You are here: Home / পেট / সৌখিনদের সৌখিন কবুতর পালন- পর্ব ৩

সৌখিনদের সৌখিন কবুতর পালন- পর্ব ৩

কবুতর পালন টিপস

১৪) খামারের নিরাপত্তাঃ
নিরাপদ খামার তৈরি আদর্শ খামারের পূর্ব শর্ত। খামার গঠনের পর আপনাকে চোর ও অনাখাঙ্খিত আগুন্তুক প্রতিরোধ করতে হবে। যেমনঃ বাইরের পাখি, বেড়াল, বেজি, কাক ইত্যাদি। আপনার কোন অতিথিকে খামার দেখাতে হলে অবশ্যই খামারের স্যান্ডেল ব্যাবহার করবেন। বাইরের ময়লা যেন আপনার খামারে প্রবেশ না করে। আর অনর্থক কবুতরদের বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর এ জন্য নিয়মিত জীবাণু নাশক ছিটাতে হবে। হাঁট থেকে কবুতর কেনার ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকবেন। আর নতুন কবুতর আনার পর কিছু নিয়ম মেনে তারপরই কেবল খামারে প্রবেশ করাবেন। আর খামারে নেট লাগাতে ভুলবেন না যাতে, মশা, মাছি ও পোকা, মাকড়ের হাঁট থেকে রক্ষা পেতে।

১৫) খামারের পরিচর্যাঃ
একটা খামারের মূল শত্রু হল ইদুর, তেলাপোকা ও ধুলা। তাই যে কোন ভাবে এগুলো থেকে আপনার খামার কে মুক্ত রাখতে হবে। আর এরই লক্ষে আপনাকে প্রতি ২-৩ দিন অন্তর জীবাণু নাশক ছিটাতে হবে ও কবুতরের মল পরিস্কার করতে হবে। এর জন্য আপনি ট্রেতে কাগজ বা কাপড় দিয়ে রাখতে পারেন। আর খাঁচাতে এক টুকরা কাঠ দিতে ভুলবেন না। আর পারলে ছোট একটুকরা কাপর বা চট(বস্তা কেটে) দিলে ভাল হয়। ডিম পারার জন্য হাড়ি দিবেন। আর তা নিয়মিত পরিস্কার করবেন। খাঁচাতে নাম্বার দিবেন, আর খাবার ও পানির পাত্রেও নাম্বার দিতে ভুলবেন না। ডিম পাড়ার পর ডিমের পরিচর্যা করবেন নিয়মিত। কারণ ডিমে যদি ৯০% আদ্রতা না থাকে তাহলে বাচ্চা ফুটার জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ভাবে মাসিক ছক করে, উন্নত মানের ভিটামিন ও মিনারেলস দিবেন,লিভার টনিক দিবেন, ভালো মানের খাবার দিবেন আর ২ মাস অন্তর ক্রিমির ঔষধ দিবেন।( মানুষের টা নয়)। সাল্মনেল্লা কোর্স করাবেন প্রতিমাসে(অ্যান্টিবায়টিক দিয়ে নয়), প্রতি সপ্তাহে নিজের মত করে গোসলের ব্যাবস্থা করবেন। সপ্তাহে না পারলে ১৫ দিনে বা মাসে একবারের জন্য হলেও এই ব্যাবস্থা করবেন। ৩ মাস অন্তর ধরে উকুন নাশক শ্যাম্পু দিয়ে গোসলের ব্যাবস্থা করবেন। সাধারণত একার পক্ষে কোন খামার পরিচর্যা সম্ভব হয় না। আর এ জন্য বাসার মানুষদের এতে সহযোগিতা নিতে পারেন। অথবা কেয়ার টেকার নিতে পারেন। কারন আপনি হয়ত চাকরি করেন বা ব্যাবসা করেন বা স্কুল বা কলেজে পড়েন। তাই হয়ত সময় নাও পেতে পারেন দুপুরে বা অন্য সময়ে যথাযথ ভাবে পরিচর্যা করার। আর এই ওজুহাতে আপনি আপনার খামারের কোন প্রকার গাফলতি করার কোন সুযোগ নেই। কারণ একটা খামার কে যেমন লাইনে আনতে কষ্ট করতে হয়। আর একবার ঠিক হয়ে গেলে আপনাকে এটা নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আবার যদি কোন কারনে লাইনচ্যুত হয় তাহলে তাকে আবার সঠিক পথে আনতে অনেক বেগ পেতে হয়। তাই এ ব্যাপারটা একটু খেয়াল রাখবেন। কোন কবুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে অনতিবিলম্বে এর চিকিৎসা শুরু করতে হবে। যাতে করে অনাখাংকিত পরিস্থিতির মোকাবেলা সম্ভব হয়। আর বাচ্চা যখন বড় হবে ও খাওয়া শিখবে তখন তাদের তাড়াতাড়ি আলাদা করার ব্যাবস্থা করতে হবে। তা না হলে তারা পরবর্তীতে ডিম বা বাচ্চা কে মেরে ফেলার চেস্টা করতে পারে।

১৬) কবুতরের আচার আচারন লক্ষ করা ও খামারে সময় দেয়াঃ
আপনার খামারের অন্যতম সাফল্য নির্ভর করে আপনি যদি আপনার কবুতরের আচার-আচরন ঠিকমত খেয়াল করতে পারা আর না পারার উপর। কারণ এক এক কবুতরের আচরণ এক এক রকম। তাই যখন এর পরিবর্তন দেখবেন তখনই বুঝবেন এর কোন সমস্যা হয়েছে। আর এর জন্য আপনাকে কিছু সময় কাটাতে হবে খামারে আপনার ভালবাসার কবুতরের পাশে। আর যেটা খুবই জরুরি সেটা হল রোগাক্রান্ত কবুতরের লক্ষণ গুলো ভাল মত লক্ষ করা, তার মধ্যে পায়খানা টা অন্যতম।

১৭) ভাল উপদেষ্টা বা খামারের জন্য বন্ধু খুজে নেওয়াঃ
একজন মুচি যেমন চায় আরেকজনের জুতা ছিঁড়ুক, একজন ডাক্তার চান বেশি বেশি রোগী আসুক তার চেম্বারে। তেমনি কিছু মানুষ চাই যেন আপনার খামারেও সেই অবস্থা হোক। আর এরই লক্ষ্যে নানা ধরণের আমন সব উপদেশ আপনাকে দিবে যা তিনি নিজেও যে কাজ করেন না। তাই যে কোনো কাজ বা চিকিৎসা বা ঔষধ অথবা ভিটামিন প্রয়োগ করার আগে অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ নিবেন বা দুই একজনের কাছে জিজ্ঞেস করবে। যাতে আপনি অনাখাংকিত ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে পারেন।

১৮) খামারির কিছু জরুরি সতর্কতাঃ
প্রত্যেক খামারি কেই কিছু জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, আর এগুলো যদি সঠিক ভাবে মেনে চলা হয় তাহলে, আশা করা যাই তিনি সফল ভাবে খামার পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। যেমনঃ

a) অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহারের ৩ দিনের মধ্যে খেয়াল করবেন যে পায়খানার রঙ পরিবর্তন হচ্ছে কিনা? যদি না হয় তাহলে ৩ দিন পর অন্য অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার করতে হবে।

b) অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহারের পর অবশ্যই probiotic দিতে হবে। তাহলে আবার ভাল ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবে। আর পাতলা পায়খানা, সর্দি ইত্যাদির মত রোগ থেকে নিরাপদ থাকবে।

c) অধিক পরিমাণে অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার করবেন না।

d) চোখের রোগের জন্য কোন চোখের ড্রপ ৫ দিনের বেশি ব্যাবহার করবেন না।

e) ভিটামিন বা কোন ঔষধ দলা বেঁধে গেলে আর ব্যাবহার করবেন না।

f) ভিটামিন ব্যাবহারের পর যদি হলুদ ধরণের পায়খানা করে, তাহলে ওই ভিটামিন আর ব্যাবহার করবেন না।

g) কবুতর বমি করলে omidon বা এই ধরনের ঔষধ বেশি ব্যাবহার করবেন না বা histasin ধরনের ঔষধ কখনও ব্যাবহার করবেন না।

h) খামার ভিজা বা স্যাঁতসেঁতে রাখবেন না

i) ঔষধের গায়ে লেখা নির্দেশনা মত ঔষধ ব্যাবহার করতে যাবেন না।

j) কবুতর অসুস্থ হলে আগে চালের স্যালাইন দিবেন।

k) ভিটামিন বা ঔষধ যেন রোদে না রাখা হয় সেটা খেয়াল রাখবেন। বা কোন ঔষধ বা ভিটামিন ১২ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না।

l) যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে নিজেকে দিয়ে বিচার করবেন।যেমনঃ অনেকেই ঠাণ্ডা লাগলে কবুতর কে অ্যান্টিবায়টিক দিতে বলেন।কিন্তু আমাদের জানামতে আমরা কখনও এক্ষেত্রে নিজেদের জন্য অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার করি না।

m) পানি অবশ্যই ফুটিয়ে দিবেন বা নলকূপের টা দিবেন বা ফিল্টার এর টা দিবেন।

n) অনর্থক কবুতর কে ধরবেন না। বা ডিম চালার সময় বেশি নাড়ানাড়ি করবেন না এতে ডিমের ভিতরের লিগামেন্ট ছিড়ে যেতে পারে।

পরিশেষে, আপনি আমার এই পর্যন্ত যত রোগ বালাই সম্পর্কিত যত পোস্ট আছে সেগুলো পড়েন আর সেই অনুযায়ী মানে চলেন। তাহলে আশা করে আপনার খামারে কোন অসুবিধা হবার সম্ভাবনা নেই। আর যদিও বা হয় তাহলে আশা করি আপনি নিজেই একজন বিজ্ঞ লোকের মত নির্ভয়ে তার চিকিৎসা করতে অসুবিধা হবার কথা না। আর এর জন্য চাই আপনার আত্মবিশ্বাস। আর সাধারণ কিছু জ্ঞান ও প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি। আপনি যদি এটা চিন্তা করেন যে এটা আমি পারব না তাহলে আর কখনও পারবেন না। আপনার যদি ইচ্ছে ও চেষ্টা থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ বাকিটুকু আল্লাহ করে দিবেন। আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন(আমীন)।

(বিঃ দ্রঃ – এই লিখা বা এর সব কথা টাই যে চূড়ান্ত টা নয়, আপনি এর থেকে আপনার মনের মত করে খামার গড়ে নিতে পারেন। এটি শুধুই একটি পথ নির্দেশনা মাত্র।)

 

লেখাঃ কে এফ সোহেল রাব্বি ( কবুতর এক্সপার্ট)

 

Leave a Reply

Scroll To Top