You are here: Home / ফিচার / আঙ্গিনা সাজান শীতের ফুলে

আঙ্গিনা সাজান শীতের ফুলে

বছর ঘুরেই আসছে শীতকাল। আর এই শীতকালেই যেন চারিদিকে বাহারি ফুলের মেলা বসে। রাস্তার ধার, অফিস, বাগান সব যেন হয়ে যায় ফুলের আধার। ঋতুরাজ বসন্ত হলেও শীত যেন তার আলাদা অস্তিত্তের প্রমান দেয়। সকালে শীতের কুয়াশা, নানা রকম পিঠাপুলি, খেজুরের রস শীত তার নিজস্ব আবেদন নিয়ে হাজির হয় আমাদের মাঝে। তবে গ্রামের মত শহরে শীতের প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না। তাই বলে কি শহরের মানুষেরা শীতের দিনগুলো উপভোগ করবে না।  শহরের বাসিন্দারা তাদের বাগানে, বারান্দায়, অফিসে, ছাদে ফুলের মায়াময় সৌন্দর্য উপভোগ করে প্রকৃতির কাছে থাকতে চায়। শীতের ফুলের আবার একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এগুলো বিভিন্ন রঙের ও গন্ধের হয়ে থাকে। যা মানুষকে আরও প্রকৃতির কাছে নিয়ে আসে। শীতের বাহারি ফুলের অধিকাংশই বিদেশি ফুল। আমাদের দেশে এই ফুল ফোটে ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। তাই শীতের ফুল ফোটানোর এখনই উপযুক্ত  সময়।

কথায় আছে আমরা বাংলাদেশিরা অতিথিপরায়ন। তাই বুঝি আমরা আমাদের শীতের ফুলগুলোকে আমাদের অংশ করে ফেলেছি। কারন আমাদের দেশে শীতকালে যেসব ফুল দেখা যায় তার অধিকাংশই বিদেশি। এই বিদেশের ফুলেরাও আমাদেরকে আপন করে নিয়েছে এবং তাদের সৌন্দযের সবটুকু ঢেলে দিচ্ছে। আমাদের মন রাঙাতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে ডেইজী, ফ্রান্স থেকে মেরিগোল্ড, ইউরোপ থেকে এন্টিরিনাম, মেক্সিকো থেকে ডালিয়া-ন্যাস্টারশিয়াম, চীন থেকে অ্যাস্টার, জাপান থেকে চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ক্লার্কিয়া-পপি, ফ্রান্স থেকে  কারনেশন-প্যানজি, সিসিলি থেকে সুইটপি, আমেরিকা থেকে লুপিন আরও অনেক বিদেশি ফুল আর তার সাথে আছে বাগান বিলাস , গাঁদা এবং নানা রঙের গোলাপ।

গাঁদা ঃ শীতকালের সবচেয়ে পরিচিত ফুল গাঁদা । আমাদের দেশে তিন ধরনের গাঁদা পাওয়া যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় গাঁদার নাম হাইব্রিড ইনকা গাঁদা। কমলা, হলুদ, হাল্কা হলুদ এই তিন রঙের হয় এই হাইব্রিড ইনকা গাঁদা। তা ছাড়া চিনা গাঁদা বা দেশি গাঁদাও দেখা যায়।

গাঁদা

ভার্বেনাঃ লাল, নিল, সাদা,বেগুনি, গোলাপি নানা রঙের হয় এই ফুল। একটি গুচ্ছে অনেকগুলো ফুল থাকে। প্রতিটি ডালের আগায় ফুল থাকে। এ গাছের শুধু ফুল নয় পাতাও দেখতে নয়নাভিরাম।

ভার্বেনা

অ্যান্টিরিন্যামঃ লম্বা কাণ্ডের আগা কলিতে ভরে থাকে। গাছের চেয়ে ফুলের মঞ্জরি বড় হয়। লাল, গোলাপি, সাদা, হলুদ ইত্যাদি রঙের হয়ে থাকে। ফুল নিচ থেকে ফুটতে ফুটতে আগায় গিয়ে শেষ হয়।

অ্যান্টিরিন্যাম

সালভিয়াঃ আমাদের দেশে লাল সালভিয়া বেশি দেখা যায়। তবে এরা আরও কয়েক রঙের হয়ে থাকে। এ ফুলগুলোও নিচ থেকে ফুটতে ফুটতে আগায়  গিয়ে শেষ হয়।

সালভিয়া

নাস্টারসিয়ামঃ এ ফুলের গাস লতানো হয়ে থাকে। পাতা দেখতে অনেকটা থানকুনি পাতার মত। ফুলের রঙ হলুদ, লাল এবং কমলা রঙের। ফুল দেখতে অনেকটা মাইকের মত।

নাস্টারসিয়াম

প্যান্সিঃ অসম্ভব সুন্দর এই ফুলটি। এর বাহারি পাপড়ি আপনাকে আকর্ষণ করবে অতি তাড়াতাড়ি। এই ফুলের উপরের দিকে দুটি  পাপড়ি থাকে নিচে থাকে তিনটি। এর সনন্ত্র রঙ যে কাউকে আকৃষ্ট করবেই।

প্যান্সি

কসমসঃ কসমস এখন আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি ফুল। বেগুনি,গোলাপি, সাদা এই তিন রঙের কসমস পাওপা যায় আমাদের দেশে। এ ফুল গাছের পাতাও আকর্ষণীয়। আকারে ছোট হলেও এর বৃন্ত অনেকটা  সূর্যমুখী ফুলের মত।

কসমস

জিনিয়াঃ দেখতে অনেকটা কাগজের ফুলের মত মনে হলেও জিনিয়া ফুলের মনোমুগ্ধকর রঙ আপনাকে বিমহিত করবেই। এ ফুলের স্থায়িত্ব অন্যান্য  ফুলের তুলনায় অনেক বেশি।  গোলাপি, কমলা, হলুদ, বেগুনি রঙের হয় এই ফুল।

জিনিয়া

ডালিয়াঃ ডালিয়ার কয়েকটি জাতের আছে। খাট এবং লম্বা। বড় টবের জন্য লম্বা জাতটি বেছে নিতে পারেন আর ছোট টবের জন্য খাটটি। প্রায় সব রঙেরই ডালিয়া পাওয়া যায়। জাত ভেদে মার্চ পর্যন্ত ফুল পেতে পারেন।

ডালিয়া

পিটুনিয়াঃ পিটুনিয়া গ্রিস্ম ও বর্ষাকালের ফুল হলেও এখন শিতেও এই ফুল দেখা যায় হরহামেশাই। গোলাপি, লাল, হলদে, নিল, বেগুনি, সাদা রঙের পিটুনিয়া দেখা যায়। এর মধ্যে কোনটি আবার দুইটি রঙের মিশেল।

পিটুনিয়া

অনেকেই নার্সারি থেকে ফুল সমেত টব কিনে নিয়ে যান কিন্তু দেখা যায় গাছে যে কলিগুলো ছিল সেগুলো থেকেও ফুল ফুটছে না। আবার অনেকেই গাছ কিনে নিয়ে যাবার পরেও দেখছেন ফুল ফুটছে না। মুলত সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারনে এমনটি হয়। এ জন্য নিজেই বিজ থেকে চারা উতপাদন করা সবচেয়ে ভাল। বাজারে এখন শীতকালীন ফুলের উন্নতমানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে। আর এদের কোয়ালিটিও খুবই ভাল। ভাল কোম্পানির বীজের প্যাকেটের গায়ে বপন পদ্ধতি লেখা থাকে। এখনই শীতের ফুলের চারা লাগানর উপযুক্ত সময়। দেরি না করে এখনই ফুলের বীজ বপন করুন আর সারা শীতজুড়ে উপভোগ করুন শিতের ফুলের সৌন্দর্য।

Leave a Reply

Scroll To Top