You are here: Home / পার্থিব / ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ – ০১

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ – ০১

ব্রণ ত্বকের একটি সাধারন সমস্যা, ব্রণ হয়নি এমন মানুষ কম পাওয়া যাবে। ব্রণ নিয়ে নানান জনে নানান চিকিৎসার কথা বলে আবার অনেকের মধ্যে ব্রণ নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারনাও রয়েছে। ব্রণ নিরাময়ে যুগ যুগ ধরে নানা রকম ভেষজ ব্যবহৃত হয়ে আসছে যার কিছুটা নমুনা তুলে ধরছি।

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ

ঘৃতকুমারি

ঘৃতকুমারী (Aloe vera): ঘৃতকুমারী পাতার জেল ব্রণের চিকিৎসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এনজাইম সমৃদ্ধ এই জেলে রয়েছে এন্টি ইনফ্লামেটরী ও এন্টি ব্যাকটেরিয়া উপাদান যা ব্রণ নিরাময়ে কার্যকর । এই জেল দিয়ে তৈরি শরবত গ্রহন করলে হজম প্রক্রিয়া ভাল হয় এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয় ত্বক পরিষ্কারে সাহায্য করে । কমপক্ষে ১ মাস ব্যবহার করতে হবে।

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ

পুদিনা

পুদিনা (Peppermint): পুদিনা পাতায় আছে মেনথল যা ব্যথানাশক এবং প্রদাহানাশক। পুদিনা পাতা বেঁটে ব্রণে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখতে হবে এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ব্রনের ব্যথা ও প্রদাহ কমে যায়। ১৫ দিন ব্যবহার করতে হবে।

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ

শশা

শশা (Cucumber): শশা পেস্ট করে ব্রণে লাগিয়ে ১-২ ঘণ্টা রেখে দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। শশা ত্বক পরিষ্কার করে এবং ব্রন প্রতিরোধ করে। ২ সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে।

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ

লেবু

লেবু (Lemon): লেবুর রসের সাথে সমপরিমাণ পানি বা গোলাপজল মিশিয়ে ৩০ মিনিট মুখ লাগিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ১৫ দিন করলে ত্বক ব্রণ মুক্ত হবে। এছাড়া লেবুর খোসা মুখে ঘষে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে উপকার পাওয়া যায়।

 ব্রণের প্রতিকার:-

  • এক চা চামছ লেবুর রসের সাথে ১ চা চামচ দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে লাগালে ব্রণে উপকার পাওয়া যায়। ১ সপ্তাহ ব্যবহার করতে হবে।
  • কমলা লেবুর খোসা পানি দিয়ে পেস্ট করে ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগালে ব্রণে চলে যায়। ২০ দিন এভাবে লাগাতে হবে।
  • কচি নিমপাতা এবং কাঁচা হলুদ একত্রে বেঁটে ব্রণে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ব্রন ও দাগ চলে যায়। ২০-৩০ দিন ব্যবহার করতে হবে।
  • রসুনের কোয়া বেটে ব্রণের চারপাশে লাগালে ব্রণের দাগসহ চলে যায়।
  • জায়ফল গুড়া করে দুধের সাথে মিশিয়ে লাগালে ম্যাজিকের মত কাজ করে। এতে দাগও চলে যায়। ১০ দিন ব্যবহার করতে হবে।
  • ৩ চা চামচ মধু ও ১ চা চামচ দারুচিনির গুড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সেই পেস্ট মুখে লাগিয়ে রাখুন সারারাত। পরদিন সকালে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ২ সপ্তাহ ধরে এরকম লাগালে ব্রণ চিরতরে চলে যাবে।
  • ১ চা চামচ বাদাম বাটা ও ১চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে লাগালে ব্ল্যাকহেডস ও পিম্পল দূর হয়। প্রতিদিনি ব্যবহারে ব্রণে উপকার পাওয়া যায়।
  • পাকা টমেটো ব্যবহারে ব্রণ ও পিম্পলে উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিনি পাকা টমেটোর রস মুখে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে তারপর ঘুয়ে ফেলতে হবে।
  • আলু পেস্ট করে লাগালে ত্বকের জ্বালা-পোড়া, পিম্পল, ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং বলিরেখা দূর হয় ।
  • কাঁচা পেঁপে খোসা ও বীজসহ পেস্ট করে লাগালে ব্রণের ফোলা কমে যায়।
  • ডালিমের খোসা শুকিয়ে গুড়া করে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ব্রণে উপকার পাওয়া যায়।
  • মেথির পাতা বেঁটে পেস্ট করে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুতে হবে। প্রতিদিন রাতে একবার করতে পারলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস এবং বলিরেখার হাত থাকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
  • স্ট্রবেরী পাতা ব্রণের পক্ষে উপকারী। কারণ এর ক্ষারীয় অবস্থা ব্রণের  ফোলা কমায়। এছাড়া লবণাক্ত পাণি  দিয়ে দিনে ২ বার মুখ খুলে তৈলাক্ত ভাব কমে যা ব্রণ হওয়া প্রতিরোদ করে।
  • মধু ব্রণের চিকিৎসায় সর্বোৎকৃষ্ট উপাদান, কারণ মধু ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে।

 

কৃতজ্ঞতাঃ ডা. আলমগীর মতি

Leave a Reply

Scroll To Top