You are here: Home / পার্থিব / জেনে নিন আপনার ত্বকে ব্রণ কেন হয়।

জেনে নিন আপনার ত্বকে ব্রণ কেন হয়।

তৈলাক্ত ত্বকেই সবচেয়ে বেশি ব্রণ হয়। ত্বকের লোমের গোড়ায় সাদা বা কালো দানাদার কিছু বস্তু দেখা যায় অনেক সময় তা আবার পুঁজ সহকারে গহ্বরযুক্ত দানা বা বড় গোটার আকারে দেখা দেয়, এই গোটাই ব্রণ/একনি নামে পরিচিত। এটি গ্রীক শব্দ আকুন (Akun) থেকে এসেছে যার অর্থ ত্বকের ভিতর থেকে কোন কিছুর উদগীরণ হওয়া। ত্বকের এই সমস্যাতি শুধু যে মুখে হয় তা নয় ঘাড়, বাহু, পিঠ ও বুকের উপরিভাগেও হতে পারে।

ব্রণ

ব্রণ

কেন হয়ঃ ত্বকের সিবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সবসময় সিবাম (এক ধরনের তৈলাক্ত রস) নিঃসৃত হয়, যা আমাদের ত্বককে মসৃণ, নরম ও তৈলাক্ত ভাব বজায় রাখতে সাহাজ্য করে। এই সিবামের নিঃসরণ সবার সমান নয়, কখনও কখনও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নিঃসরণ হয়। অন্যদিকে আমাদের লোমের গোড়ায় একধরনের প্রোটিন জাতীয় পদার্থ কেরাটিন আছে যা ধূলাবালির সাথে মিশে লোমকূপের নিঃসরণ পথ বা ছিদ্র বন্ধ করে দেয়, এর ফলে সিবাম বের হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলেই ব্রণের উৎপত্তি হয়, যা পরবর্তিতে এক ধরনের জীবাণু (প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনিস) দ্বারা সংক্রমিত হয়। যার ফলে আরো তীব্র আকার ধারন করে। এই সিবাসিয়াস গ্রন্থির অবস্থান মুখের ত্বকে বেশি বিধায় ব্রণের প্রকোপ মুখের ত্বকেই বেশি হয়।

acne_formation_process3_large_soukhin

এখন প্রশ্ন হতে পারেন কেন কারো কারো সিবামের নিঃসরণ বেড়ে যায়।

সিবামের নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্যে যে হরমোন দায়ী তার নাম এনড্রোজেন এছাড়াও টেস্টোস্টেরন, ডিহাইড্রোটেস্টস্টেরন, ডিহাইড্রোএপিয়ানড্রোস্টেরন সালফেট হরমোন ব্রণের সাথে জড়িত। এনড্রোজেন যত বেশি নিঃসৃত হবে সিবামের নিঃসরণও ততই বাড়বে এবং ত্বকে ব্রণের মাত্রা বেড়ে যাবে। এছাড়াও ব্রণের প্রকোপ কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া নির্ভর করতে পারে আপনার শারিরিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের কারনে। অনেক বেশি দুশ্চিন্তা, মানসিক অশান্তি হলে এবং মেয়েদের প্রতিবার মাসিকের আগে ব্রণের তিব্রতা বেড়ে যায়। আরো কিছু বিষয় কোষ্ঠকাঠিন্য, কৃমি, শরীরে পুষ্টির অভাব, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খেলে ব্রণের সম্বাবনা থাকে।

কিছু পরিবেশগত দিক যেমন বাতাসের আদ্রতা বেশি হলে কিংবা অতিরিক্ত গরমের কারনেও হতে পারে। অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করলে, স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহারে ও জন্ম নিয়ন্ত্রন বড়ি খেলেও ব্রণের সমস্যা হতে পারে।

প্রকারভেদঃ

হোয়াইটহেডস ব্রণ

হোয়াইটহেডস ব্রণ

১। হোয়াইটহেডস (Whiteheads): ত্বকের লোমকূপ বন্ধ থাকার কারনে সিবাম নিঃসরণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে ত্বকের মরা কোষ ও ব্যাকটেরিয়া মিলে একধরনের সাদা ফুষ্কুরি তৈরি করে। তবে হোয়াইটহেডস অন্যান্য ব্রণের চেয়ে কম সময় ধরে থাকে অর্থাৎ এদের জীবনচক্র ছোট।

ব্ল্যাকহেডস ব্রণ

ব্ল্যাকহেডস ব্রণ

২। ব্ল্যাকহেডস (Blackheads): লোমকূপ যখন আংশিকভাবে বন্ধ থাকে তখন কিছুটা নিঃসৃত তৈল, ব্যাকটেরিয়া ও মরা কোষ মিলে ব্ল্যাকহেডস তৈরি করে। ব্ল্যাকহেডস দীর্ঘস্থায়ী হয়।

প্যাপুলস  ব্রণ

প্যাপুলস ব্রণ

৩। প্যাপুলস ( Papules): এই ধরনের ব্রণের সাধারনত কোন মাথা থাকেনা অর্থাৎ বাহিরের দিকে খুব বেশি ফুলে থাকেনা। এই ধরনের ব্রণের সমস্যা হলে ব্রনে চাপাচাপি না করাই ভালো, চাপাচাপি করলে মাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে।

পাসটিউলস ব্রণ

পাসটিউলস ব্রণ

৪। পাসটিউলস (Pustules): চারপাশে লাল মাঝখানে হলুদ বা সাদা রঙ থাকে। পাসটিউলস হলে ব্যথা থাকতে পারে।

তিব্রতা অনুযায়ী ২ রকমের হয়-

নডিউল ব্রণ

নডিউল

১। নডিউল (Nodules): নডিউল আকারে অন্যান্য ব্রণের তুলনায় অনেক বড় হয়, এর সাথে ব্যাথা থাকতে পারে। সাধারনত নডিউল মাসব্যাপী স্থায়ী থাকে। ত্বকের নিচে অনেকখানি জুড়ে এর অবস্থান থাকার কারনে এটি সহজে ভালো হয়না বার বার ফোলা আকারে দেখা দেয়। খোঁচাখুঁচি বা চাপাচাপি করলে এটি মারাত্মক রুপ নিতে পারে।

সিস্ট ব্রণ

সিস্ট

২। সিস্ট (Cysts): সিস্ট দেখতে অনেকটা নডিউলের মত হলেও নডিউলের চেয়ে ছোট হয়, এতে মোটামুটি ব্যথা থাকে সাথে পুঁজ হয়। খোঁচাখুঁচি করলে এটি অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী রুপ নেয়।

এছাড়াও আরো কিছু প্রকারভেদ আছে যেমনঃ

একনি রোজাসিয়া ব্রণ

একনি রোজাসিয়া

একনি রোজাসিয়া (Acne Rosacea): একনি রোজাসিয়া সাধারনত বেশি হয় যাদের বয়স ৩০ এর বেশি। এটি লাল রঙের হয়ে থাকে, শরিরের বিভিন্ন যায়গা যেমন চিবুক, কপাল, গাল ও নাকে একনি রোজাসিয়া দেখা যায়। মহিলাদের এই ব্রনে আক্রান্ত বেশি হতে দেখা যায়, তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে একনি রোজাসিয়া গুরুতর হয়।

গুরুতর অবস্থা অনুযায়ী আবার কিছু ব্রণের প্রকারভেদ আছে যেমনঃ

একনি কনগ্লোবাটা ব্রণ

একনি কনগ্লোবাটা

একনি কনগ্লোবাটা (Acne conglobata): একনি কনগ্লোবাটা সাধারনত পুরুষদের হয়ে থাকে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এটি অনেক জায়গা জুড়ে হয় একটির সাথে আরেকটি জোড়া লেগে থাকে ও আস্তে আস্তে বিস্তার লাভ করে। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের ছেলেদের একনি কনগ্লোবাটা বেশি হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

একনি ফালমিনাস ব্রণ

একনি ফালমিনাস

একনি ফালমিনাস (Acne fulminans): কম বয়সের ছেলেদের ত্বকে একনি ফালমিনাস হয়ে থাকে যা অনেকটা নডিউলের মতো দেখতে এবং এতে ব্যথা থাকতে পারে।

উপরোক্ত বিভিন্ন প্রকার ছাড়াও আরো অনেক ধরনের ব্রণ/একনি হয়ে থাকে আবার কিছু আছে যেগুলো গুরতর অবস্থায় অন্য আরেক ধরনের ব্রনের আকার ধারন করে। যাদের অনেক বেশি সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ। এছাড়াও যুগ যুগ ধরে ব্রণ নিরাময়ে ভেষজ ব্যবহৃত হয়ে আসছে, অনেকেই নিজে নিজেই এই সমস্ত ভেষজ ব্যবহার করে থাকেন।

 

কৃতজ্ঞতাঃ ডা. আলমগীর মতি

Leave a Reply

Scroll To Top