You are here: Home / পার্থিব / ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ – ০২

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ – ০২

ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহৃত ভেষজ পর্ব ০১ এ আমরা আলোচনা করেছি বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস কীভাবে ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহার করতে হয়। এ সমস্ত প্রাকৃতিক উৎস ব্যবহারের পাশাপাশি আরো কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরী।

ব্রণ থেকে মুক্ত থাকার প্রদান উপায় হচ্ছে ত্বক পরিষ্কার রাখা। কিন্তু কর্মব্যস্ততা এবং সময়ের  অভাবে সবসময় পরিষ্কার হয়ে উঠেনা। খুব সহজে ত্বক পরিষ্কারের কিছু পদ্ধতি হল:-

  • গোলাপ জলে তুলা ভিজিয়ে দিনে ২-৩ বার মুখ মুছে নিন।
  • শশার রশের সাথে গোলাপ জল বা লেবুর রস মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে রাখুন এবং দিনে ৩-৪ বার তুলা ভিজিয়ে তা দিয়ে মুখ মুছে নিন। শুকনো তুলসী পাতা ১ কাপ গরম পানিতে ১০-২০ মিনিত ভিজিয়ে রেখে ঠাণ্ডা করে সেই পানিতে তুলা ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
  • ভিনেগারের সাথে লবণ মিশিয়ে বা শুধু ভিনিগারে তুলা ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যায়।
  • যারা অতিরিক্ত ঘামেন তারা মুখে বরফ লাগাতে পারেন এতে ঘাম কম হবে এবং লোমকূপের ছিদ্র ছোট থাকবে।
  • যাদের ত্বকে ছিদ্র বা লোমকূপ বড় তারা চন্দন কাঠের পেস্টের সাথে মসুর ডাল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে উপকার পাওয়া যায়।

শুধু  বাহ্যিকভাবে পরিচর্যা করলেই হবে না খাদ্য পথ্য ও জীবনযাত্রাও ঠিক রাখতে হবে:-

  • প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। পানি শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।
  • তাজাশাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন। শাক-সবজি ও ফলমূলে বিদ্যমান বিভিন্ন ভিটামিন ত্বক ভালরাখে।
  • ভিটামিন এ ত্বকের টিস্যুগুলোর স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং ব্রণ হওয়া প্রতিরোধ করে। বিটাক্যারোটিন ত্বকের তেল নিঃসরণ কমায়।ত্বকের টিস্যুগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভিটামিন এ খুবই প্রয়োজনীয়। তাই ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
  • ভিটামিন ই প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন বি কমপ্লেক্সও ব্রণের ক্ষেত্রে উপকারী। এজন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও বি-কমপ্লেক্স গ্রহণ করুণ।
  • জিংক সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের পুষ্টি জোগায় এবং ব্রণ দূর কুরতে সাহায্য করে। দিনে ৩ বার ৫০ মি.লি. জিংক গ্রহণ করলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। এটি খাবারের মাধ্যমে হতে পারে আবার ক্যাপস্যুল আকারেও হতে পারে।
  • ক্রোমিয়াম ওজন কমানোর একটি পরিচিত ডায়েট। কিন্তু এটি ত্বকের ইনফেকশন দূর করার জন্যও কার্যকর। দিনে একবার ক্রোমিয়াম গ্রহণ দ্রুত ব্রণ সারাতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন গরম পানি পান করতে হবে। গরম পানি রক্তনালি ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। বাম্প ত্বকে লাগালে লোমকূপের ছিদ্র খুলে যায় এতে ভিতরের বর্জ্য সহজে বের হতে পারে। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা দূর করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমানে ঘমাতে হবে। কমপক্ষে ৬-৭ ঘণ্টা।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ২ বার ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। কারণ মুখের ত্বক বালিশের সংস্পর্শে লেগে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।

  যে সমস্ত জিনিস এড়িয়ে চলতে হবে:-

  • মাংস, চিনি, চা, কফি, সফট ড্রিংকস, চকলেট, আইস ক্রিম, ফাস্ট ফুড, রিচ ফুড অতিরিক্ত  ব্রণযুক্ত ত্বক মেক আপ করা যাবে না ।
  • তেলে ভাজা ও পোড়া খাবার, রিফাইন্ড ও প্রসেসড্ ফুড ইত্যাদি।
  • কপালে যেন চুল পড়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • ব্রণ কখনো হাত দিবেন না বা নখ দিয়ে ব্রণ খোটাখুটি করবেন না।

 

কৃতজ্ঞতাঃ ডা. আলমগীর মতি

Leave a Reply

Scroll To Top