You are here: Home / পার্থিব / কেউ স্ট্রোক করলে বুঝার উপায় কি? – স্ট্রোকের লক্ষণ

কেউ স্ট্রোক করলে বুঝার উপায় কি? – স্ট্রোকের লক্ষণ

স্ট্রোক

খুব সহজ করে বলতে গেলে বাংলাদেশে যে ৩টি রোগের জন্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তার মধ্যে স্ট্রোক অন্যতম। আর সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ট্রোক হওয়ার অনেক পরে তা আমরা বুজতে সক্ষম হই আর ততক্ষনে প্রায় মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যেতে হয়। কি ভাবছেন? আপনার বয়স অনেক কম এখন কি আর স্ট্রোক হবে? হ্যা এটা ঠিক যে পরিসংখ্যান অনুযায়ী মধ্যবয়স বা তার বেশি বয়সী মানুষের স্ট্রোক হওয়ার ঝুকি বেশি কিন্তু বাকি পরিসংখ্যান ও কম নয়। সহজ কথা যে কোণ বয়সের মানুষের যে কোন সময় স্ট্রোক হতে পারে। আপনি চাইলে খুব সহজেই এই বিষয়ে সচেতন হতে পারেনঃ

মাঝে মাঝে স্ট্রোকের উপসর্গ সনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের অজ্ঞতার কারণেই নেমে আসে যাবতীয় দুর্যোগ। স্ট্রোকের শিকার রোগীর মস্তিষ্কে যখন ভয়ানক রকম ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, পাশে দাঁড়ানো প্রিয়জনটিই হয়তো বুঝতে পারছে না, কি অপেক্ষা করছে তাদের কাছের মানুষের জীবনে।আমি যতদূর জানি একজন যে কোন বয়সী সুস্থ মানুষ ৩টি শব্দ মনে রাখতে পারে, ঝটপট তিনটি অক্ষর মুখস্ত করে ফেলুন S T R , মুখস্ত করতে কষ্ট হলে আরেকটু সহজ করে দিচ্ছি স্ট্রোক এর ইংরেজি বানান হলো STROKE তাও আবার পুরোটা নয় মাত্র প্রথম ৩টি অক্ষর মনে রাখতে হবে। আপাতত মনে রাখুন একটু পরেই বিস্তারিত বলছি।

স্ট্রোক

জনাব সাইদুর রহমান(আসল নয়) সরকারী হাসপাতালের একাউন্টস ডিপার্টমেন্টের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা। বয়স ৫৫ এর কাছাকাছি ঘড়িতে তখন রাত ১০ টা খাওয়া দাওয়া শেষ করে টেলিভিশন দেখছেন হঠাৎ শরিরটা একটু ঝিমঝিম করে উঠলো আর চোখে যেন একটু অস্পষ্ট দেখতে পেলেন পাশেই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বড় ছেলে বাবার এমন অবস্থা দেখে সামান্য বিচলিত হয়ে কিছু বলতে গেলে বাবা বললেন কিছুনা একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে ছেলেটি তার বাবাকে বিশ্রাম থেকে আর উঠতে দেখিনি। রাতেই উনি মারা গেছেন। সবাই সকালে টের পেয়েছেন।

তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই স্ট্রোক হলেই যে মানুষ মারা যায় তা নয় অনেকের ঠাঁই হয় বিছানায়, সাহায্যহীন, ভরসাহীন মূমুর্ষূ অবস্থায়।। তবে সচেতন হলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে খুব সহজেই আপনি উদ্ধার হয়ে যেতে পারেন।একজন মস্তিষ্কবিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি একজন স্ট্রোকের শিকার রোগীকে স্ট্রোক হবার তিন ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নেয়া যায়, তবে তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়া সম্ভব। শুধু আমাদের জানতে হবে কিভাবে স্ট্রোক চেনা যায়, এবং কিভাবে রোগীকে উল্লেখ্য সময়ের মধ্যে মেডিকেল কেয়ারে নেয়া যায়।

যাই হোক আপনার যখনি সন্দেহ হবে আপনার পাশে থাকে কোন মানুষ স্ট্রোক করেছেন ঝটপট একটি গেইম খেলুন। গেইমটির নাম হল নকল। অর্থাৎ আপনি যা যা করবেন তাকেও তা হুবহু করে দেখাতে হবে। আপনার নিশ্চই STR এর কথা মনে আছে।

S দিয়ে যা এখানে বুজানো হয়েছে তা হলো smile। অর্থাৎ আপনি হাসতে থাকেন তাকেও বলুন হাসতে।
T দিয়ে হলো Talk। রোগীকে আপনার সাথে সাথে একটি বাক্য বলতে বলুন। উদাহরণঃ আমার নাম সাইদুর রহমান।
R দিয়ে হলো Raise hands অর্থাৎ আপনি আপনার দুইহাত উপরে তুলুন তাকেও তা করতে বলুন

এর কোন একটিতে যদি রোগী(যার স্ট্রোক হয়েছে বলে সন্দেহ করেছেন) পাস করে যায় মানে নকল করতে ব্যার্থ হয় তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে সব কিছু খুলে বলতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যে ভুলটি সবাই করে আপনি যদি তাই করেন তাহলে আপনাকেও বিপদে পরতে হবে সেটা হলো রোগীকে বুজতে দেয়া বা তৎক্ষণাৎ তাকে বলা যে আপনি তো স্ট্রোক করেছেন। ভালোভাবে খেয়াল করুন কোন ভাবেই রোগীকে বুজতে দেয়া যাবেনা যে আপনি বুজে ফেলেছেন তার স্ট্রোক হয়েছে। আপনার করণীয় হলো তার সাথে গেইম শেষ করে আড়ালে গিয়ে এম্বুলেন্স কে বা হাসপাতালে ফোন করুন যাতে তারা দ্রুত এম্বুলেন্স পাঁঠায়। ব্যস এম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকুন।

বিঃ দ্রঃ সনাক্তকরণের আরেকটি উপায় হচ্ছে, রোগীকে বলুন তার জিহবা বের করতে। যদি তা ভাঁজ হয়ে থাকে অথবা যদি তা বেঁকে যেকোনো একদিকে চলে যায়, সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। খ্যাতনামা হৃদবিশেষজ্ঞ বলেছেন, যদি আমরা সবাই-ই এই সহজ ব্যাপারগুলো জেনে রাখি, তবে আমরা একজনের হলেও জীবন বাঁচাতে পারবো।

আসুন নিজে সচেতন হই অন্যকেও উৎসাহিত করি।

Leave a Reply

Scroll To Top