You are here: Home / বারোয়ারি / দুধ সাদা দাঁত ! বিলকুল ডেন্টিস্ট এর কামড় ছাড়া

দুধ সাদা দাঁত ! বিলকুল ডেন্টিস্ট এর কামড় ছাড়া

সাদা দাঁত

দুধ সাদা দাঁত কার না পছন্দ? কিন্তু সবার কি আর সবকিছু কপালে থাকে? আজকাল নিকোটিন আর চুইংগামের যন্ত্রণায় দাঁতগুলোকে সাদা রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। আমার মতো এমন সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য বিশাল সুখবর; আপনার তরমুজের বিচির মতো প্রায় হলদে হয়ে যাওয়া দাঁত আবার ঝক ঝকে তক তকে হয়ে উঠবে কোন ক্ষ্যাপা ডেন্টিস্টের সাহায্য (নাকি অন্য কিছু! বিবেচনা আপনাদের হাতেই থাকলো) ছাড়াই।

সাদা দাঁত

এবার ১০০ শতাংশ নিজ চেষ্টায় আপনার দাঁতকে সাদা করে তুলতে জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতি। আমি নিজে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছি, কিন্তু পাঠককে নিজ বিবেচনায় এর প্রয়োগ করতে অনুরোধ করা যাচ্ছে, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অনুরোধ করছি। এ সংক্রান্ত সকল দায় ব্যবহারকারীর নিজের, লেখক অথবা কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।

সাদা দাঁত

তাহলে চলুন দেখে নিই দাঁত সাদা করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহ।
টুথপেস্ট-যে কোন প্রকার টুথপেস্ট
বেকিং সোডা- খাওয়ার সোডা নামেই আমাদের দেশে বেশী পরিচিত।
পানি-সাধারন খাওয়ার উপযোগী পানি।

মিক্সার তৈরির পদ্ধতিঃ
প্রথমে যেকোনো একটি ছোট পাত্রে সামান্য টুথপেস্ট টিউব থেকে বের করে পাত্রে নিই। এরপর এতে বেকিং সোডা ১ চা চামচ পরিমাণ নিই এবং সামান্য একটু খাবার পানি এতে মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিই। মিশ্রণটি যখন ভালোভাবে মিশে যাবে তখন বুঝবেন এটি ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে।

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
এখন আমরা যে মিশ্রণটি তৈরি করলাম, সেটি সাধারণ টুথপেস্টের মতো করে ব্রাশে লাগিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট পর্যন্ত দাঁত ব্রাশ করুন। সপ্তাহে একদিন করে এই মিক্সার ব্যবহার করতে থাকুন যতদিন পর্যন্ত আপনার কাঙ্খিত ফলাফল অর্জিত না হয়।

দাঁত আপনার মনের মতো সাদা হয়ে গেলে মিক্সারটি মাসে অথবা দুই মাসে একবার করে ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো নয়, অতএব এটিও বেশী ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
পদ্ধতি নংঃ ২
প্রথম পদ্ধতিটি আপনার মনপুত না হলে অথবা আপনি কেমিক্যাল বিদ্বেষী হলে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটি আপনার উপযোগী। আসুন দেখে নিই কি কি দরকার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার জন্য।

কলার খোসা, বিলকুল ফ্রেশ এবং ঝরঝরা; বাসী কলার খোসা আমার আবার সঙ্গত কারনেই না পছন্দ (বিটকেল পচা দুর্গন্ধ সহ্য করতে পারলে বাসী কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু দায় সম্পূর্ণ আপনার!)

আর সুস্থ সবল ডান হাত (বাইয়া হলে বা হাতও চলবে)।

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
প্রথমেই কলা খেয়ে কলার তাজা, ফ্রেশ খোসা সংগ্রহ করতে হবে। তারপর সদ্য সংগৃহীত কলার খোসার ভিতরের অংশ দিয়ে দাঁতগুলিকে ভালোভাবে রগড়ে বা ঘষে নিন। তাড়াহুড়া না করে মিনিট দুয়েক ঘষতে থাকুন (কলার খোসার ভিতরের অংশের স্বাদ কিন্তু একটুও ভালো নয়।), ঘষা পর্ব সমাধা হবার পর শুরু করে দিন অপেক্ষা পর্ব যার ব্যাপ্তি প্রায় ৫ মিনিট কাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়।

৫ মিনিট পর যখন আপনি সহ্যের শেষ সীমায় পৌঁছে যাবেন তখন বিনাদ্বিধায় পানি দিয়ে কুলি করে ফ্রেশ হয়ে যান। ব্যাস হয়ে গেলো, সপ্তাহে দুই তিনবার এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে অচিরেই আপনিও হয়ে উঠবেন একপাটি ঝকঝকে দাঁতের গর্বিত মালিক।

পদ্ধতি নংঃ ৩
বেকিং সোডা, কলার খোসা যদি আপনার পছন্দের তালিকায় না থাকে তাই নিরাপত্তার খাতিরে আরো দুই একটি বোনাস পদ্ধতি দিয়ে দিচ্ছি। পাছে আমাকে দোষ দিতে না পারেন তাই এই অতিরিক্ত সতর্কতা, আশাকরি সবগুলো পদ্ধতিই আপনাদের কাজে আসবে।

যা যা দরকারঃ
সাধারণ খাবার লবন, আয়োডিন সহ অথবা ছাড়া দুটোতেই কাজ চলবে।
খাঁটি সরিষার তৈল (ভয় খাবেন না, কাউকে তৈল মর্দন করতে বলবো না।), এই ধরুন ছটাক খানেক। (অলিভ অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন, যদিও এটি সরিষার তেলের চাইতে কিছুটা ব্যায়বহুল। তবে ভেজাল অলিভ অয়েলের সন্ধান এখনও পর্যন্ত খোদ রকিবুর রহমান সাহেবও করতে পারেন নাই, তাই এর আসল বা খাঁটি হবার সম্ভাবনাই বেশী।)
দাঁতের উপযোগী যে কোন ব্রাশ (একটি হলেই চলবে।)

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
এই অতিব জটিল পদ্ধতি ভালোভাবে লক্ষ্য করুণ নতুবা ভুল হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। সামান্য এক অথবা দুই চিমটি লবন আর একটু খাঁটি সরিষার তেল যেকোনো পাত্রে হালকা করে মিলিয়ে নিন। এরপর ব্রাশে লবন সহ হালকা অথবা ভারী যে কোনও উপায়ে লাগিয়ে ব্রাশ করতে থাকুন। এই মিশ্রণের স্বাদ বেশ ভালো তবে লবনের পরিমাণ আনুপাতিক ভাবে বেশী হলে স্বাদ বিকৃত হয়ে তিতকুটে হয়ে যায়। এই মিশ্রণ প্রতিদিনই ব্যবহার করা যায়।

লবন আর তেলের প্রয়োগ কিন্তু মিশ্রিত না করেও করা যায়, যেমন ব্রাশে শুধু তেল লাগিয়ে নিন এবং ব্রাশ করার আগে এক চিমটি লবন ব্রাশে ছিটিয়ে দিন। এভাবেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে। তাহলে আর দেরী কেন, আজই শুরু হয়ে যাক মিশন সাদা দাঁত।

পদ্ধতি নংঃ ৪
সবচাইতে দ্রুত আর কার্যকর উপায় কিন্তু অতীব প্রাচিন, আপনাদের খবর জানি না কিন্তু ছেলেবেলায় আমরা এই পদ্ধতি হরহামেশা ব্যবহার করেছি। তখন না জেনে করেছি আর এখন ঠেকায় পরে করছি। চলুন ঝালিয়ে নিই আদিমতম দাঁত সাদা করার ধন্বতরি মন্ত্র।

উপকরনঃ
কাঠ কয়লার গুড়া (কাঠ পুড়িয়ে যে কয়লা হয়), এটি কিন্তু খনিতে পাওয়া কয়লা না। প্রাকৃতিক কয়লা যদিও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তবে দাঁত পরিস্কার করার কাজে এর ব্যবহার না করাটাই মনে হয় উত্তম। নিম কাঠের কয়লা সবচাইতে ভালো ফল দেয়, দাঁত পরিস্কার করার পাশাপাশি এতে দাঁতের ব্যাথাও এবং দাঁতের অনেক খুচরা রোগ উপশম হয়।

আদি এবং অকৃত্রিম আল্লাহর দেয়া ডান হাত (আগেই বলেছি, বাইয়া যারা আছেন তারা বাম হাতও ব্যবহার করতে পারেন।)

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
কয়লার গুড়া হাতের তালুতে নিয়ে আঙ্গুলের সাহায্যে দাঁত ঘষে নিন। ভালোভাবে ঘষুন যাতে দাঁতের ময়লা দাগ উঠে পরিস্কার হয়ে যায়। চাইলে হাতের বদলে ব্রাশও ব্যবহার করতে পারেন, তবে প্রাত্যহিক ব্যবহারের ব্রাশ পরিহার করলে ভালো হবে। কয়লা আপনার ব্রাশকে কালো করে ফেলবে, যা আক্ষরিক অর্থেই ধুলেও সাদা হইবার না।

পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলি করে ফেলুন, প্রতিদিন ব্যবহার করলে অচিরেই ফল পাবেন। নিম কাঠের কয়লার স্বাদ একটু তিতকুটে কিন্তু তুলনামূলক বেশী উপকারী।

দেখলেন তো কত সহজেই হয়ে গেলো কতো বিটকেল এক সমস্যার সহজ সমাধান। তাহলে আর দেরি কেন? আজ থেকেই শুরু করে দিন আর ছড়িয়ে দিন আপনার ৩২ পাটির আলোকচ্ছটা চারদিকে, কে জানে কাল হয়তো ক্লোজআপ হাসির জন্য আপনাকেই নামিয়ে দিবে টিভির কোন বিজ্ঞাপন চিত্রে! (১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ পাওনা থাকবে, নিজ দায়িত্বে পাঠিয়ে দিবেন!)

তাহলে আজ থেকেই শুরু করে দিন মিশন ঝকঝকে সাদা দাঁত একদম ফ্রিতে। মিশন সাকসেসফুল হল কিনা জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Scroll To Top