You are here: Home / বারোয়ারি / লবস্টার: সম্ভাবনার নতুন নাম

লবস্টার: সম্ভাবনার নতুন নাম

সামুদ্রিক মাছের প্রতি যাদের দুর্বলতা আছে তারা নিশ্চয়ই লবস্টার চেখে দেখেছেন। এটি একটি বিশেষ গোত্রের চিংড়ি মাছ। উচ্চ মূল্যমানের আধিকারী সামুদ্রিক খাদ্য হিসেবে লবস্টারের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বজুড়ে ভোজনরসিকদের নিকট এটি অতি প্রিয় একটি নাম।

লবস্টার

লবস্টার দিয়ে তৈরি সুস্বাদু খাবার

এটি আর্থপোডা পর্বের  ক্রাস্টাশিয়া শ্রেণীর অন্তর্গত মোটা মাথাবিশিষ্ট ও কঠিন খোলসে মোড়ানো চিংড়ির ন্যায় এক ধরণের সামুদ্রিক প্রাণী।  এর মাথা বেশ মোটা এবং শরীর কঠিন খোলসে আবৃত । ক্রাস্টাশিয়া শ্রেনীর প্রানিদের মধ্যে এটি সবচেয়ে সুস্বাদু এবং অতুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী । লবস্টারের মাংসল পুচ্ছ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যাকে সবাই ‌‌লবস্টারটেইল বলে থাকে । পর্যটকদের নিকট এ মাছটি খুবই জনপ্রিয় । দক্ষিণ আটলান্টিক সমুদ্রের লবস্টারের সুনাম সবচেয়ে বেশি এবং খেতেও সুস্বাদু ।

লবস্টারের সম্মুখের পা দুটোর থাবা কাঁকড়ার পায়ের ন্যায় বেশ বড়, চ্যাপ্টা ও সদৃশ। এরা দীর্ঘ জীবনের কারণে অবিশ্বাস্য বড় আকৃতির হয়ে থাকে। কানাডার নোভা স্কোটিয়ায় এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লবস্টারের সন্ধান পাওয়া গেছে যার ওজন প্রায় ২০.১৫ কিলোগ্রাম বা ৪৪.৪ পাউন্ড(গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড) ।

এরা গভীর সমুদ্রের প্রানী। গভীর সমুদ্র অথবা প্রবালপ্রাচীরের কাছেই এদের পাওয়া যায়। এটি প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্তিক এবং ভারত মহাসাগর সহ সকল উপসাগরের পরিবর্তনশীল আবহাওয়া সহ্য করতে সক্ষম । বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ , টেকনাফ, কক্সবাজার,টেকনাফ এলাকায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। বঙ্গোপসাগরের এলিফেন্ট পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্ত হতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকায় সামুদ্রিক চিংড়ির সাথে এদের আহরণ করা হয়ে থাকে। স্থানীয় ভাষায় এদের নাম চুয়া ইচা ।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত লবস্টারগুলোঃ
লবস্টার

 

১। Panulirus polyphagus লবস্টারটিকে ইংরেজিতে বলে mud spiny lobster (স্থানীয় নাম চুয়া ইচা)

 

 

লবস্টার

 

 

২। Panulirus versicolor লবস্টারটিকে ইংরেজিতে বলে painted spiny lobster (স্থানীয় নাম চুয়া ইচা)

 

লবস্টার চিংড়ি

 

 

৩। Panulirus ornatus লবস্টারটিকে ইংরেজিতে বলে ornate spiny lobster (স্থানীয় নাম চুয়া ইচা)

 

 

লবস্টার

 

৪। Thenus orientalis লবস্টারটিকে ইংরেজিতে বলে flathead lobster (স্থানীয় নাম বেলচা-নাসা লবস্টার বা বেলচাচুয়া ইচা)

 

 

দুঃখের বিষয় এই যে বাংলাদেশের কোথাও এর চাষ হয়না বা চাষের রেকর্ড নেই । ১৯৯১-৯২ সালে বাংলাদেশ লবস্টারের রপ্তানি করে ১৭২ মিঃ টাকার সমপরিমাণ  বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে । বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং টেকনাফের আশেপাশের এলাকা লবস্টারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী । বঙ্গোপসাগরে এদের অবস্থানের এলাকাগুলো সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে এটি। মজার এ মাছটির স্বাদ নিতে হলে আপনাকে সেন্টমার্টিন যেতে হবে। সেখানেই এর দাম প্রতি কেজি ২০০০ টাকা।

লবস্টার

সেন্টমার্টিন গেলে এ ধরণের তাজা লবস্টারের স্বাদ নিতে পারবেন

Leave a Reply

Scroll To Top