You are here: Home / পেট / কবুতরের /পাখির পেটে ডিম আটকে যাওয়া (Egg binding )

কবুতরের /পাখির পেটে ডিম আটকে যাওয়া (Egg binding )

পাখির পেটে ডিম আটকে যাওয়া

ডিম আটকানো বা পাখির পেটে ডিম আটকে যাওয়া (Egg binding ) মেয়ে কবুতরের/পাখির অন্যতম সমস্যা। ডিম পাড়ার সময় এটি cloaca কাছাকাছি এসে অথবা আরও ভিতরে অতিক্রম না করতে পেরে প্রজনন নালির মধ্যে এসে আটকে থাকতে পারে। এটি একটি সাধারণ এবং সম্ভাব্য গুরুতর অবস্থার নির্দেশ করে। ডিমের আটকানো (Egg binding ) সাধারণত তরুণ মেয়ে পাখির হয় বেশি। যদিও ক্রনিক ডিম পাড়ার এই অগণ্য স্বাস্থ্য সমস্যা ফলে ক্যালসিয়াম ঘাটতি ও পুষ্টির ফলে হয়, যা hypocalcaemia হিসাবে পরিচিত। এর ফলে জরায়ুর পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়, যে কারনে জরায়ুর ভিতর ডিম ধাক্কা দিতে অক্ষম হয়। অত্যধিক ডিম পাড়ার কারনেও এটা হতে পারে।

কবুতরের পেটে ডিম আটকে যাওয়া

ডিমের আটকানোর (Egg binding ) কারনে যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ প্রদর্শিত হতে পারে মধ্যে নীচে কয়েকটি তালিকা দেওয়া হল:

• উদর জোরে টানাটানি।
• দ্রুত বা জড়তা পূর্ণশ্বাস বা শ্বাস সমস্যা।
• পিছনে ফোলা ভাব।
• কোষ্ঠকাঠিন্য ভাব।
• উইংস ঝুঁকিয়া পড়া।
• পালকে তালগোল পাকান।
• প্রশস্ত ভঙ্গিমা।
• ফোলান তলপেট।
• নৈমিত্তিক আকস্মিক মৃত্যু।
• পুচ্ছ/লেজ নড়ান বা নামিয়ে রাখা।
• ডিপ্রেশন.
• খাঁচার মেঝেতেব সা।
• পা অবস বা পক্ষাঘাত। (যদিও অন্য কারনেও পা অবস বা পক্ষাঘাত হতে পারে।)

কবুতরের ডিম আটকে যাওয়া

কারণ:

১) কম ক্যালসিয়াম স্তর বা Hypocalcaemia সিন্ড্রোম।

২) অপুষ্টি।

৩) ছোট খাঁচা বা বেশি ডিমে তা বা ডিম পাড়া অথবা বেশি বাচ্চা পালন।

৪) অসুস্থ এবং বৃদ্ধ পাখি।

৫) সঙ্গি বিহীন একাপাখি।

৬) বড় আকার ডিম।

৭) বিশেষ কিছু রোগের সংক্রমণ।

৮) অন্য কবুতর দ্বারা বিরক্ত থেকে।

৯) জরায়ুর সংক্রমণ।

১০) জরায়ুর টিউমার।

প্রতিরোধ:

ক) ভবিষ্যতে স্বাভাবিক ডিমপাড়ার ব্যাবস্থা জোরদার এবং ডিমের আটকানো (Egg binding ) প্রতিরোধে উচ্চ ক্যালোরি, উচ্চ ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার প্রদান করতে হবে।

খ) ঘনঘন ডিমপাড়ার থেকে আপনারপাখিকে নিরুত্সাহিত / বন্ধ করতে পারেন।

গ) সম্ভবপাখির সাইট অপসারণ নীড় তৈরি উপাদান

ঘ) loft এলাকায় উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করবেন না।(বিশেষ করে ডিমপাড়া ও তা দেবার সময়।)

ঙ) বর্ণালী আলো প্রদান।

চ) আপনারপাখির মধ্যে প্রজনন আচরণ নিরুত্সাহিত করা। প্রয়োজন হলে “সঙ্গী” থেকে পৃথক করা।

ছ) খাঁচার অভ্যন্তর পুনরায় সজ্জিত এবং খাঁচা অবস্থানপরিবর্তনকরা।

জ) ব্রিডিং জোড়াকে নিয়মিত ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স দিতে হবে। বিশেষ করে ডিমপাড়ার সম্ভাবনার সময়।

সতর্কতা:

নিজের আঙ্গুল বা চাপ দিয়ে ডিম বের করার চেষ্টা করবেন না, এটা আপনার পায়রার গুরুতর বা স্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নালীর ভিতর সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ টিস্যুর সংক্রমণ বা ক্ষতি হতে পারে। বা ভিতরে ডিম ভেঙ্গে স্থায়ী সংক্রমণ হতে পারে। যা তৎক্ষণাৎ চিকিত্সা না করে ছেড়ে যাওয়া হলে – মৃত্যুও হতেপারে।

চিকিত্সা:

• হোমিও Pulsatilla mother, ৩ ফোটা অল্প একটুপানির সাথে ২ ঘণ্টা পরপর দিতে হবে।

• মেয়ে কবুতর কে হালকা একটু (পরিশ্রান্ত) করার ব্যাবস্থা করতে হবে।

• সন্দেহ ভাজন ডিমের আটকানোর (Egg binding )ক্ষেত্রে মেয়ে পাখিকে একটি উষ্ণ এলাকায় রাখুন এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক যত্ন প্রদান করুন।

• বাথরুম এর ভিতর বা কোন রুমে একটি বাষ্পীয় রুম এর মত ব্যাবস্থা করতে হবে এবং তার মধ্যেপাখি রাখুন, 85-90 ডিগ্রী ফারেনহাইট / আর্দ্রতা: 60% তাপমাত্রা ভাল, অথবা গরম পানিতে ভিজান গামছা/তোয়ালে দিয়ে একটু সেঁকের মত ব্যাবস্থা করুন।

• উষ্ণ জলস্নান করানোর ব্যাবস্থা করতে হবে।

• তেল দিয়ে পেছনের এলাকায় পেশী ম্যাসেজ করতে হবে, মেসেজিং করার সময় খুব সাবধান কারন, জোরে হলে ডিম ভিতরে ভাঙ্গা হতে পারে যা জীবন নাশক হতে পারে।

• পেছনে পিচ্ছিল কারক পদার্থ হালকা করে দেয়া যেতে পারে এটি ভাল সহায়ক হতে পারে।

• ডিমের সফল পাসিং এর জন্য স্যালাইনে পানি খাওয়ানোর বাবস্থা করতে হবে এবং অন্য কবুতর থেকে আলাদা করতে হবে ও শান্ত রাখতে হবে।

সাধারণত ১ ও ২ নং চিকিৎসাতেই এ থেকে পরিত্রান পওয়া যায়। তারপর একটু বেশি সতর্কতা হিসাবে একটু বিশেষ যত্ন নিলে অনেক অনাখাংকিত পরিস্থিতি থেকে বাচা যাবে। উপররোক্ত সব ব্যাবস্থা একসঙ্গে নেয়ার দরকার নাই, যে কোনো দু একটা করলেই হয়।
(আপনি বা আপনারপাখি অন্য কোন অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে, একটি যোগ্যতা সম্পন্ন পশু চিকিত্সকের সাথে যোগাযোগ করুন। একজন পশু চিকিত্সক সঠিকভাবে আপনার পোষা জন্তুর এই সমস্যা নির্ণয় করতে পারবেন, এবং একটি দ্রুত পুনরুদ্ধারের রাস্তা বলে দিবে ন। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কথাশুনে আপনার কবুতরের প্রাণ নাশের কারন হবেন না, কথাটা দয়া করে একটু মনে রাখবেন।)

 

লেখকঃ Kf Sohel Rabbi 

Leave a Reply

Scroll To Top