You are here: Home / পেট / শীতে কবুতরের যত্ন

শীতে কবুতরের যত্ন

 

কবুতরের যত্ন

আমরা অনেকে কবুতর পালি শুধু পালার খাতিরে অথবা লোক দেখান কিংবা ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। যদিও সবাইকে এক কাতারে ফেলাটা ঠিক হবে না। সে যাই হোক, আমার বলার উদ্দেশ্য হল যদি কবুতর পালতেই হয় , তবে পালার মত পালুন। অনেকে আছেন যাদের আন্তরিকতা আছে কিন্তু সময়ের অভাবে পারেন না । আর একদল আছেন যারা অজ্ঞতা বসত কিংবা কিছু মানুষ আছে যাদের অবহেলায় অনেক কবুতর মারা যায়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এবং কবুতরের যত্ন নিলে এই ধরনের নিশ্চিত ক্ষতি থেকে হতে মুক্ত থাকতে পারেন। আর কিভাবে এটা করতে হবে তা একটু চেষ্টা করলেই জানতে পারবেন। কিছুদিন আগে গরমের জন্য একটা মাসিক ছক দিয়েছিলাম, এবার দিলাম শীতের জন্য । একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে গরমের খাবার ও ভিটামিন আর শীতের খাবার ও ভিটামিন এক হতে পারে না। কিছু খাবার ও ভিটামিন গরমে একটু কম দিতে হয় যেটা শীতের সময় আবার একটু বেশি করে দিতে হয়। অনেকে আছেন যারা ঘরের ভিতরে কবুতর পালেন আবার অনেকে বাইরে। ভিতরে বা বাইরে যেখানেই পালুন না কেন, সব ক্ষেত্রেই একটি বিষয় খেয়াল রাখাটা জরুরি , বিশেষ করে বাইরে যারা পালেন।শীতের দিনে কবুতরের ঠাণ্ডা লাগার লাগার প্রবণতা একটু বেশি থাকে, আর বাইরে পালন করলেতো কথাই নেই। আর বিশেষ করে সেটা যদি গ্রাম এলাকা , ঠাণ্ডা যেন উড়ে আসে জুড়ে বসে। আর আপনি এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন অনায়াসে যদি আপনি কষ্ট করে কিছু নিয়ম মেনে চলেন। আসুন আমরা কবুতরের শীতের মাসিক ছক টি জেনে নেইঃ

  • মাসের ১-৪ তারিখ পর্যন্ত সাল্মনিল্লা কোর্স করাতে হবে( যেটা বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে করে থাকে, কিন্তু সবচেয়ে উপযুক্ত সাফি+ফেবনিল এর মিক্স কোর্স করার)।
  • মাসের ৫ তারিখ স্যালাইন দিন (অথবা এর বদলে ভিটামিন সি দিতে পারেন যেমন লেবুর রস। ১ টি লেবু ১ লিটার পানিতে।)
  • মাসের ৬-৯ তারিখ পর্যন্ত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স দিন ( এক্ষেত্রে toxynil, biovit, vita B+C ইত্যাদি ভিটামিন দিতে পারেন। কারন এর অভাবে বেশীর ভাগ টাল রোগ হয়) ।
  • মাসের ৯-১০ তারিখ পর্যন্ত হোমিও Kali Curb 30 দিন (এটা ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা থেকে প্রতিরোধ করবে )।
  • মাসের ১১ তারিখ রসুন বাতা+মধু+লেবুর রস (১ লিটার পানিতে ২ চা চামচ রসুন বাতা,২ চা চামচ মধু আর ১ চামচ লেবুর রস মিক্স করে দিলে ভাল।তবে, পানি অবশ্য ছেকে নিতে হবে। আর লেবু চিপার সময় গ্লভস বা লেমন ইস্কুইজার ব্যাবহার করবেন। এটা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করবে।তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই কোর্স করার আগে কৃমির ঔষধ দেয়া আছে কিনা টা জেনে নিবেন।কারন কৃমি থাকলে এটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।)
  • মাসের ১২ তারিখ হোমিও Belodona 30 (এটা আপনার কবুতর কে প্যারামক্সি ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে) ।
  • মাসের ১৩-১৬ তারিখ পর্যন্ত ক্যাল ডি,ভিটামিন “কে” ও “ই” দেয়া ভাল। ( এক্ষেত্রে Calcium Forte+AD3e+k Vit অথবা Calbo D+Ad3e+k Vit দেয়া যেতে পারে। এতে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করবে ও ভিটামিন কে ডিমের ভিতর বাচ্চা মারা যাওয়া ইত্যাদি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে ) ।
  • মাসের ১৭ তারিখ হমিও Borax 30 দিন( এটি বায়ু বাহিত রোগ থেকে প্রতিরোধ করবে)।
  • মাসের ১৮ তারিখ অ্যাপেল সিডার দিন।( এক্ষেত্রে আমেরিকার তৈরি অ্যাপেল সিডার দেয়া উত্তম। এটা সাল্মনিল্লা প্রতিরোধে সাহায্য করবে। ১ লিটারে ১ সিসি বা তার কম বা বেশি প্রয়োগ করবেন না তাতে বিপরীত ফল হতে পারে) ।
  • মাসের ১৯ তারিখ স্যালাইন দিন (অথবা এর বদলে ভিটামিন সি দিতে পারেন যেমন, লেবুর রস। ১ লিটার পানিতে ১ টি লেবু )।
  • মাসের ২০-২১ তারিখ পর্যন্ত লিভার টনিক দিন।( অধিকাংশ কবুতর লিভার জনিত সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। তাই লিভার এর ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে হামদারদ এর Cinkara, Icturn, Karmina ইত্যাদি ব্যাবহার করা যেতে পারে) ।
  • মাসের ২২ তারিখ হোমিও Tiberculinum 30 দিন (এটি ধুলা জনিত সমস্যা থেকে প্রতিরোধ করবে )।
  • মাসের ২৩ তারিখ লিকার চা দেয়া ভাল ( এটা কাঙ্কার প্রতিরোধ ও ভাল ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনে সাহায্য করবে )
  • মাসের ২৪-২৮ তারিখ পর্যন্ত মাল্টি ভিটামিন দেয়া ভাল ( এক্ষেত্রে pawer max(made in Vietnam),All Vit Ma(Made in Germany),Max grower (made in Holland) দেয়া যেতে পারে। এতে শরীর গরম রাখতে এবং সকল ভিটামিন ও মিনারেলস এর অভাব পুরন করতে সাহায্য করবে)
  • মাসের ২৯ তারিখ স্যালাইন দিন (অথবা এর বদলে ভিটামিন সি দিতে পারেন (যেমন১ লিটার পানিতে ১ টি লেবুর রস অথবা সাধারন পানিও দিতে পারেন )।
  • মাসের ৩০ তারিখ নিম বা করলা পাতা বেঁটে দিতে পারেন (১ লিটার পানিতে ১ চামচ অথবা সাধারণ পানিও দিতে পারেন)।

এই ছক যে আপনাকে অনুসরন করতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নাই, এটা আপনার পছন্দ অনুযায়ি পরিবর্রত করে নিতে পারেন। তবে, খেয়াল রাখবেন অসুস্থ কবুতর কে ভিটামিন বি- কমপ্লেক্স ছাড়া অন্য কোন ভিটামিন দিবেন না। এতে তার ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর অনেকে কবুতরকে বয়লার কিংবা গ্রেয়ার বা এই ধরনের খাবার দিতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে অসুস্থ কবুতরকে এই ধরনের খাবার দেয়া ঠিক না। একটা কথা খুব ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে যে, শীতে কৃমির ঔষধ ৪৫ দিন পরপর দিতে হবে, যদিও ছকে এটা উল্লেখ করা হয়নি, অনুরূপ ভ্যাকসিন এর ব্যাপারেও। অনেকে মনে করেন যে ভ্যাকসিনই সকল সমস্যার সমাধান। কিন্তু, আসলে এটা ঠিক না। এমনকি অনেকে বড় বড় খামারিরা জানেনই না কিভাবে এর সঠিক প্রয়োগ করতে হয়। আর এর কার্যকারিতাই বা কতটুকু? আসলেই এটা সঠিক কাজ করে কিনা? যাক, এসব নিয়ে এখন বিতর্কে যাব না। পরে এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করার আশা রাখি।

লেখকঃ কে এফ সোহেল রাব্বি ।

Leave a Reply

Scroll To Top