You are here: Home / প্রযুক্তি প্রেমী / চাকরি পাওয়ার ম্যাজিক কৌশল। ১০০% কার্যকরী-বিফলে মূল্য ফেরত!!

চাকরি পাওয়ার ম্যাজিক কৌশল। ১০০% কার্যকরী-বিফলে মূল্য ফেরত!!

নিশ্চিত এবং খুব দ্রুত, মামা-চাচা বা খালার জোড় ছাড়া, একদম ঘুষ বিহীন, তদ্বির বিহীন, চাকরি নামের সোনার হরিণ কয়েদ করার-

১০০% কার্যকরী কৌশল একদম ফ্রি ফ্রি ফ্রি!!! বিফলে ১০০% মূল্য ফেরত।

___বাবা সৌখিন ব্লগ ভাণ্ডারী

চাকরি

মামু, নতুন ধান্ধা নাকি!?

হকারি শুরু করসে নাকি?

সৌখিন আজকাল এইসব কি পুস্ট করা ধরসে?

খুজলি পাছড়ার মলম বেচা শুরু করলো নাকি?

প্রিয় পাঠক, দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই, আমরা তেমন কিছু করছিনা, এবং হকারি করার তেমন একটা কারন এখনও হয়নাই। সৌখিন আগেও যেমন ছিল-আমজনতার, এখনো ঠিক তেমনই আছে-আমজনতার।

আমাদের এই পোস্টটি, আমাদের সেই সব পাঠকদের জন্য, যারা বেকারত্বের কশাঘাতে জর্জরিত। আমরা বলতে চাই, আমরা আপনাদের সাথেই আছি, পাশেই পাবেন সর্বক্ষণ।  যারা বেকার নন, তারা হয়তো আমাদের এই উদ্যোগকে সমর্থন নাও করতে পারেন, যদি তেমনই মনে হয়-তাহলে অনুরোধ রইলো আমাদের ম্যাজিক ট্রিক্সটি পড়ে দেখার জন্য। আমাদের বিশ্বাস আপনার ভালো লাগবেই। তবে চলুন দেরী না করে জেনে নিই চাকরি মন্তর–

শুরু করছি বহুল প্রচলিত দৈনিক পত্রিকায় হালে প্রকাশিত কিছু সংবাদের শিরোনাম দিয়ে, বেকারত্বের অভিশাপ কেমন হতে পারে-তার ব্যবচ্ছেদ করাটা জরুরী বিধায় এমন অধম প্রচেষ্টা, বিজ্ঞ পাঠকের বিরক্তির কারন না হলেই বাঁচোয়া।

“হতাশায় ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার”

“উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় অর্ধেকই বেকার”

“শিক্ষা না বেকার তৈরির কারখানা”

“১৫ বছরে বেকার যুবক বেড়েছে ৫ গুন”

“হতাশ বেকার, উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও ক্ষতিগ্রস্ত জাতি”

“আগামি বছর দেশে বেকারের সংখ্যা হতে পারে ৩৩ লাখ”

“বেকারত্বে ২০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২ তম”

শিরোনাম গুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে দেশে বেকারত্বের দশা। পরিসংখ্যান কপচানোর প্রয়োজন নেই, ছেলে বেলা থেকেই আমরা অনেক প্রবন্ধ, রচনা লিখে ফেলেছি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের বেকারত্ব নিয়ে। প্রচলিত অর্থে যার চাকরি নেই, সেই বেকার। বেকারত্ব কতটা কষ্টের আর অভিশাপের হতে পারে আমরা নিত্যদিনের খবরের কাগজেই তা টের পাই। উদাহরনস্বরূপ কিছু শিরোনাম-

“কর্মহীন ও বেকারত্ব জীবন হতাশার কাফন জড়ানো একটি জীবন্ত লাশ”

“বেকারত্বের কারনে আত্মহত্যা করে ২০ শতাংশ মানুষ”

নিজের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কি হতে পারে?

সেটিও বিসর্জন দিতে হচ্ছে বেকারত্বের কারনে, তাহলে কি বলবো- জীবনের চেয়েও চাকরীর কিংবা কর্মসংস্থানের প্রয়োজন বেশি? অনেকে আবার একে সোনার হরিন উপাধি দিয়ে থাকেন। তাহলে তো বলতেই হয়-

—জীবনের অর্থ কী তুমি(চাকরি) ছাড়া—

আচ্ছা!! বেকার থাকার কারন কি? কেনই বা কারো চাকরি হয়, কারো হয়না।

চাকরি না হওয়ার পেছনে যে সমস্ত কারন থাকতে পারে-

মামা, চাচার জোর নেইঃ মামা-চাচা নেই বলে আপনার চাকরি হচ্ছেনা অথবা আছে, কিন্তু সেই লম্বা হাতের প্রভাবশালী মামা-চাচা নেই, যার রেফারেন্স দিলেই চাকরি নিশ্চিত। আচ্ছা! লম্বা হাতের মামা-চাচা বা খালু কয়জনারই বা আছে? সবার যে নেই, সেটাতো মোটামুটি নিশ্চিত, তাই না? আর সবার যদি লম্বা হাতের মামা চাচা থাকতোও, তাহলে সবারই কি চাকরি হয়ে যেতো?

>>ঘুষ দেয়ার সামর্থ্য নেই বা দিতে ইচ্ছুক নাঃ আমাদের মতো সাধারণ ঘরের ছেলে মেয়েদের সাধারণত ঘুষ দেবার সামর্থ্য থাকে না। লেখা পড়ার খরচ জোগাতেই আমাদের বাবা মায়ের জেরবার হয়ে যেতো, ঘুষের জন্য আলাদা সঞ্চয় করা-আমাদের বাপ দাদাদের হয়ে উঠেনি, খুব সহসা হবে বলে মনেও হয় না। তাহলে আমাদের মতো অপয়াদের উপায় কি? সরকারী চাকরি তো আজকাল “হীরার হরিণ”, সে আবার মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কথা বলে না। তাই উপায় অন্তর না দেখে, সোনার হরিণের পিছেই ঘুরি।

সরকারী চাকরি তো আজকাল “হীরার হরিণ”, সে আবার মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কথা বলে না।

সোনার হরিণের নখরাও কি খুব কম? একটু নাদুস নুদুস হরিণগুলি তো জানানও দেয়না, সার্কুলার হবার আগেই গাপিস হয়ে যায়। যাও বা দুই একটার খবর চাউর হয়, তাতে লাইন এমন লম্বা হয় যে লাইন শেষ হওয়ার আগেই , “নো ভ্যাকান্সি” সাইন চলে আসে।

তাতে-টেবিলের তলায় একটু আধটু লেনদেনের ইচ্ছা যে মাঝে মধ্যে হয় না, এমনটা বুকে হাত রেখে বলা, খুবই শক্ত। এই দোমনা ভাব দূর হবার আগেই বিনা মেঘে ব্জ্রপাতের মতো প্রেয়সীর আমেরিকা প্রবাসী অথবা বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার নয়তো সরকারী বড়কর্তা হবু জামাইয়ের খবর এসে পরে।

এতকিছুর পরও, সোনার হরিণটা কিন্তু অধরাই থেকে যায়। হায়! বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বের করা ছাড়া, আমাদের মতো সাধারণের তেমন কিছু করারও থাকে না।

তখন শুধু একটা কথাই মনে হয়, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে,

“আরে ঘুষখোর বেকুবের দল! বোকার হদ্দ কাহাকার, ঘুষ দেয়ার মতো টাকাই যদি থাকতো?! তাহলে চাকরি না করে, তোদের মতো গর্ধবগুলাকে চাকরি দিতাম, ঘুষ ছাড়াই।“

>>প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো দক্ষতা নেইঃ এইখানেই কবি নীরব, একমত না হয়ে গনতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার উপায়, খুব একটা চোখে পড়ে না। ঐ সব ইংলিশ মিডিয়ামের ট্যাশ গরুগুলার মতো ফটা ফট ইংরেজী বুলিও আমাদের মুখ থেকে বের হয় না, সিলেকশন বোর্ডের চৌকস নির্বাহীদের মনও গলাতে পারি না। সোনার হরিণ, সোনাই থেকে যায়, আমাদের আর হয় না।

অতএব, যেই লাউ সেই কদু। আগেও বেকার, এখনও বেকার। যাও দুই একটা জোটে, তাতে পকেট খরচ চলবে বলেও ভরসা হয় না। আচ্ছা, আপনারাই বলেন-উত্তরা থেকে মতিঝিল গিয়ে চাকরি করবো, বেতন যা দিতে চায়-তাতে বিশ দিনের বাস ভারাও হয় না। বাসওয়ালা কি আমার শ্বশুর লাগে? লাঞ্চ করবো কিভাবে, আর বাকি দশদিন অফিসে যাবো কিভাবে?

কেমনে কি? একটা সম্মানজনক চাকরির জন্য আর কি কি করতে হবে?

আপনাদের কথা ও কাজে মিল নাই, সেই ম্যাজিক ফর্মুলা কোথায়? হাওয়া হয়ে গেসে নাকি?

ভাই, আসছে, আসছে। আগে তো রোগটা কি জানুন, তার পর ঔষধের ব্যবস্থাও হবে। মনে রাখবেন, সবুরে মেওয়া ফলে! (মেওয়া কি খাওয়া যায়? এতো সবুর করলাম, কিন্তু খাওয়াই যদি না যায়, তাহলে সবুরের মানে হয় না J)

>>পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেইঃ চাপা মারার জন্য লোক চায়, তায় আবার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে দুই বছরের। কোন মানে হয়? আরে মামা, চাকরিই তো পাই নাই, অভিজ্ঞতা কি আসমান থেকে আনবো না চায়না থেকে ইম্পর্ট করবো?

আবার বেশীর ভাগ সার্কুলারে লিখে রাখে, ফ্রেশারদের আবেদেন করার দরকার নাই।

ভাইরে, আমরা যে আর ফ্রেশ নাই সেইটা জানতে কি বিজ্ঞানী হইতে হয়? বাজারে ফরমালিন ভরা, ফ্রেশ থাকবো কেমনে?

ভাই, ফাইজলামি রাখেন, চাকরি দেবার আগেই যদি বলেন অভিজ্ঞতা লাগবে, ফ্রেশার নিবেন না। তাহলে আমরা যাবো কোথায়?

১৯-২০ বছর বিশাল চেষ্টা চরিত্র করে এত্ত এত্ত পাশ দিয়ে লাভটা কি হোল? ঢেউটিন!!

বেশিরভাগ চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। যার যত বেশি অভিজ্ঞতা, তার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেশি। প্রশ্ন হলো, চাকরি না করলে, অভিজ্ঞতা হবে কিভাবে। কেউ তো আর মায়ের পেট থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে জন্মায় না!

আমরা বেশীরভাগ মানুষই পাশ করে বের হবার পর এই সমস্যার সম্মুখীন হই। অবস্থা এমন যে নিজের টাকায় পড়াশুনাও করবো আবার অভিজ্ঞতার জন্যে টাকা দিয়ে চাকরিও করবো!

এতো কিছুর পরও কেউ কেউ যে চাকরি পাবেন না, অবস্থা ততোটা খারাপ হয় নি। তবে যে হারে জি পি এ আসছে বাজারে, তাতে বাজার সয়লাব হতে খুব একটা দেরি নাই।

তাহলে কি কোন উপায় নেই? সমাধান নেই?

আছে না! অবশ্যই আছে, আলবৎ আছে! ঐ যে ম্যাজিক ফর্মুলা! মনে আছে? তবে মন্ত্রটা অনেক শক্তিশালী, একটু রয়ে সয়ে না দিলে-হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাহলে চলুন, সেই ম্যাজিক ফর্মুলাটা ধাপে ধাপে শিখে নেই।

ম্যাজিক ফর্মুলা-প্রথম ধাপঃ-

বেশরমের মতো তৈল মর্দনঃ মিন মিন করে, দোন মনা করতে করতে তো সবই গেলো, এইবার শুরু করে দিন-“মিশন বেশরম”।

লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে- এলাকার সেরা ঘুষখোরকে গুরু মেনে পিছে লেগে পড়ুন। চাকরিখানা মিলিলে, কিস্তিতে-সুদ সমেত পরিশোধ করিবেন মর্মে হলফ নামা লিখিত করিয়া চুক্তি সম্পাদন করিবার প্রচেষ্টা, অব্যাহত রাখুন।

মনে রাখবেন, পরাজয়ে ডরে না বীর। প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন, সাফল্য আসিবেই।

ম্যাজিক ফর্মুলা- দ্বিতীয় কিস্তিঃ

প্রবাসী তকমা হাসিল করাঃ প্রবাসী তকমা খুব একটা খারাপ না, এতে মোটামুটি নিরাপদেই জীবন যাপন করা যায়। স্ত্রী ও ভালোই প্রাপ্তি হয়,  সম্মানটাও রক্ষা পায়।

বিদেশ বিভূঁইয়ে হাড়ি পাতিল মাজিলেও বিপুল আয় করা সম্ভব, দেশে তেমন একটা প্রচার হয় না বিধায় ইহা একটি গ্রহন যোগ্য পন্থা। (প্রবাসী ভাই বোন দের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েই বলছি, এমন হ্যাক ছিঃ মনোভাব, আমার একদম নেই কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থা মোটা দাগে এমনটাই ভাবে। বাস্তবিক সত্যটা অনেক কটু, এ সমাজ একজন ঘুষখোরকে সালাম দিলেও-একজন পরিশ্রমী দিনমজুরকে তার প্রাপ্য সম্মান কখনও দিতে পারে নাই। এ আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এমন এক সমাজের বাসিন্দা। )

কিন্তু- সেখানেও তো একই অবস্থা! এক কাঁড়ি টাকা না দিলে প্রবাসের স্বপ্ন তো দিবা স্বপ্ন বই কিছু না। তাহলে?

কুছ পরোয়া নেই, টেকনাফ বন্দর-বিশেষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়-ভিসা, পাসপোর্ট এবং গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি ছাড়াই মালয়েশিয়া এক্সপোর্ট করে দেয়। একথা ভিন্ন যে মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থাইল্যান্ডের জংগলে একটু আধটু যাত্রা বিরতি করে, তবে ওসব কিছু নয়। ঐযে  কথায় আছে না, একবার না পারিলে দেখো শতবার।

চেষ্টা করতে দোষ কি? তাই না?

আচ্ছা!! আচ্ছা!! এবার আসছি ম্যাজিক ফর্মুলার প্রায় শেষ কিস্তিতে। আমি সিউর, এইটা আপনাদের পছন্দ হবেই-হবে।

কর্মযোগী হওয়াঃ কোন কাজই ছোট অথবা বড় না। কাজ কখনও ছোট হয় না, মানুষ বড় অথবা ছোট্ট হতে পারে। তাই কাজ কে সম্মান করে আপনিও হতে পারেন একজন সফল মানুষ।

আপনি কি জানেন! হানিফ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী কোন একসময় ট্রাক চালাতেন!

আকিজ গ্রুপের স্বত্বাধিকারী কোন একসময় কাঁধে করে বিড়ি ফেরি করতেন!

আপনি কি জানেন, আপনার বাসার পাশেই যে ইলেক্ট্রিশিয়ান থাকে, তার মাসিক আয় কতো?

আমার পরিচিত একজন মোবাইল টেকনিশিয়ান, প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করেন। আবার সম্প্রতি আমার বাসার টিভি মেরামত করতে গিয়ে আলাপে জানতে পারলাম, তার প্রতিমাসে আয় প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা।

এমন কারিগরি কাজে আয় নেহায়েত খারাপ না, কিন্তু সম্মানটা নিতান্তুই কম। বাজারের পাত্রীপক্ষ আয়ের অঙ্কটা এক্সসেপ্ট করলেও পেশাটাকে করতে চায় না।

পাত্রীপক্ষের ড্রাইভার পেশাটা পছন্দ হলেও গাড়ীর ড্রাইভার পছন্দ নয়, প্লেনের ড্রাইভারে কিন্তু তাঁদের ভারী আগ্রহ। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করলে, তাঁদেরকে খুব একটা দোষও দেয়া যায় না। প্লেনের ড্রাইভারদের সামাজিক অবস্থানটা যে বেশ উঁচু, মানতেই হয়!

মানুন আর নাই মানুন, আমাদের সমাজটা এখনও অতটা প্রস্তুত হতে পারে নাই। এখনও অনেক কিছুই মধ্যবিত্তের নাগালের বাহিরে।

তাহলে?!! এমন কিছুই কি নেই যে, সাপও মরবে লাঠিও ভাঙ্গবে না?!

আছে, আছে! আলবৎ আছে, ঐ যে ম্যাজিক ফর্মুলা! সেইটা, তেমনই যদি না হবে-তাহলে আর সৌখিনের দরকার কি? তাই না? চলুন এইবার আসল ছুমন্তর দিয়েই দিই, আর অনর্থক ঘোরাবো না, প্রমিজ।

একজন বেকার হিসেবে আমার, আপনার চাওয়া কি?

>>একটা সম্মানজনক ডেস্কজব অথবা এমন কোন কিছু করা যেখানে টাকা আয় করার পাশাপাশি সামাজিক একটা স্ট্যাটাসও থাকবে।

মোটা দাগে, ব্যাপারটা এইতো? তাই না?

আচ্ছা, প্রযুক্তির এই রমরমা বাজারে, প্রযুক্তি নির্ভর কিছু করা যায় না? প্রযুক্তির এই যুগে, অনেক পেশাই যেমন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, তেমনি অনেক নতুন পেশার সুযোগও তো সৃষ্টি হচ্ছে। তাই না?

এক কথায়, প্রযুক্তি নির্ভর কিছু করাটাই মনে হয় সবচেয়ে উপযোগী। আইটি বা তথ্য প্রযুক্তি খাতে কাজ করলে যেমন সামাজিক স্ট্যাটাস আছে, তেমনি আছে সম্মানজনক ডেস্কজব  পাওয়ার সম্ভবনা। বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন দিকে কাজ করে অনেকেই তাদের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। এখন আশেপাশে খুঁজলেই অনেক উদাহরন পাওয়া যায়।তাহলে-আপনি পিছিয়ে কেন?

আই টি তে কাজ করাটা যুগোপযোগী এবং নির্দ্বিধায় সম্মানজনক। চাকরি পাওয়াটাও তুলনামূলক অনেকটা সহজ। দক্ষতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হয় (সরকারী পোস্ট গুলো ছাড়া) এবং দক্ষতার মূল্যায়ন অনেক বেশী স্বচ্ছ। তো এখন কি? কি আবার, জেনে নিন কোথায় শুরু করবেন, কিভাবে শুরু করবেন- বাকি থাকবে শুধু কখন শুরু করবেন, সেইটা। দেরি না করে, আজই শুরু করে দিন, দেখবেন জলদিই শেষও করে ফেলতে পারবেন। আর শেষ করে ফেলতে পারলেই তো গাইবেন -

আর কটা দিন, তারপরই বেলা মুক্তি,

কসবার ঐ নীল দেয়ালের ঘর,

সাদা-কালো আর জঞ্জালে ভরা,

মিথ্যে কথার শহরে,

তোমার আমার লাল-নীল সংসার।

এক নজরে দেখে নেই আইটিতে প্রাথমিক ভাবে কি কি করা যেতে পারেঃ-

>>  গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন

>> আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং

>> অনলাইন মার্কেটিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

>> প্রোগ্রামিং, অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট

>> ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

>> আরও মেলা কিছু, কিন্তু শুরু করার জন্য এইই যথেষ্ট। বাকি পথ, আপনি নিজেই খুঁজে নিতে পারবেন।

এই স্কিল গুলোর সবচেয়ে ভালো দিক হলো, ঘরে বসেই কাজ করা যায় অর্থাৎ আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং করা যায়; আবার ভালো চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে প্রচুর। আপনি ফ্রিল্যান্সিং আর চাকরি যাই করুননা কেনো, আপনাকে আগে কাজ শিখে স্কিল্ড হতে হবে।

কিভাবে শিখবেন? শিখার উপায়গুলো কি কি?

>>আমি যে কয়টি কাজের কথা বলেছি এই সবগুলোই স্কিল নির্ভর কাজ, তাই আপনাকে প্রথমে প্রশিক্ষিত হতে হবে। কিভাবে প্রশিক্ষণ নেয়া যায়, এই বিষয়ে কিছুটা ধারনা থাকা জরুরি এরপর প্রশিক্ষণ শেষে প্র্যাকটিস করে যেতে হবে দক্ষতা তৈরির জন্যে (অভিজ্ঞতার জন্য গাটের টাকা খরচ করে চাকরি করার দরকার নেই, বাসায় বসে প্র্যাকটিস করলেই চলবে) ।গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে শুরু করে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট পর্যন্ত এই কাজ গুলো আপনি শিখতে পারেন যে কয়টি উপায়ে-

১. অনলাইন আর্টিকেল বা ই-বুক পড়েঃ ই-বুক বা আর্টিকেল পড়ে পড়ে শিখে নেয়া যায়। এক্ষেত্রে সুবিধা হলো অনেক খুটিনাটি টিপস ও পাওয়া যায়। কিন্তু এর সবচেয়ে বাজে দিকটি হলো ধৈর্য সহকারে সময় নিয়ে পড়া। ঘন্টার পর ঘন্টা পড়তে হবে তাও আবার ই-বুক এটা আমার মতো অনেকের পক্ষেই অসম্ভব। তবে ইবুক গুলি প্রিন্ট করে এনে পড়া যেতে পারে, তাহলে হয়তো বোরিং লাগাটা কিছু কমতে পারে। ঢাকার নীলক্ষেতে খুব সাশ্রয়ী মূল্যে ইবুক প্রিন্ট করার সুবিধা আছে, এছাড়া ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায়ই সাশ্রয়ী মূল্যে প্রিন্ট করা যায়। একটু খোঁজ খবর করে জেনে নিতে পারেন আপনি নিজেই।

এক্ষেত্রে আরেকটি ভয়াবহ সমস্যা হলো ভুল হলে সংশোধন করে দেয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায় না। তথাকথিত গুরুরা সময় স্বল্পতার কারন দেখিয়ে বেমালুম পাশ কাটিয়ে যান। তবে কেউ যদি ধৈর্য সহকারে পড়তে পারেন এবং লেগে থাকতে পারেন, তাহলে অবশ্যই পারবেন।

২. ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখেঃ বর্তমানে কোন কিছু শিখার অন্যতম একটা উপায় হলো ভিডিও টিউটোরিয়াল। পড়ার থেকে দেখে শিখতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনি কাজটা রপ্ত করাও সহজ। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদির উপর বাংলা এবং ইংরেজি, দুটো ভাষাতেই প্রচুর ভিডিও আছে।

এক্ষেত্রে আমি মনে করি,  খুব শক্ত মনোবল থাকাটা জরুরি। কারন অনেকেই অনেক উৎসাহ নিয়ে ভিডিও দেখা শুরু করেন কিন্তু শেষ আর করতে পারেননা। অনেকটা হাতের কাছে থাকাতে এবং তাগিদ দেয়ার কেউ না থাকাতে, অনিয়মিত হয়ে যায়।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ধরনের টিউটোরিয়াল দেখেই যে আপনি শিখতে পারবেন তা কিন্তু নয়। বেশিরভাগ টিউটোরিয়ালই হয় অসম্পুর্ন, না হয় অনেক বেশি সিরিজ করে দেয়া থাকে যা অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ।

অনাকাঙ্ক্ষিত সময় নষ্ট করার চেষ্টায়, দুই মিনিটের কাজ শিখতে কখনও কখনও দুই দিনও লেগে যেতে পারে। আমার বিবেচনায় এটি অনেক বেশী ব্যয়বহুল, সময়ের চাইতে দামী তো পৃথিবীতে আর কিছু নাই। টাকা পয়সা ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু সময় চলে গেলে পৃথিবীর সমস্ত ঐশ্বর্য দিয়েও তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

তবে এটি নিতান্তই আমার নিজের মতামত, ভিন্নমতাবলম্বী থাকতেই পারেন। আমি সঠিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, অতএব নির্দ্বিধায় আপনার মতামত ব্যক্ত করতে পারেন।

৩. দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিয়েঃ আমার মতে কাজ শেখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একজন অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কারো সাথে থেকে যদি শিখে নেয়া যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচাইতে বড় বাধা হল দক্ষদের হাতে সময় থাকে না এবং তারা নিজেরা কাউকে কাজ শেখানোর প্যারা নিতে চান না।

আবার নিজের পছন্দের ক্ষেত্রে, সবার হয়তো দক্ষ কারো সাথে পরিচিতিও থাকে না। তাই এটি শ্রেষ্ঠ উপায় হলেও সবার জন্য উপযোগী নয়।

৪. কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিয়েঃ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমরা ছেলে বেলা থেকেই নিচ্ছি। এর কোন গ্রহণযোগ্য বিকল্পও নেই। যদি বই পড়েই শিখতে পারতাম, তাহলে স্কুল, কলেজ বা  ইউনিভার্সিটির কোন প্রয়োজন ছিলনা।

যে কোন ভালো ট্রেনিং ইন্সটিউট থেকে আপনি প্রশিক্ষন নিতে পারেন। আপনার আশে পাশে প্রশিক্ষন দিচ্ছে এমন যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকেই আপনি প্রশিক্ষন নিতে, সেক্ষেত্রে  ভালো প্রতিষ্ঠান চিনার উপায় জেনে নেয়াই শ্রেয়। প্রাথমিকভাবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখাটা বুদ্ধিমানের পরিচায়ক-

-> প্রশিক্ষন উপযোগী প্রযুক্তিগত সাপোর্ট ও প্র্যাকটিস করার জন্যে ল্যাব আছে কিনা।

-> মান সম্পন্ন প্রশিক্ষক আছে কিনা ।

-> প্রতিষ্ঠানটির মানসিকতা কেমন? তারা কি শুধু ছাত্র পড়িয়েই খালাস হয়?

-> বাস্তব কর্মক্ষেত্রে এদের অবস্থান কি এবং কেমন?

-> চাকরি পাবার ক্ষেত্রে এদের কি কোন সাপোর্ট আছে কিনা?

-> সবচাইতে বড় বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি গতানুগতিক, নাকি এদের নিজস্ব স্বকীয়তা কিছু আছে?

-> ভালোভাবে জানার জন্যে আপনি সরাসরি গিয়ে দেখে আসুন। সবকিছু ভালোভাবে জেনেই সিদ্ধান্ত নেয়া ভালো হবে।

 

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ শীতলীকরণ যন্ত্রের শীতল বায়ু আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সমূহ ক্ষতিকর হতে পারে। ললনাময়ীদের সুমিষ্ট ভাষণে ভূপাতিত হইবার পূর্বে বুঝিয়া লইবেন, এই শীতল স্পর্শ কিন্তু আপনারই অর্থে প্রদান করা হইতেছে। তাই, সাধু সাবধান!

আমরাও দুধে ধোয়া তুলসি নই, তাই নিজ দায়িত্তে-কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষন নিবেন জেনে নিন।

কেমন বুঝলেন আমাদের চাকরির অব্যর্থ ম্যাজিক ফর্মুলা? প্রকৃত ব্যাপারটা হোল, আমরা সবাই আমাদের সমস্যাগুলি জানি এবং বেশীরভাগ সময়ই সমাধানটাও আমাদের জানাই থাকে, শুধু নিশ্চয়তার অভাবে আমরা সমাধানগুলি মানতে পারি না।

গ্যারান্টি আমাদের, আপনি নির্দ্বিধায় শুরু করে দিন, সাফল্য আসবেই। আবার ফিরবো, নতুন কোন ম্যাজিক ফর্মুলা নিয়ে। ভালো থাকবেন, আমাদের সাথেই থাকবেন।

মাসিক আয় করুন ৪০,০০০-১,৫০,০০০ টাকা-গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে

মাছি মেরেই আয় ৫৩ কোটি টাকা- আপনিও পারবেন।

 

Leave a Reply

Scroll To Top