You are here: Home / পার্থিব / পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কতিপয় টিপস।

পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কতিপয় টিপস।

পারিবারিক সুস্থতা হলো সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল ভিত্তি। প্রতিটি পরিবার যদি সুস্থ আর সবল থাকে তাহলে দিনে দিনে গোটা জাটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। আধুনিক সভ্যতা আমাদের উপহার দিয়েছে নগরায়ণ। মানুষ গ্রাম থেকে আসছে শহরে ও নগরে। ভীড় বাড়ছে আর এই সাথে বাড়ছে স্বাথ্যগত ঝুকি। কারণ, নগরায়ন হলো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। নগরায়নের ফলে নানা ধরনের মানুষের আগমন ঘটে, আর সৃষ্টি হয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ সহ অসংখ্য ক্রনিক রোগের শিকার হচ্ছে মানুষ। ফলে স্বাস্থ্য অবকাঠামোকেও ছাড়িয়ে যায় সমস্যাগুলো। এই সমস্যা থেকে আপনার পরিবার কতটুকু সুরক্ষিত সেটাই দেখার বিষয়। এখানে পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কিছু টিপস দেয়া হলোঃ-

পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা

পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কতিপয় টিপস:-

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ঘরোয়া সুরক্ষা সম্পকিত টিপস শুধু পড়া নয় বরং নিজের পরিবারে প্রয়োগ করুন। নিঃসন্দেহে এটা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে মনে হবে আপনার কাছে।

পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা

>> নিত্যদিনের ময়লা কাপড় চোপড় এলোমেলোভাবে না রেখে নির্দিষ্ট কোন বাস্কেট এ রাখুন।

>> আসবাবপত্রের ময়লা-ধূলা প্রতিদিন ঝাঁড়-পোছ করে পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন।

>> বালিশের কভার, সোফার কভার, চাদর সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। প্রত্যেক সপ্তাহে অথবা পনেরো দিন অন্তর ঘরের পাখা পরিষ্কার করবেন। দরজা, জানালা, জানালার কাঁচ, শিক, দরজার হাতল পরিষ্কার করুন।

পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা

>> জামায় কাদা লাগলে শুকাতে দিন। তারপর ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

>> গরম পানিতে একটা লেবু ফেলে দিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে কাঁচ অথবা ছুরি চামচ পরিষ্কার করলে চকচকে হয়ে উঠবে।

পারিবারিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা

>> মেঝেতে টাইলস থাকলে অল্প Bleaching Powder দিয়ে নাইলন ব্রাশ দিয়ে রগড়ালে মেঝে পরিষ্কার হবে। এবার পানিতে জীবাণুনাশক মিশিয়ে শুকনো করে মেঝে মুছে নিন।

>> পানির মধ্যে অল্প ভেসিড (পাতলা জাতীয়) ঢেলে তা দিয়ে ফার্নিচার পরিষ্কার করলে পুরোনো পালিশ ঝকঝকে হয়ে উঠবে। মোলায়েম পালিশ তৈরির জন্য এক ভাগ লেভুর রসে দুই ভাগ অলিভ অয়েল মিশান। এটা শিশিতে ভরে রাখুন। ব্যবহার করার আগে শিশিটি ভালভাবে নাড়িয়ে নেবেন।

>> বাড়িতে কারও অসুখ হলে বিশেষত সংক্রামক অসুখ হলে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। রোগীকে আলাদা ঘরে, এমনকি প্রয়োজনে মশারির ভেতর রাখতে হবে। রোগীর ঘর খোলা মেলা হওয়া বাঞ্ছনীয়। রোগীর ঘরের দরজা জানালা, মেঝে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং জীবাণুনাশক দ্বারা মুছে দিতে হবে।

>> মোজাইক করা মেঝে মোছার সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা কেরোসিন তেল ঢেলে মুছলে মেঝে চকচক করবে।

>> রোগীর কাপড়-চোপড় আলাদা রাখতে হবে। ডিটারজেন্ট পানিতে সিদ্ধ করে কেঁচে কড়া রোদে শুকতে হবে।

>> দুশ্চিন্তা এবং টেনশনে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতায় ফাটল ধরে। এই সুযোগে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে নানা রোগ বালাই। এসিডিটি, ডায়ারিয়া, গ্যাস্ট্রাইটিসসহ ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াস ইনফেকশনে স্বাভাবিক জীবনে ছন্দ পতন হতে পারে। এসব সমস্যায় চিকিৎসকের পরা্মর্শ নেবার পাশাপাশি পানি পান করতে হবে প্রচুর। এমন খাবার ত্যাগ করতে হবে যা সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

>> মানসিক চাপ এবং নানা দুশ্চিন্তা শারীরিকভাবে আপনাকে অসুস্থ করে তুলতে পারে। চোখ দেখে মনে হবে ক্লান্ত, চেহারায় ফুটে উঠবে অলসভাব। এমন সমস্যা কাটাতে টক দই বিশেষ কার্যকর। এছাড়া মেডিটেশন, ডিপ ব্রিদিং, উপযুক্ত এক্সারসাইজও আপনাকে সহায়তা করতে পারে।

>> ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিশেষ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার সবচেয়ে নিরাপদ। এসময় অন্যান্য কাপড় চোপড় কেঁচে জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিবেন।

>> নিজের পরিধেয় কাপড়-চোপড় পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অন্যের পরিধেয় কাপড় না ধুয়ে ব্যবহার করলে খুশকি, জীবানু ও চর্মরোগ সংক্রমিত হতে পারে।

>> খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সকলকে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে। অনেকে নানারকম ভীতি, দুশ্চিন্তা এবং মানুষিক চাপকে ভুলে থাকতে হঠাৎ বেশি বেশি খাওয়া শুরু করেন। এতে নিঃসন্দেহে চেহারায় ফুলে উঠবে মলিন ভাবে, শরীরের ওজন বেড়ে যাবে। অনেকে আবার মোটা হওয়ার ভয়ে খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দেয়। এতে করে শরীরে পুষ্টির ধাটতি দেখা দিতে পারে। অতএভ, খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে কম চর্বিযুক্ত খাবার। দুধ, সালাদ, ফল, সবজি খাওয়া যেতে পারে আর পানি প্রচুর পরিমানে পান করতে হবে।

>> ছোট বেলা থেকেই বাচ্চাদের সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি পালন যেমন নিয়মিত গোসল,বাথরুক থেকে বেরিয়ে হাত-পা ধোয়া, খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ পরিষ্কার করা ইত্যাদিতে অভ্যন্ত করে তুলুন।

 

কৃতজ্ঞতাঃ ডাঃ চৈতী আহমেদ

Leave a Reply

Scroll To Top