You are here: Home / পার্থিব / ত্বকের মেছতা সমস্যা আসলে কি? কেন হয়?

ত্বকের মেছতা সমস্যা আসলে কি? কেন হয়?

আমাদের ত্বকের জন্য মেছতা হলো একটি অন্যতম সমস্যা। এটি ছেলে মেয়ে যে কারো হতে পারে। তবে মেয়েরা এর জন্য বেশি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকে। এটি সাদারণত ৩০-৪০ বয়সের মধ্যে হয়।

ত্বকের মেছতা সমস্যা

মেছতা কি?

সূর্যরশ্নির প্রভাবে ত্বকে মেলানিন উৎপন্ন হয় । কোন কারণে ত্বকের বিশেষ জায়গায় এটির কার্যক্ষমতা বেশি হলে ত্বকের সেই অংশটি পার্শ্ববতী অংশের চেয়ে বেশি গাঢ় হয়ে যায়। ফলে ওই অংশটি কালো বা বাদামী থেকে হালকা বাদামী দেখায়। গ্রীক শব্দ মেলাজ (melas) থেকে মেলাজমা শব্দের উৎপত্তি যার অর্থ কালো। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং যারা জন্ম নিয়ন্ত্রণ ঔষধ গ্রহন করেন বা হরমোন থেরাপি নেন। ত্বকের যেসমস্ত জায়গায় সূর্যরশ্নি বেশি পড়ে সেসমস্ত জায়গা যেমন- উপরের গাল, নাক, ঠোঁট এবং কপালে মেছতা দেখা যায়। তাবে মাঝে মধ্যে ঘাড়ের পাশে, কাঁধ ও উপরের বাহুতে দেখা যায়।

মেছতাকে সাধারণত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১) এপিডার্মাল: ত্বকের বহিঃস্তরের উপরিভাগে এই প্রকার মেছতা দেখা যায়। এই প্রকার মেছতার রঙ গাঢ় বাদামী বর্ণের এবং লাইটের নীচে দেখলে আরো গাঢ় হয়। শতকরা ৭০-৮০ ভাগ রোগী এই শ্রেণীর এবং চিকিৎসা মাধ্যমে এই মেছতা সারিয়ে তোলা সম্ভব।

২) ডার্মাল: ত্বকের বহিঃস্তরের নিচের স্তরে এই পকার মেছতা দেখা যায়। দাগ হালকা বাদামী বর্ণের এবং লাইটের নিচে দেখলে কোন পরিবর্তন হয় না। শতকরা ১৩ ভাগ রোগী এই পর্যায়ের এবং এদের চিকিৎসায় খুব কমই সাফল্য আসে।

৩) মিশ্রিত: এই প্রকারের মেছতা ত্বকের অন্তঃস্তর এবং বহিঃস্তরে জুড়ে বিদ্যমান থাকে। দাগ হালকা এবং বাদামী উভয় রঙেরই হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসায় আংশিক সাফল্য আসতে পারে।

এছাড়া আরও কিছু প্রকারের মেছতা রয়েছে, যেমন-

১। মেছতা জেনেটিক

২। মেছতা ইডিওপ্যাথিকা

৩। মেছতা একটিনিক

৪। মেছতা কন্ট্রাসেপটিকা

৫। মেছতা কসমেটকা

৬। মেছতা মেনোপোজাল

৭। মেছতা গ্রেভিডেরাম

৮। মেছতা এন্ড্রোক্রাইনোপ্যাথিক

৯। মেছতা আয়ারট্রোজেনিকা

১০। মেছতা হেপাটিকা

১১। মেছতা ইউমেনোলজিক্যাল

মেছতার কারন:

অনেক ক্ষেত্রে মেছতার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, তবে হরমোনের ব্যাপার একটি অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত। নিম্নে মেছতার প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করা হল।

  • প্রোটেকশন ছাড়া অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে গেলে এটি হয়। সূর্যের আলোই এটির প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়।
  • হরমোনের তারতম্য ঘটলে, যেমন গর্ভাবস্থায় এটি হয়ে থাকে।
  • হরমোন ওষুধ ব্যবহারে বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিলে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে।
  • থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য ঘটলে।
  • বংশগত কারণে হতে পারে।
  • ত্বক নিয়মিত ভাল ভাবে পরিষ্কার না করলে।

রোগ নির্ণয় (Dagnosis):

সাধারণত: খালি চোখে দেখেই মেছতা নির্ণয় করা যায়। তবে উডস্ ল্যাম্পের (Wood’s lamp, 340-400 nm wavelength) সাহায্য পরীক্ষা করে বোঝা যায় ত্বকের ডার্মিস এবং এপিডার্মিস স্তরে মেলানিনের পরিমাণ।

 

কৃতজ্ঞতাঃ ডা. আলমগীর মতি

 

ত্বকের মেছতা সমস্যার আধুনিক ও হারবাল চিকিৎসা

Leave a Reply

Scroll To Top