়ে ঢেকে ১৫-২০ মিনিট ধরে হালকা আঁচে সিদ্ধ করুন। পানির রঙ হালকা সবুজাভ বাদামী হলে পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ঠাণ্ডা হতে দিন। পাখিকে গোসলের জন্য এই পানিটা পাখির গায়ে স্প্রে করে অথবা গোসলের পাত্রে দিতে পারেন।

ঘৃতকুমারী দ্রবন (Aloevera Solution):

ঘৃতকুমারী(Aloe vera) গাছের পাতার সবুজ অংশটি ফেলে দিয়ে ভিতরের শাঁস/জেলের মত অংশটি বের করে নিন। ১ কাপ পানি, ১ চা চামচ পরিমান ঘৃতকুমারীর শাঁস/জেল এবং ১/২ চা চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। যদি ব্লেন্ডার না থাকে তাহলে ঘৃতকুমারীর শাঁস/জেল ছোট ছোট টুকরা করে হাত দিয়ে ভাল করে চটকে নিয়ে বাকি উপকরণগুলো শরবতের মত ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। উপকরণগুলো মিশানোর ফলে কিছুটা ফেনা তৈরি হবে যা কিনা কিছুক্ষন রেখে দিলে আপনা আপনি দ্রবনে মিশে যাবে।

এই দ্রবণটি পরিষ্কার পানির পাত্রে পাখিকে খেতে দিন। সাধারণত ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পাখির খাঁচায় রাখা যাবে। এর পরে দ্রবণটি বদলে দিতে হবে। আপনি চাইলে দ্রবণটি এক সাথে বেশি পরিমানে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে পর পর ২-৩ দিন পাখিকে খাওয়াতে পারেন। তবে ফ্রিজ থেকে বের করে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট পরে(ঠাণ্ডা ছাড়িয়ে) পাখির খাঁচায় দিতে হবে।

 

অঙ্কুরিত বীজ (Sprouted Seeds) :

অঙ্কুরিত বীজ পোষা পাখির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। খোসা যুক্ত যেসব বীজ আমরা সাধারণত পাখিকে খেতে দেই সেসব বীজকে অঙ্কুরিত করে আমরা খুব সহজেই পাখির জন্য এই খাবারটি তৈরী করতে পারি। কিছু বীজের নামঃ শস্য বীজঃ ক্যানারি, black beans, black eyed peas, সীম এর বিচি. মটর ডাল, চিনা, কাউন, সরিষা, বাজরা, ছোলা, ঔষধি/ভেষজ বীজঃ মৌরি, মেথি, লাল ক্লোভার

অঙ্কুরিত বীজ প্রস্তুত প্রনালী নিম্নে দেয়া হলঃ

১। কিছু বীজ একটি পরিষ্কার পাত্রে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এর পরে একটি পরিষ্কার স্বচ্ছ কাচের পাত্রে অল্প একটু পানি দিয়ে(এমনভাবে পানি দিতে হবে যাতে বীজ ও পানি এক এ লেভেল থাকে পানি যেন বীজের উপরে উঠে না যায়।) ভিজিয়ে রাখতে হবে।

২। কক্ষ তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কাচের জারটি এভাবে রেখে দিতে হবে।

৩। এর পর বীজগুলো আবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।

৪। এই বীজ ও পাখিকে খেতে দিতে পারেন। অথবা আরও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কাচের পাত্রটিকে এমন ভাবে রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করে এবং বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়।

৫। নির্দিষ্ট সময় পরে বীজগুলো অঙ্কুরিত হলে এগুলো পাখিকে খেতে দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। বীজগুলো ১/২ চামচ অপরিশোধিত আপেল সিডার ভিনেগারে ১৫ মিনিট ধরে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে বীজে যদি কোন ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া থাকে তা দূর হবে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু এনজাইম, ভিটামিন ও মিনারেল বীজে যোগ করবে। আপেল সিডার ভিনেগার অবশ্যই জৈব (Organic),কাঁচা (Raw), অপরিশোধিত (Unfiltered) হতে হবে। এরকম আপেল সিডার ভিনেগারের একটি ভালো ব্র্যান্ড হলঃ Bragg (with the “Mother”)

৬। ১৫ মিনিট ধরে আপেল সিডার ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখার পরে অঙ্কুরিত বীজগুলোর ভালভাবে পানি ঝরিয়ে পাখিকে খেতে দিন. ৭। পাখির খাওয়ার পরে যেসব যেসব বীজ থেকে যায় তা ফ্রিজে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে পাখিকে আবার খেতে দেয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে পানিতে এবং অপরিশোধিত আপেল সিডার ভিনেগারে ধুয়ে খেতে দিতে হবে। আর খাওয়ানোর আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন বীজ থেকে টক জাতীয় গন্ধ না আসে।

উল্লেখ্য: স্টেপ ১ -৯  পাখিকে সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত অনুসরণ করা আবশ্যক 

 

(আর্টিকেল টি বাংলায় অনুবাদ করেছেন- নওশাদ নায়ীম)

Leave a Reply

Scroll To Top