You are here: Home / প্রযুক্তি প্রেমী / ভালো ট্রেনিং ইন্সটিটিউট চেনার উপায়

ভালো ট্রেনিং ইন্সটিটিউট চেনার উপায়

ভালো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট

বলুন তো, ন্যাড়া বেলতলায় কয়বার যায়?

অনেক প্রাচীন একটা আই কিউ টেস্ট, কারও বুদ্ধিশুদ্ধি কেমন তা যাচাই করার জন্যই মূলত এমন প্রশ্ন করা হয়।

এর সঠিক উত্তরটা জানেন কি?

কেউ এর উত্তরে বলবেন, একবার, কেউ বলবেন, দুই বার। আমার ব্যক্তিগত ধারনা, এর সঠিক উত্তর হবে “বার-বার”।

স্থান কাল পাত্রভেদে এর উত্তর তিনটিই সঠিক, কেউ হয়তো দ্বিমত করে বলতে পারেন, আমার দেয়া “বার-বার” উত্তরটি সঠিক নয়।

এর খণ্ডনে আমি বলবো, আমাদের বাংলাদেশীদের জন্য “বার-বার” উত্তরটিই সঠিক। যদি তাই না হবে, তাহলে ডেসটিনি, ইউনিপে টূ ইয়ূ, যুবক, ডুল্যান্সার, স্কাইল্যান্সার টাইপের প্রতিষ্ঠান কিভাবে উদয় হয়? কেনই বা আমরা বার-বার একই ভণ্ড নেতাকে ভোট দিয়ে জয়ী করি?

ইদানীংকালে আবার এমনই এক ধান্দাবাজির রমরমা কারবার শুরু হয়েছে এবং দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি, এইবার খোদ সরকারও এতে জড়িয়ে পড়েছে। জেনে হোক, না জেনেই হোক, এই ধান্দাবাজির রমরমা কারবারে সরকারের অংশগ্রহণ করাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অশনিসংকেত হিসাবেই দেখছি।

ভনিতা না করে সরাসরি মূল বিষয়ে চলে আসি, বাকি বিবেচনা সম্পূর্ণ পাঠকের।

“ফ্রিল্যান্সিং” আজকাল তরুণদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, সবাই ফ্রিল্যান্সিং জ্বরে আক্রান্ত। বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম, ফ্রিল্যান্সিং বলতে অজ্ঞান।

আর এরই সুযোগে রাতারাতি কিছু ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ফেঁদে বসেছে রমরমা ব্যবসা। কোমলমতি শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের চোখে স্বপ্নের রঙ লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আর অশিক্ষা, কুশিক্ষায় ধ্বংস করে দিচ্ছে এদের ভবিষ্যৎ।

“ফ্রিল্যান্সিং” এক দারুণ সুযোগ, আমাদের মতো অনুন্নত দেশগুলির জন্য এ এক সোনালি সুযোগ, এই বিষয়ে আমিও একমত। কিন্তু ভুঁইফোঁড় সুবিধাবাদী এইসব ট্রেনিং ইন্সটিটিউট গুলির কারণে সোনালি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

“ফ্রিল্যান্সিং” আসলে কি?

এটি মূলত দক্ষদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ। যে কোন পেশায় দক্ষ যারা, তারা তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে, নিজ স্বাধীন মতো সময়ে কাজ করে আয় করতে পারেন। তাতে যার যখন প্রয়োজন, সে তখন কাজ করতে পারেন। এতে মূলত বাঁধাধরা ৯টা-৫টা কাজ করার দরকার হয় না, ঠিক তেমনই এতে বাঁধাধরা কোন বেতনও থাকে না।

যিনি হায়ার করবেন, তিনিও যেমন স্বাধীন, তেমনই যিনি কাজ করবেন তিনিও স্বাধীন। এটাই মূলত “ফ্রিল্যান্সিং”, আর কাজ যিনি দেন, তিনি তাঁর কাজ কে তখন করেন “আউটসোর্সিং”।

এই ফ্রিল্যান্সিং-এর ধারণা কিন্তু বিশ্বে বা আমাদের দেশে খুব একটা নতুন নয়। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, ফটোগ্রাফাররা অনেক আগে থেকেই নিউজপেপারগুলির জন্য ফ্রিল্যান্স কাজ করতেন। সেখানে ছবি প্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হোতো, তাই মাস কাবারি বেতনের তেমন কোন প্রয়োজন ছিলনা।

তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়ালো? দক্ষতাই ফ্রিল্যান্সিং-এ সাফল্যের মূল মন্ত্র, কিন্তু এইসব ভুঁইফোড়দের বক্তব্যে কিন্তু এমন মনে হয় না। তাই আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের জন্য একটি কুইক গাইডলাইন তৈরি করেছি। আপনাদের বিবেচনায় যদি যৌক্তিক মনে হয়, বিনা দ্বিধায় নির্লজ্জের মতো প্রয়োগ করে আপনার অমূল্য অর্থের সাশ্রয় করে হয়ে উঠুন সফল ফ্রিল্যান্সার।

মান সম্পন্ন ট্রেনিং ইন্সটিটিউট চেনার সহজ উপায়ঃ

মান সম্মত প্রশিক্ষক বা ট্রেইনারঃ ভালো শিক্ষকের কাছে পড়লে ফলাফল ভালো করাটা অনেক সহজ, এই বিষয়টা আমরা সবাই জানি। কে ভালো শিক্ষক আর কে নন তা জানাটাও অনেকটাই সহজ, ভালো শিক্ষকের গুণগান মানুষের মুখে মুখেই জানা যায়। কিন্তু আই টি শিল্পটি তুলনামূলক অনেক নতুন হওয়ায়, ভালো ট্রেইনার কে জানাটা একটু জটিল, কিন্তু অসম্ভব নয়।

যিনি ট্রেইনিং দিবেন, তাঁর যোগ্যতা সম্বন্ধে জেনে নিন, দরকার হলে তার সাথে কথা বলুন। তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে জেনে নিন। মনে রাখবেন, যিনি ভালো কাজ করেন, তিনি সবসময় ভালো শিক্ষক হবেনই এমন নয়। নিজে জানা আর আরেকজনকে শেখানো সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। তাই নিজে যাচাই করাই উত্তম।

একই সাথে ভালো কাজও জানেন, আবার ভালো প্রশিক্ষকও এমনটা বেশ বিড়ল। তবে একেবারেই যে নেই তা নয়। খুঁজলেই পেয়ে যাবেন, চেষ্টায় কি না হয়?

ফি কেমন?

“জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশী।“

খাঁটি কথা, কম দামে চাইনিজ জিনিস পাওয়া যায়। দেখতে চকচকে হলেও আদতে জিনিস কিন্তু টেকসই না। তাই ফিটা একটু দেখে নেওয়াই ভালো। খুব সস্তা কিছুতে না যাওয়াই ভালো, বিশেষ করে যেখানে রুটিরুজি জড়িত।

২০০০ টাকায় এম এস অফিস যারা শেখান, তারা কতোটুকু কি শিখাতে পারবেন জানতে, জ্যোতিষ হতে হয় না। আশা করি বুঝতে পারছেন।

ফ্রি ট্রেনিং-এ অনেক বেশী মূল্য দিতে হতে পারেঃ

ইদানীং আমাদের সরকার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জন্য এবং বিলিয়ন ডলার রেভিনিউ আয় করার জন্য ভর্তুকি দিয়ে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করছেন। একটু আগে আমি যে আশংকা করছিলাম, সেটা ঠিক এই কারনেই।

সরকারি এই ভিসন কে বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু ট্রেনিং সেন্টারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই সো কল্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্টারগুলি মুড়ি মুড়কির মতো ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা শুরু করেছে। তারা ফ্রি তে ট্রেনিং দেন, আবার কাজ কাম পেতেও সাহায্য করেন।

আচ্ছা, আপনিই ভাবুন, আজ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় কাজের কাজ কি কিছু হয়েছে? তো আজই বা হবে কেন?

ফ্রি ট্রেনিং এর নাম করে এরা, সরকারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একবার টাকা পেয়ে গেলে, কিসের ট্রেনিং আর কিসের কি?

ক্লাস আজ হয়তো কাল হয় না, আজ এই সমস্যা তো কাল সেই সমস্যা। এভাবে এরা মুল্যবান সময় নষ্ট করতে থাকে, একসময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহে ভাটা পড়ে, এবং শেষ অবধি মৃত্যু হয় একটি সম্ভাবনার, একটি স্বপ্নের।

ফ্রি ট্রেনিং এর নামে এমন ফাঁদে না পড়াই মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যে শিক্ষা আপনাকে স্বাবলম্বী করবে তার জন্য না হয় কটা টাকা খরচই করলেন! কি বলেন আপনারা?

চক চক করিলেই সোনা হয় নাঃ ঝাঁ চকচকে ট্রেনিং সেন্টার দেখে ধরে নিলেন এরা বোধহয় সেইরম কিছু একটা, ঠিক হোল? জানেন তো, চক চক করিলেই সোনা হয় না?

এসির ঠাণ্ডা বাতাস হয়তো শরীর আর মন জুড়াবে কিন্তু শিক্ষিত করবে না। তাই রিসেপশনের সুন্দরীদের মিস্টি কথায় না ভুলে বরং জেনে নিন সবকিছু। সন্তুষ্ট হলে তবেই সিদ্ধান্ত নিবেন, মনে রাখবেন, নিজের বুদ্ধিতে বোকা হওয়াও ভালো।

নতুন মানেই খারাপ নয়ঃ অনেকের ধারণা, অভিজ্ঞ হলেই ভালো। মানছি, কিন্তু শুধু অভিজ্ঞতাই সব কিছু নয়, নতুনত্বের মূল্যও কিন্তু নেহাত কম নয়। বিশেষ করে আই টি তে নতুনরাই বেশী ভালো।

যদি তাই না হবে তাহলে ফেসবুক, গুগুল, ইউটিয়ুব কিংবা এন্ড্রয়েড এতো জনপ্রিয়তা পেতনা, তাই না! অতএব আই টি তে নতুনদের হেলা করার খুব একটা সুযোগ নেই।

প্রতিষ্ঠানটি কেমনঃ এটিই মনে হয় সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যে প্রতিষ্ঠানটি আপনাকে শেখাবে সেটি কেমন তা অত্যন্ত জরুরী। আমাদের দেশে প্রশিক্ষিত লোকবলের ভীষণ অভাব, বিশেষ করে আই টি শিল্পে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নিজেদের স্বার্থে লোকবল তৈরি করে নেয়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে শিখতে পারলে সবচাইতে ভালো হয়। এরা নিজেদের স্বার্থেই কর্ম উপযোগী প্রশিক্ষণ দিবে, প্রশিক্ষণে কোন ফাঁক ফোকর রাখবে না। যদি রাখে, তাহলে তাদের নিজেরই ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশী।

এমন প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে খুব বেশী নাই তবে খুজলে দুই চারটা পাওয়া যাবেই। একটা ব্যাপার কিন্তু নিশ্চিত, যারা শুধু ছাত্র পড়িয়েই ব্যবসা করে তারা কিন্তু খুব একটা যত্নশীল হয় না। ব্যতিক্রম যে নেই তা বলছি না, কিন্তু ঠগ বাছতে গেলে গাঁ উজাড় যে হবেই তাতেও খুব একটা সন্দেহ নাই।

কোর্স মডিউলঃ কি কি শেখাবে? কোন কোন বিষয়ের উপর ক্লাস হবে তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুই হাজার টাকায় এম এস অফিস শিখিয়ে হাফেজ করা প্রতিষ্ঠানে কোর্স মডিউল কিন্তু বিরাট লম্বা চওড়া হয়, কিন্তু আসলে কি খুব ভালো শেখায়?

ধরুন,

ওয়ার্ড ফাইল ওপেন করা,

ওয়ার্ড ফাইল ক্লোজ করা,

ওয়ার্ড ফাইল সেভ করা,

ওয়ার্ড ফাইল নতুন করে ওপেন করা,

দেখতে অনেক লম্বা লিস্ট হলেও কার্যত মাত্র দুই মিনিটের শিক্ষা। আশাকরি ব্যাপারটা ধরতে পেরেছেন।

তাই কোর্স মডিউল চেক করে নেয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক সাথে অনেক কিছু না শিখিয়ে যদি শুধু এম এস ওয়ার্ডটা ঠিকমত শেখায় তাহলে আমি বলবো ২০০০-৩০০০/= টাকায়ও শেখানো সম্ভব না। কারণটাও বলি, শুধু এম এস ওয়ার্ড ঠিক মতো ব্যবহার করতে পারলেই, ইন্টারনেট থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করা সম্ভব। শুধু এম এস ওয়ার্ডে যে কতো কিছু লুকানো আছে! আমি আজও শিখে যাচ্ছি, পাঁচ বছর হয়ে গেলো, তার পরও পুরোপুরি আয়ত্তে আনতে পারিনি আর এরা পোস্টার লাগিয়ে ২০০০/= টাকায় দশটি কোর্স করাচ্ছে?! কেমনে কি? মাথাই নষ্ট।

Leave a Reply

Scroll To Top