You are here: Home / পার্থিব / প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস বিশেষ গুরত্বপুর্ন

প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস বিশেষ গুরত্বপুর্ন

হাঁটতে কেন হবে? এই প্রশ্নটা অনেকেই করে থাকেন। তাহলে আসুন দেখি, কেন হাঁটা উচিত?

ইদানিং স্যাটেলাইট চ্যানেলের একটি মোবাইল ফোন কোম্পানীর বিজ্ঞাপনে একটি সাইনবোর্ড দেখানো হয়। তা হলো “ওয়াক এন্ড টক”। অন্তত মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়টুকু হাঁটুন। বিজ্ঞাপনে এই কথা বলার সময়টুকুতে বসে বা শুয়ে না থেকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয় কারন প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস বিশেষ গুরত্বপুর্ন। বিজ্ঞাপনের শেষাংশে দেখানো হয়, এই অভিনব আইডিয়া অনুসণের ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা শারীরিকভাবে আগের ছেয়ে বেশি ফিট হবেন এটাই প্রত্যাশা।

প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস

 

অনেক আগে থেকেই চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা মেনে আসছেন, হাঁটাই সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়ামটি সবচেয়ে কম খরচে শারীরিকভাবে সবচেয়ে ভাল থাকার অন্যতম উপায়। জন্মের এক বছরের মধ্যেই শিখে নেয়া এই ব্যায়ামটি ঘরে বাইরে যে কোন জায়গায় করা যায়।

নিম্নে হাঁটার কয়েকটি গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:-

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ:-

নিয়মিত হাঁটর ফলে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে হৃদযন্ত্রে স্বল্প চেষ্টায় দেহে অধিক পরিমানে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই হাঁটা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতই কাজ করে।

প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস

এছাড়া হাঁটার ফলে রক্তে ‘খল কোলেস্টেরল’ নামে পরিচিত লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন কমে যায়। এই ‘খল কোলেস্টেরল’ পরিমাণের বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমা হয়ে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭২ হাজার নারীর উপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সপ্তাগে অন্তত তিন ঘন্টা অথবা দৈনিক আধা ঘন্টা করে হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম।

ডায়াবেটিস ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি হ্রাস

যুক্ত্রাষ্ট্রে ডায়াবেটিস প্রিভানশন প্রোগ্রামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটা আর দৈনিক ওজন সাত শতাংশ কমানোর মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৫৮ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়। অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ হ্রাস পায়।

হাড় ক্ষয় ও ভাঙন রোধ:-

প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস

গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী বয়সে যেমন মহিলা প্রতিদিন অন্তত এক মাইল করে ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে হাঁটেন, তাঁদের হাড় ঘনত্ব কম-সচল মহিলাদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আরথ্রাইটিস সহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। কমে যায় বয়সকালে সহজেই কোমড়ের হাড় ভাঙার ঝুঁকিও।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন:-

হাঁটার ফলে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে মনে, মানসিক চাপ বোধ হয় কম। এই সময় শরীরে এন্ডোরফিন নামের রাসায়নিক ক্রিয়া ভেড়ে যায় বলে ঘুম হয় আরামদায়ক। মেডিসিন নিট ডট কম ওয়েব সাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষকরা বলেছেন, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটার ফলে বিষণ্ণতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়।

প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস

অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন, তাঁদের বোধশক্তি সপ্তাহে ৪০ মিনিটের কম হাঁটা মহিলাদের তুলনায় বেশী।

ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস:-

মহিলাদের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ব্যায়ামের উদ্দেশ্যে সপ্তাহে দেড় থেকে আড়াই ঘণ্ট হাঁটেন, তাঁদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি খুব কম। প্রকৃতপক্ষে যারা হাঁটেন না তাঁদের চেয়ে অন্তত ৩৫ শতাংশ কম। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যানসার স্টাডিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিম্নাংশের ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি:-

প্রাথমিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস

স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার ও নিয়মিত হাঁটা- দীর্ঘমেয়াদ ওজন-নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও সবলতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত হাঁটার প্রয়োজন।

হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। যে কোন ধরনের হাঁটা উপকারী। তবে প্রকৃত সুফল পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন আধা ঘন্টা করে সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন মধ্যম গতির হাঁটার উপদেশ দেন। তবে কোন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন, কতটুকু হাঁট আপনার জন্য উপযোগী।

 

কৃতজ্ঞতাঃ ডাঃ চৈতী আহমেদ

Leave a Reply

Scroll To Top