You are here: Home / পেট / বাজরিগারের ব্রীডিং নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

বাজরিগারের ব্রীডিং নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

বাজরিগারকে বন থেকে লোকালয়ে ঘরের খাঁচায় স্থানান্তরিত করার ১০ বছর পরে সর্বপ্রথম ডিম দিয়েছিল। সেই থেকে এই পাখি গুলো আস্তে আস্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্রিডারদের হাতে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কত সালে এই পাখি আমদানি করা হয় এবং তারা কখন সর্বপ্রথম ব্রিড করে এটা অজানা। কিন্তু এই পাখি যে আমাদের দেশে অনেক সুন্দরভাবে ব্রিড করে ডিম বাচ্চা করে এটা আমাদের সবারই জানা।

বাজরিগারের ব্রীডিং

 

আমাদের দেশের সামগ্রিক পরিবেশ এই পাখি সর্বনিম্ন ৬ মাসে ব্রিড করতে পারে । তবে ঠিক ডিম দিয়ে বাচ্চা করতে পারবে বলেই যে ৬ মাস উত্তম তা নয়। সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে ১০ মাস তবে ৮ মাসেও করানো যায়। ৮ মাসে পাখি ডিম দেয়া এবং বাচ্চা ফোটানোর জন্য সম্পূর্ণ তৈরি থাকে। পূর্ব থেকে ডিম বাচ্চা করা এমন পাখি না কিনে নিউ এ্যাডাল্ট পাখি কিনুন।
বোঝার সুবির্ধাথে এই অংশটিকেও ৩ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে

১ম ধাপ :
১। ছেলে মেয়ে ১০-১৫ দিন আলাদা আলাদা খাঁচায় রাখুন।
২। পাখিকে টানা ৪-৫ দিন মাল্টি ভিটামিন খাওয়ান।
৩। হাড়ি পানিতে ধুয়ে ভিতরে কিছু কাগজ রেখে তাতে আগুন লাগিয়ে দিন এবং সর্বশেষে টিমসেন দিয়ে হাড়ি ভাল মত স্প্রে করে ধুয়ে নিন।
৪। হাড়িতে পারলে কাঠের সেভিংস দিন। কাঠের গুড়া দিবেন না।
৫। ছেলে পাখির খাঁচায় মেয়ে পাখি দিন।
৬। পাখি জোড়া নিবার পরে হাড়ি খাঁচায় স্থাপন করুন।
৭।হাড়ি দেবার পর খাঁচার স্থান বার বার পরিবর্তন করবেন না। নতুন আলাদা খাঁচা কিনলে আগে ছেলে পাখি নতুন খাঁচায় ঢুকান এর ২-৩ দিন পরে মেয়ে পাখি ওই খাঁচায় ঢুকান।
৮।পাখিকে বেশি বিরক্ত করবেন না।
৯। দিনে সকালে একবার সন্ধায় একবার মোট দুই বার এর বেশি হাড়িতে ডিম আছে কি না এইগুলা না দেখাই ভাল।
২য় ধাপ :
১। হাড়িতে যদি ডিম থাকে তবে প্রতিটি ডিম পাড়ার পর পর আপনি হালকা ভাবে মার্কার বা রং কলম দিয়ে ডিমের নম্বর চিহ্নিত করতে পারেন।
২। প্রতিটি ডিমের বয়স ৪-৫ দিন হলে ক্যান্ডেলিং করে ডিমের উর্বরতা যাচাই করতে পারেন।
৩। ক্যান্ডেলিং করার পরে উর্বর ডিমগুলো রেখে দিন এবং অনুর্বর ডিম গুলো ফেলে দিতে পারেন।
৪। প্রতিটি ডিম পাড়ার ১৮-২০ দিন পরে তা ফোটে।
৫। যদি ২০-২১ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের না হয়, তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চা ডিমের ভিতরে মারা গেছে।
৬। প্রথমবার ব্রিডিং এ বেশিরভাগ বাচ্চা ডিমের ভিতরে মারা যেতে পারে।
৩য় ধাপ:
১। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে প্রতিদিন ১-২ বার করে হাড়ি দেখতে হবে। হাড়ি দেখতে হবে কারন অনেক সময় বাবা মায়েরা তাদের বাচ্চাদের খাওয়ায় না।
২। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে পাতলা খাবার যেমন :ভেজা পাউরুটি( পানিতে ভিজিয়ে তারপর পানি চিপে বের করে ফেলতে হবে)অথবা ভুট্টা সিদ্ধ দেয়া যেতে পারে।
৩। প্রতিদিন ১-২ বার হাড়ি দেখতে হবে এবং প্রতিটি বাচ্চার খাবার থলিতে খাবার আছে কি না এটি দেখতে হবে।
৪। বাচ্চাদের পায়ে বা ডানাতে যদি তাদের মল শক্তভাবে লেগে থাকে তবে তা ছাড়িয়ে দিতে হবে।
৫। বাচ্চাদের পা ঠিক মত আছে কি না দেখতে হবে।
৬। ১-১.৫ মাসের মধ্যে পাখি একা খেতে শেখে এবং সে হাড়ি থেকে নিচে নেমে খেয়ে আসে। তাই বাচ্চা নেমে এলে তাদেরকে মালসা বা ছোট বাটি দিতে হবে।
৭। বাচ্চার শরীরে সকল পালক গজিয়ে গেলে এবং পাখি একা খেতে শিখলেই তাকে আলাদা করা উচিৎ। নতুবা মা/বাবা বাচ্চাকে মেরে ফেলতে পারে।
৮। ডিম দেয়ার বা বাচ্চার শরীরের সমস্ত পালক উঠলেই হাড়ি খুলে ফেলা উচিৎ নতুবা পাখি আবার টানা ডিম দিতে পারে।

 

লেখকঃ হীরা সাহা  ( সৌখিন পাখি ব্রিডার )

Leave a Reply

Scroll To Top